সাতক্ষীরা একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় জেলা। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিচারে এ জেলার জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বছরের পর বছর ধরে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে যে স্থবিরতা ও অবহেলা চলছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
শুক্রবার জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিশিষ্টজনেরা জেলার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ও সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও বন্দরের কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্থলবন্দরের প্রতিশ্রুতি বহুবার দেওয়া হলেও তা আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
এ ছাড়া নাভারণ-মুন্সিগঞ্জ রেললাইন প্রকল্প, সাতক্ষীরা-আশাশুনি বাইপাস সড়ক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিশেষভাবে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা—বিশেষ করে কলেজ রোড ও আশপাশের এলাকার দুর্দশা—পরিকল্পনার ঘাটতি ও অদূরদর্শিতার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এসব প্রকল্পে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা ও অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর গাফিলতি, উদাসীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা প্রকল্প বাস্তবায়নকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার উন্নয়ন নিয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা ভাঙতে হলে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও দায়িত্বশীল, তৎপর এবং স্বচ্ছ হতে হবে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা এবং নিয়মিত তদারকি।
জেলা নাগরিক কমিটির ২১ দফা দাবি ও নাগরিক সমাজের উদ্বেগকে সম্মান জানিয়ে সরকারের উচিত অবিলম্বে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। সাতক্ষীরার উন্নয়ন শুধু এখানকার মানুষের অধিকার নয়, এটি জাতীয় অগ্রগতিরও অপরিহার্য অংশ।