টানা ২১ দিনের রিমান্ড শেষে আজ জেলহাজতে পাঠানো হলো কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলমকে। চকরিয়া ও পেকুয়ার একাধিক মামলায় আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
টানা ২১ দিনের রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমকে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুল কবিরের আদালতে হাজির করা হলে আদালত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) গোলাম সরওয়ার জানান, জাফর আলমকে ১৮ জুন চকরিয়া থানার পাঁচটি মামলায় ১৪ দিন এবং পরে পেকুয়া থানার তিনটি মামলায় ৭ দিন রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দীর্ঘ ২১ দিনের রিমান্ড শেষে আজ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চকরিয়া আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাফর আলমকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে চকরিয়া আদালতে আনা হয়। আদালত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলম ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ছিলেন এবং ২০১৪ সালে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন।
তবে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং পরাজিত হন। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সহিংসতার অভিযোগ ওঠে।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকার ধানমন্ডি থেকে ডিবি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তখন থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চকরিয়া ও পেকুয়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল, সরকারি কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি এবং সহিংস কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
একটি মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নির্দেশে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা হয়েছে। অন্য একটি মামলায় সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় কক্সবাজার এবং চকরিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ভেতরে ও বাইরে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে, আবার অনেকে বলছেন, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের স্বাভাবিক পদক্ষেপ।
জাফর আলমের পরিবার এখনও গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেনি। তবে তাঁর আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন জাফর আলম কারাগারে থাকবেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে। তবে তাঁর আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করবেন বলে জানান।
দেশজুড়ে এই ঘটনাটি এক নতুন রাজনৈতিক মোড় তৈরি করেছে, বিশেষ করে এমন একজন নেতার বিরুদ্ধে যিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বে প্রভাবশালী অবস্থানেও ছিলেন।