নেত্রকোনায় ৫৯৯ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রাথমিক… | আই নিউজ বিডি

নেত্রকোনায় ৫৯৯ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত..

Bijoy Chandra Das avatar   
Bijoy Chandra Das
নেত্রকোনায় ৫৯৯ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত..
নেত্রকোনায় ৫৯৯ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনা জেলার ১০ উপজেলার ৫৯৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় এসব বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।ফলে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদা..

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১০টি উপজেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসবে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ আছে ১ হাজার ৩১৩টি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট কর্মরত আছেন ৭১৪ জন প্রধান শিক্ষক।

 

বাকি ৫৯৯টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে কার্যক্রম। জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এরমধ্যে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬২৫ জন ছাত্রী রয়েছে। ওইসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলে কর্মরত আছেন ৭ হাজার ৩৬০ জন। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৬ হাজার ৯২০টি। ওই পদে শূন্য আছে ২৭৪ টি পদ। 

 

অপরদিকে,এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ৪৬টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এইউইও) পদ রয়েছে। কর্মরত আছেন ২২ জন এইউইও। ওই পদগুলো গত দুই থেকে সাত বছর ধরে শূন্য।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় আরো জানায়,১০ উপজেলার মধ্যে সীমান্তে কলমাকান্দা উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ১৭২টি পদের মধ্যে ১৩৩টি, দুর্গাপুর ১২৬টির মধ্যে ৩৬টি, আটপাড়া ১০৩টির মধ্যে ৫৯টি, কেন্দুয়া ১৮২টির মধ্যে ৫৮টি, সদরে ২০১টির মধ্যে ৫৭টি, বারহাট্টায় ১০৯টির মধ্যে ৫০টি, পূর্বধলায় ১৭৫টির মধ্যে ৯৮টি, মদনে ৯৩টির মধ্যে ৩৮, মোহনগঞ্জ ৮৯টির মধ্যে ৪১টি এবং খালিয়াজুরিতে ৬৩টির মধ্যে ২৯টি পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে কার্যক্রম।

 

 

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউএপিইও) আটপাড়ায় ৪টির মধ্যে ২টি, কেন্দুয়ায় ৭টির মধ্যে ৪টি, কলমাকান্দায় ৫টির মধ্যে ৩টি, দুর্গাপুরে ৪টির মধ্যে ৩টি, সদরে ৭টির মধ্যে ৪টি, পূর্বধলায় ৬টির মধ্যে ৩টি, মদনে ৩টির মধ্যে ২টি, মোহনগঞ্জে ৪টির মধ্যে ২টি এবং খালিয়াজুরিতে ২টির মধ্যে ১টি এই ২৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিতে একসঙ্গে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁদের। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে অনেককে বেশ বেগ পেতে হয়। একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলো অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। 

 

সদর উপজেলার শালদিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর জানান, তার বিদ্যালয়ে ১৯২ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। শিক্ষক আছে চারজন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য প্রায় এক বছর ধরে। পাঠদানের পাশাপাশি অফিসের কাজসহ তাঁকে সব কিছু সামলাতে হচ্ছে। এতে অনেকটা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

 

 

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ৫৯৯টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ২৭৪ জন সহকারী শিক্ষক ও বিভিন্ন উপজেলায় ২২৪ জন এইউইওর পদ শূন্যসহ শিক্ষা কার্যালয়েও বেশ কিছু পদ শূন্য আছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়োগ হলে সমস্যাঅনেকটাই নিরসন হবে।

 

 

 

No se encontraron comentarios


News Card Generator