সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। নিহতদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে একটি প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক, একাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবক। এই বেদনাদায়ক ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। তাদের সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের নির্দেশে এই প্রতিনিধি দলটি নিহতদের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে ও তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করতে পাঠানো হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহত ফাতেমা আক্তার, জারিফ ফারহান, আফনান ফাইয়াজ এবং ঝুমঝুম ইসলামের মা রজনি ইসলামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তারা।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলটি প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শুধু সহানুভূতিই নয়, প্রয়োজনে সক্রিয় সহায়তাও প্রদান করবে।
এছাড়াও, রোববার (২৭ জুলাই) কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মাহতাব রহমান ভূঁইয়ার সমাধিতে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়। সেখানে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিনিধি দলটি নিহত মাহতাব রহমান ভূঁইয়ার পরিবারের উদ্দেশে জানায়, বিমান বাহিনী সবসময় তাদের পাশে থাকবে এবং কোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে। শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়ে তারা সেই পরিবারের ভরসা অর্জন করে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বরাবরের মতোই আবারও প্রমাণ করেছে, শুধু দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তাই নয়, বরং দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্টেও তারা পাশে দাঁড়ায়। মানবিক দায়িত্ববোধের এই নিদর্শন দেশের সকলের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
দেশের এই কঠিন সময়ে যখন একটি দুর্ঘটনা পরিবারগুলোকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে, তখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনী হিসেবে বিমান বাহিনীর এমন আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেবল একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী নয় — বরং জনগণের সংকটে সর্বদা পাশে থাকা একটি মানবিক শক্তিও।