দগ্ধ আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক: ডা. নাসির উদ্দীন | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দগ্ধ আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক: ডা. নাসির উদ্দীন

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দগ্ধ আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক: ডা. নাসির উদ্দীন
দগ্ধ আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক: ডা. নাসির উদ্দীন
ছবি: সংগৃহীত
Eight burn victims from the Uttara plane crash remain in critical condition, according to Burn Institute officials. Death toll rises to 11 after another patient dies on Tuesday night.

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা ‘ক্রিটিকাল’ বলে জানিয়েছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক। সর্বশেষ মারা গেছেন আরও একজন, মোট মৃত্যু ১১ জন।

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে আটজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বা ‘ক্রিটিকাল’ বলে জানিয়েছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন। তিনি বুধবার (২৩ জুলাই) বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, এই মুহূর্তে ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন মোট ৪৪ জন রোগী। এর মধ্যে ৩৭ জনই শিশু। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা ‘সিভিয়ার’ এবং ২৩ জন রয়েছেন ‘ইন্টারমিডিয়েট’ ক্যাটাগরিতে।

চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, শেষ ধাপের রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। রোগীদের সার্বিক অবস্থা ঘনঘন পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে আগত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত টিম এই রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডা. নাসির উদ্দীন আরও জানান, প্রতি ঘণ্টায় রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবস্থার উন্নতি হলে রোগীকে ‘ক্রিটিকাল’ থেকে ‘সিভিয়ার’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। একইভাবে, কারও অবস্থার অবনতি হলে তাকে ‘সিভিয়ার’ থেকে ‘ক্রিটিকাল’ ক্যাটাগরিতে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই ধরনের বার্ন কেসে প্রতি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস, ইনফেকশন, রক্তচাপ— সব কিছু আমাদের নজরে রাখতে হচ্ছে। আমরা কোনো ভুল করতে চাই না।”

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন মারা গেছেন বলে জানান বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক। সর্বশেষ মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে।

উল্লেখ্য, উত্তরা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই বিমান দুর্ঘটনাটি দেশব্যাপী চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দগ্ধ রোগীদের বড় অংশ শিশু হওয়ায় চিকিৎসা অনেক বেশি সতর্কতা ও অভিজ্ঞতার দাবি রাখে।

চিকিৎসকরা জানান, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা দগ্ধদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ের মধ্যে শরীরে ইনফেকশন, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষয় অনেক রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. নাসির বলেন, “আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি এবং আন্তর্জাতিক গাইডলাইনের আলোকে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ইউনিট করা হয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে সেবা দেওয়া যায়।”

সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দগ্ধদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator