বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে। “জনতার সামনে” নামের আলোচিত সেই অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পর কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৭ জুন রাত ৯টায় সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে সরকারবিরোধী ও বিতর্কিত বিষয়বস্তু উপস্থাপন করায় বিটিভির প্রযোজক (গ্রেড-১) মো. নাসির উদ্দিন এবং প্রগ্রাম ম্যানেজার সাহরিয়ার মোহাম্মদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে বার্তা পরিচালক নুরুল আজম এবং অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রযোজক নাসির উদ্দিন অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করার পর নিজেই তা প্রচারোপযোগী হিসেবে সার্টিফাই করেন এবং সেই ভিত্তিতে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়।
কিন্তু “জনতার সামনে” অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু সরকারবিরোধী ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায়, তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০২৮ এর ৩(ক) ও ৩(খ) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে, বিধিমালার ১২(১) ধারায় নাসির উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন বলে জানানো হয়।
একই ঘটনার জের ধরে আলাদা আরেকটি আদেশে প্রগ্রাম ম্যানেজার সাহরিয়ার মোহাম্মদ হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তিনি অনুষ্ঠানটি প্রচারের আগে প্রিভিউ করলেও কোনো মতামত বা সতর্কতা না জানিয়ে সেটি প্রচারের অনুমোদন দেন। এটি দায়িত্বে গাফিলতি ও অসতর্কতা হিসেবে গণ্য করে তার বিরুদ্ধেও একই বিধির আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানটির প্রচারে সহায়তা বা অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত বার্তা পরিচালক নুরুল আজম এবং অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। তাদেরকে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্ত সরকারের তথ্য সম্প্রচারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রচার প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, “জনতার সামনে” অনুষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হলেও এবারের পর্বে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা এবং সমালোচনার জায়গা তৈরি হয়েছিল, যা উচ্চ পর্যায়ে অসন্তোষের জন্ম দেয়। এর ফলেই দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।