এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা, আশুলিয়ার কেন্দ্রপ্রধান বরখাস্ত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা, আশুলিয়ার কেন্দ্রপ্রধান বরখাস্ত..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা, আশুলিয়ার কেন্দ্রপ্রধান বরখাস্ত..
এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা, আশুলিয়ার কেন্দ্রপ্রধান বরখাস্ত..
ছবি: সংগৃহীত
Due to severe negligence in HSC exam duties, the Ashulia college principal has been removed. The institution registered 186 students for unapproved subjects.

আশুলিয়ার একটি কলেজ অনুমোদনহীন বিষয়ের ফরম পূরণ করে ১৮৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলে। বোর্ড বরখাস্ত করেছে কেন্দ্রপ্রধানকে।

সাভারের আশুলিয়ার একটি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বে চরম গাফিলতির অভিযোগে কেন্দ্রপ্রধানকে বরখাস্ত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিয়মের এ ঘটনায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

১৫ জুলাই, মঙ্গলবার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক সরকারি স্মারকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই স্মারকে বলা হয়, সাভার উপজেলার ‘আশুলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ (কেন্দ্র-সাভার-৫, কেন্দ্র কোড-১৪৭)–এর কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রপ্রধানকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তার স্থলে একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাফিজ উল্লাহকে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই বরখাস্তের পেছনে রয়েছে ভয়াবহ এক অনিয়মের অভিযোগ। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বোর্ডের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সমাজকর্ম, পরিসংখ্যান ও ভূগোল—এই তিনটি বিষয়ের জন্য ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে। অথচ এই বিষয়ের পাঠদানে বোর্ডের অনুমোদন ছিল না। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের সময় এই বিষয়গুলো রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয় এবং পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে। কিন্তু বিষয় পরিবর্তন বা অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো তৎপরতা চালায়নি।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষার প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে, ৯ জুলাই মৌখিকভাবে বোর্ডে যোগাযোগ করে বিষয় পরিবর্তনের অনুরোধ করে। অথচ ততদিনে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে কেন্দ্রগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে কোনো সংশোধন সম্ভব হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমন গাফিলতির দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আশুলিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষের। প্রতিষ্ঠানটির এমন দায়িত্বহীন আচরণ শুধুমাত্র নিয়ম লঙ্ঘন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার নামান্তর।

চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখন বোর্ড প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দিয়েছে, তখন বিষয় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। এটা বোর্ডের ব্যর্থতা নয়, এটা কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম যেন না ঘটে, সে জন্যই কেন্দ্রপ্রধানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এসব গাফিলতি প্রশ্রয় পেলে ভবিষ্যতে অনিয়মই নিয়ম হয়ে উঠবে।

বোর্ড আরও জানিয়েছে, আশুলিয়া কলেজের মতো একই ধরনের অনিয়ম আরও ছয়টি কলেজেও ঘটেছে। তবে সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম—মোট ২২ জন। বিপরীতে, আশুলিয়া কলেজে একাই অনিয়মের শিকার হয়েছে ১৮৬ জন শিক্ষার্থী।

এ ঘটনা প্রমাণ করে, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলতার বদলে অব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

 

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator