জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বললেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্বাচন সম্ভব।” বিভিন্ন ইস্যুতে তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা। একদিকে বিরোধী দলের আন্দোলন ও দাবি, অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এই পটভূমিতে রবিবার (১৩ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা নির্বাচন আয়োজন করতে পারব। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে মব বা দলবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হলেও কমিশন দায়িত্ব পালনে দৃঢ়। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন সিইসি নাসির উদ্দিন। জবাবে তিনি বলেন,
“আমি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছি। কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং আমাদের কোনো পক্ষ নেই।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত। কমিশন প্রস্তুত রয়েছে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।
সাক্ষাৎকারে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ‘শাপলা ফুল’ প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত। সিইসি এ বিষয়ে বলেন,
“শাপলা প্রতীকটি ইতোমধ্যে নিবন্ধিত অন্য একটি দলের জন্য বরাদ্দ। একই প্রতীক একাধিক দলকে দেওয়া আইনসম্মত নয়। আমরা নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ নিয়ে এনসিপি নেতারা আপত্তি জানালেও কমিশন নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচন অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো স্পষ্টতা আসেনি। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা বা আইনি জটিলতার কারণে তাদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সিইসি বলেন,
“প্রত্যেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে তারা যদি কোনো কারণে অংশ না নেয়, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কমিশনের কাজ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।”
তিনি জানান, “ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, ইভিএমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও কারিগরি সহায়তা—সব কিছুতেই আমরা অগ্রগতি করছি।”
সিইসি দৃঢ়তার সাথে বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, আমরা নির্বাচন আয়োজন করতে পারব। একটুও পিছিয়ে যাব না।”