রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন সরব হলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে তিনি বলেন, একজন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বাড়ির সামনে মব দাঁড় করিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া — এটা কোন সংস্কৃতি?
তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কোন অপরাধী যদি থেকে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার করুন। কিন্তু এইভাবে জনগণকে উস্কে দিয়ে বিচার বহির্ভূত চাপ তৈরি করা কোন সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।
সেমিনারের মূল আলোচ্য ছিল: সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫: কতটুকু সুরক্ষা দেয়?” সেখানে মান্না বলেন, এই অধ্যাদেশ আসলে নিরাপত্তা নয়, এক ধরনের নিপীড়নের হাতিয়ার। বিশেষ করে ৩৫ ধারায় পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটা কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চলতে পারে?
তিনি আরও বলেন, সরকার দাবি করছে ধারা সংকুচিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে পুলিশ সীমাবদ্ধ মানে না। এমনকি কোনো আইন ছাড়াও তারা কাজ করে থাকে। তাহলে এই আইনের প্রয়োজনটাই বা কী?
মান্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সরকার গণতন্ত্রের কথা বলে, অথচ তাদের শাসনামলে বিরোধী নেতাদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে, হয়রানি চলছে। সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদের বাড়িতেও হামলা হয়েছে। এভাবে বাড়ি ভাঙা আর থানা ঘেরাও করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া — এই সরকারের ব্যর্থতার চরম প্রকাশ।
সেমিনারে উপস্থিত নেতারা আরও জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনের অস্পষ্টতা জনসাধারণের ওপর নিপীড়নের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে, নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তার বদলে মত প্রকাশের স্বাধীনতাই হুমকির মুখে।
নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার মূল বক্তব্যে বলেন, এই আইন স্বাধীন মতপ্রকাশ রোধে ব্যবহার হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করলে যেকোনো নাগরিকই এখন অপরাধী হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন:
-
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ
-
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান
-
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া
-
নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার
-
এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রধান সমন্বয়ক আকরাম হুসাইন
তাঁরা সবাই সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী রাজনীতিকে দমন করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের লজ্জাজনক দিক।
সেমিনারের বক্তব্যগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে — দেশে এখন স্বাধীন মতপ্রকাশ, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র তিনটিই চরম সংকটে। মান্না যে প্রশ্ন তুলেছেন — এটা কোন সংস্কৃতি? — সেটি এখন শুধু তার একার নয়, গোটা দেশের বহু মানুষের প্রশ্ন।