সরেজমিনে দেখা গেছে, শহর জুড়ে একদিকে যেমন সড়কের পাশে দোকান বসে প্রতিদিন। অপরদিকে শহরের কাইলাটি, জজকোট সড়ক, জয়ের বাজার, ছোট বাজার, তেরি বাজার, থানার মোড়, রেলক্রসিং ইত্যাদি স্থানে যত্রতত্র ভ্যান পার্কিং করছে চালকরা। ফুটপাতে অসংখ্য ভাসমান ফল ও কাপড়ের দোকান বসে। এতে রাস্তার যানজটে সাধারণ পথচারী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যার কারণে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের বাধ্য হয়ে ফুটপাতে সড়কের পাশে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সবসময় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি পর্যন্ত। দোকানপাট উচ্ছেদে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পৌর শহরের কেন্দ্রস্থল মোক্তার পাড়া সড়কে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল, হলি চাইল্ড কিন্ডার গার্টেন, সিটি কলেজসহ বেশ কিছু কোচিং সেন্টারও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীদের সকালে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও বিকালে ছুটির পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসায় ফিরতে হয়।
মোক্তার পাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানের সামনে কাঁচা বাজার নিয়ে বসে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন। যা নিজেদের ব্যবসার বিঘ্ন ঘটছে বলে মনে করেন। ঠিক সময়ে আসতে পারেন না। জনগণ নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। আইন অমান্য করে এরকম দোকানদারি ও অবৈধ পার্কিং বসলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা করে কী লাভ হয়েছে!
তিনি আরও বলেন , সড়কের পাশে প্রতিদিন দোকানদার কে কীভাবে এসে বসে সে ব্যাপারে কিছু জানি না। তবে তারা বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাঁচা সবজি বিক্রি করে প্রতিনিয়ত। পৌর মেয়র বা প্রশাসন কেউ কিছু বলেন না। তাদের চোখের সামনে এগুলো হচ্ছে দেখেও না দেখার ভান করে।তাই তারা এখন কিছু বলতে পারেন না ।
এদিকে জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন কাজলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, পৌর শহরের প্রতিটি রাস্তার পাশে থাকা দোকান সরিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। তারা আবার এসে বসে। আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এখন জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার মেয়র উনারা যদি কোনো পদক্ষেপ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করেন তাহলে যানজট দূর করা সম্ভব হবে না।
পৌরসভার কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অতীতে প্রধান সড়ক থেকে দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার তারা সড়কে দোকান বসিয়ে ঝামেলা করছে। আমি ট্রাফিক ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্ৰহণ করছি। সকলের সহযোগিতা পেলে যানজট নিরসন করা সম্ভব।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেছেন, শহরের বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে, এজন্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাতে দোকান এ বিষয়ে আমি মেয়র ও ট্রাফিকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়কে অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধে অবশ্যই উদ্যোগ নেওয়া হবে।