নেত্রকোনায় কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা নিম্ন আয়ের… | আই নিউজ বিডি

নেত্রকোনায় কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা নিম্ন আয়ের ক্রেতারা..

Bijoy Chandra Das avatar   
Bijoy Chandra Das
নেত্রকোনায় কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা নিম্ন আয়ের ক্রেতারা..
নেত্রকোনায় কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা নিম্ন আয়ের ক্রেতারা..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনায় বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে কাঁচা মরিচের মূল্য। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। সরকারি মনিটরিং দাবি তাদের।..

নেত্রকোনা জেলা শহরের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি দরে মরিচ কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই। তাই কেউ ১০ টাকার, কেউ ২০ টাকার মরিচ কিনে ঘরে ফিরছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে মরিচ তোলা যাচ্ছে না, এতে সরবরাহ কম। অনেক ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। মরিচের সরবরাহ এতে কমে গেছে, এজন্য চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

 

জেলার শহরের মোক্তারপাড়া রোডে গিয়ে দেখা গেছে, ফুটপাতের দোকানে অন্যান্য শাকসবজির দামও গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। কাঁচা মরিচের পাশাপাশি লাল শাকের দামও লাফিয়ে বাড়ছে। এক বিক্রেতা বলেন, ‘লাল শাকের খেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই সরবরাহ কম এবং দাম বেশি। লাল শাকের কেজি ৫০- ৬০ টাকা।

 

 

সুপার মার্কেটের বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান,কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দোকানে মরিচ অবিক্রীত থাকছে। ফলে বিক্রেতারাও ক্ষতিতে পড়েছেন। স্থানীয় অপর এক বিক্রেতা বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে ২৫০ টাকার ওপরে মরিচ কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে কমে বিক্রি করা সম্ভব নয়।’

 

জেলার একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করছেন, টানা বৃষ্টিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী মরিচ মজুত করেছেন। এতে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম হু হু করে বেড়েছে।

 

সুপার মার্কেটের এক ক্রেতা ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এ বাজার থেকেই ৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কিনেছি। আজ কিনতে হলো ২৫০ টাকায়। এটা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির দোহাই দিচ্ছেন। কিন্তু আমি মনে করি, তারা ইচ্ছে করেই দাম বাড়াচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের উচিত কাঁচা বাজারে নজরদারি বাড়ানো।’

 

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মরিচ তোলা, পরিবহন সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৃষ্টি শেষ হলে দাম আবার কমে আসবে। আপাতত সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেশি।’

 

জেলা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, ‘প্রাকৃতিক কারণে যদি সরবরাহ কমে, তাহলে কিছুটা দাম বাড়া স্বাভাবিক। তবে কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

জেলার বাজারগুলোতে এখন মরিচের সঙ্গে সঙ্গে অন্য শাকসবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা দৈনিক আয় দিয়ে খরচ চালান। জেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছাড়া এ বাজারে স্থিতি ফিরবে না বলে মত দিয়েছেন অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতা। 

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator