জুলাই আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী নবজাগরণের সূচনা: ছাত্রশিবির সভাপতি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জুলাই আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী নবজাগরণের সূচনা: ছাত্রশিবির সভাপতি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জুলাই আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী নবজাগরণের সূচনা: ছাত্রশিবির সভাপতি..
জুলাই আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী নবজাগরণের সূচনা: ছাত্রশিবির সভাপতি..
ছবি: সংগৃহীত
According to Shibir president Zahidul Islam, the July 2024 uprising was not just a movement, but a historic explosion of national awakening against fascism in Bangladesh’s history.

বাংলাদেশ ই..

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নবজাগরণের বিস্ফোরণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি আন্দোলন ছিল না—এটি ছিল এক ঐতিহাসিক সূচনা। ফ্যাসিবাদ ও একদলীয় কর্তৃত্বের শিকড় উৎপাটনের জন্য এই আন্দোলন ছিল অগ্রণী ধাপ।

এই আন্দোলনে ছাত্রশিবির কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় কৃতিত্ব দাবি করছে না। বরং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেছি। মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন আল্লাহ, এবং মূল শক্তি ছিল দেশের ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, চাকরিজীবী, প্রবাসী, নারী ও শিশু সহ আপামর জনসাধারণ।”

তিনি সম্প্রতি রংপুর সফরকালে ১০-১২টি শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই উঠে আসে একটি আবেগময় প্রশ্ন—জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র এখনও কেন প্রকাশ হয়নি? তিনি বলেন, “এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আমার কাছে ছিল না। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই এবং লজ্জিতভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হই।

আন্দোলনের সময় সরকার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, গণগ্রেপ্তার ও ব্লক রেট চালু করে। এ সময় ছাত্রশিবির বিকল্প কৌশল নেয়। শিবির সভাপতি জানান, “আমরা স্পট এবং দায়িত্ব ঠিক করে দিয়েছিলাম। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় জনশক্তি ও সাধারণ ছাত্রদের সমন্বয়ে আন্দোলন পরিচালিত হয়।”

তিনি আরও বলেন, “নারীরা এই আন্দোলনে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকার উত্তরা, যাত্রাবাড়ি সহ অনেক স্পটে তারা ভাইদের রক্ষা করেছেন। অনেক নারী শহীদ হয়েছেন। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করেছে।

জাহিদুল ইসলাম স্মরণ করেন কিছু সাহসী শহীদের নাম—রাজশাহীর আলী রায়হান, চট্টগ্রামের ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং আবু সাঈদ। “এই ভাইদের শাহাদাত কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। অনেক ভাই এখনো আহত, অনেকের চোখ আর কখনও ফিরে আসবে না, অনেকেই কৃত্রিম পা নিয়ে বেঁচে আছেন। এই ত্যাগ জাতির কাছে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

তিনি অভিযোগ করেন, “অতীতে ছাত্রশিবিরের তৎপরতা গণমাধ্যমে সেভাবে উঠে আসেনি, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করে। আমাদের কার্যক্রম সবসময়ই সচল ছিল, নীরব কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন।

তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনের সময় বলেছিলাম—দলীয় ব্যানার নয়, আমরা সবাই মাজলুম। আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও, আন্দোলনের একতাই ছিল আমাদের শক্তি।

আলোচনার শেষ দিকে তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “যে রক্তের ওপর দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই শাহাদাতের স্বীকৃতি দিতে হবে। আহত, নির্যাতিত, শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই বিপ্লব শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও বয়ে আনবে।

এই বক্তব্যে পরিষ্কার, জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মৌলিক পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে—যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী জনআন্দোলন নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator