জামালপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক নারী মোছাঃ সুজেদা (৩৮) তিনি মেলান্দহ উপজেলার রায়ের বাকাই এলাকার মোঃ বেলাল হোসেনের স্ত্রী।
এঘটনায় পলাতক দুই আসামি হলেন, আটক নারী সুজেদার স্বামী বেলাল ও তাঁর দেবর মো. দুলাল ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে মেলান্দহ থানার মানকী বাজার মোড় এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে ৭৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে মেলান্দহ থানার মানকী বাজার মোড় এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। খবর ছিল যে, রায়ের বাকাই এলাকার একটি কৃষি জমির পাশে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ গাঁজা লেনদেনের জন্য অবস্থান করছে।
ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ এহসানুল হকের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন পুরুষ পালিয়ে গেলেও নারী কনস্টেবল খাদিজা খাতুনের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মোছাঃ সুজেদাকে আটক করা হয়। আটকের পর সুজেদার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৪টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে স্কচটেপে মোড়ানো মোট ২৮টি গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে দেখা যায়, গাঁজার মোট ওজন ৭৪ কেজি।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ নাজমুস সাকিব জানান, "আমাদের টিম মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়মিত তৎপর রয়েছে। এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে জামালপুর জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএম এ বিষয়ে বলেন, "মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার এ চক্র ভাঙতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, "জেলা গোয়েন্দা শাখার এই সফল অভিযান জামালপুর জেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।" গ্রেপ্তারকৃত নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।