প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমছে। খাদ্য ও খাদ্য-বহির্ভুত পণ্যের দাম হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত পদক্ষেপের সুফল এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতির হার দ্রুতগতিতে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
সোমবার দুপুরে তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সুচিন্তিত নীতি-কৌশলের ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমছে। চলতি বছরের জুন মাসের তথ্য অনুযায়ী পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি এখন ৮.৪৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় দুই শতাংশ পয়েন্ট কম।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে ৭.৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে, যা আগামী দিনে আরও দ্রুত কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ—যেমন আমদানি শুল্ক হ্রাস, সরবরাহ চেইন মনিটরিং, মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান, এবং তদারকি বাড়ানো—এই মূল্যস্ফীতি কমাতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা আসছে।
এমন এক সময় এই স্বস্তির খবর এলো যখন কয়েক মাস আগেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বিরোধী পক্ষ মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে সরকারকে একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ করছিল। তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবতা এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচবে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে শফিকুল আলম বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশে একটি স্থিতিশীল আর্থিক কাঠামো তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।