কালিগঞ্জে বিএনপির সম্মেলনে ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ভোটার তালিকায়!
এস এম তাজুল হাসান (সাদ) সাতক্ষীরা থেকে
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত বিএনপির দ্বিবার্ষিক ওয়ার্ড সম্মেলনে ভোটার তালিকায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ আগস্ট) সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ৯টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
দুই ইউনিয়নে কৃষ্ণনগরে ১,২৯৯ এবং বিষ্ণুপুরে ১,৬৬০ জন সদস্য নবায়নের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এদের ভোটেই প্রতিটি ইউনিয়নের ১৮টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হচ্ছেন।
বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা অভিযোগ করেন, দলীয় গ্রুপিংয়ের সুযোগে অন্তত ২৫–৩০ শতাংশ ভোটারই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পরিচিত মুখ। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির সদস্য শফিউদ্দিন সবুজ বলেন, ‘৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের সাবেক সভাপতি ছিলেন, অথচ এখন বিএনপির ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’
এ বিষয়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চিহ্নিত সরকারদলীয় লোকজন বিএনপির সম্মেলনে প্রার্থী ও ভোটার হয়েছেন—এটা দলের জন্য লজ্জার।’
৫নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি পদ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী মুনসুর আলী অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান সাফিয়াও বিএনপির ভোট চাচ্ছেন—এটা কি আমাদের দলের জন্য স্বাভাবিক?’
বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা–কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমরা আত্মগোপনে ছিলাম। অথচ এখন যারা প্রতিপক্ষ দলে, তারাই ভোটার তালিকায় স্থান পাচ্ছে। এটি দলের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সার্চ কমিটির প্রধান তাজকিন আহম্মেদ চিশতি বলেন, ‘ভোটার তালিকায় অন্য দলের কেউ ঢুকেছে—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় নেতাদের মতে, ত্যাগী নেতা–কর্মীদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের জায়গা দেওয়া হলে তা দলের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।