জামালপুরের বকশীগঞ্জে উলফাতুননেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আক্তার আলো ছয়তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায়চা ঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে,কি ঘটেছিল সেদিন ছাঁদে,মেয়েটে কেন এই চরম সিদ্ধান্ত নিল, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কি কোনও নির্যাতন, মানসিক চাপ বা অপমান ছিল যার কারণে সে এমন করলো নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গুরুতর আহত সাথী বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি এবং সে এখনো কথা বলতে পারছে না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর মোহম্মদকে ঘিরে এমন প্রশ্ন উঠেছে। সাথীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার চাচা মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নূর মোহম্মদ সাথীকে মানসিকভাবে চাপ দিতেন এবং তার অভিভাবককে স্কুলে নিয়ে আসতে বলতেন। ঘটনার দিন তিনি সাথীকে সবার সামনে অপমান করেন এবং অভিভাবককে না আনার জন্য সাথীর উপর চাপ সৃষ্টি করেন।
সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের সময় সাথীসহ অন্যান্য ছাত্রীরা একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে তারা মসজিদে নূরে ঘুরতে গেলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক নূর মোহম্মদের সঙ্গে দেখা হয়। এই ঘটনার পর থেকে নূর মোহম্মদ সাথীকে সতর্ক করেন। প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বদলি হওয়ার পর নূর মোহম্মদ দায়িত্ব নেন এবং সাথীর প্রতি তার আচরণ পরিবর্তিত হয়।
সাথীর সহপাঠী ও কয়েকজন শিক্ষকের মতে, ঘটনাটি ঘটে যখন নূর মোহম্মদ সাথীকে তার অভিভাবককে আনার জন্য চাপ দেন এবং সাথীকে টিসি দেওয়ার হুমকি দেন। এই চাপের ফলে সাথী প্রথমে নিজের হাত কাটে এবং পরবর্তীতে ছয়তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক ফজলুল হক জানান, সাথী খেলাধুলায় ভালো ছিল এবং সে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কাবাডি খেলেছে। ঘটনার দিন তাকে কাবাডি টিমের লিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। এটি তার মানসিক অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তনকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
সাথীর বড় বোন আশরাফুন নাহার আখি বলেন, প্রধান শিক্ষকের ধারাবাহিক মানসিক চাপই তার বোনকে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন প্রধান শিক্ষক বারবার একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে চাপ দিচ্ছিলেন।
অপরদিকে, প্রধান শিক্ষক নূর মোহম্মদ বলেন, ছাত্রীরা ভূমি অফিসে না যাওয়ায় তিনি সাথীর অভিভাবককে আসার জন্য বলেছিলেন। তিনি জানান, সাথী আত্মহত্যার চেষ্টা করার পরেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহাম্মেদ জানান, এই ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীল আচরণ সম্পর্কে সমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সমাজের সকল স্তরে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।