বকশীগঞ্জে ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, সংযোগ সড়ক মেরামতের আশ্বাস.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বকশীগঞ্জে ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, সংযোগ সড়ক মেরামতের আশ্বাস..

Ratan Entiser avatar   
Ratan Entiser
বকশীগঞ্জে  ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, সংযোগ সড়ক মেরামতের আশ্বাস..
বকশীগঞ্জে  ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, সংযোগ সড়ক মেরামতের আশ্বাস..
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের সাধুরপাড়া ইউনিয়নে ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই প্রধান চলাচলের মাধ্যম, সংযোগ সড়ক মেরামতের আশ্বাস মিলেছে।

















..

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের খেতারচর এলাকায় গত ৯ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই স্থানীয় জনগণের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় শিঙিডোবা নদীর সংযোগ খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটির এক পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে, যা এখনও মেরামত করা হয়নি। এই সমস্যার কারণে খানপাড়া, মোল্লাপাড়া, থাঠারুপাড়া, মসজিদপাড়া, উত্তর ধাতুয়াকান্দা, দক্ষিণ ধাতুয়াকান্দা, ঝালুরচর পশ্চিমপাড়াসহ আশপাশের দশ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন।

প্রতিদিন হাজারো মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা, কৃষক ও শ্রমিকরা এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব কছর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা, সাধুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও যেতে হয় এই পথ দিয়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটির এক পাশ প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দিনের বেলা কোনোমতে চলা গেলেও রাতে পারাপার করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো মুহূর্তে সাঁকো ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ধাতুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, 'দীর্ঘ ৯ বছরেও এই ব্রিজের সংযোগ সড়কটি মেরামত না করাটা চরম অবহেলা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।' শিক্ষার্থী আশা মনি জানান, 'পড়াশোনার জন্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে ব্রিজে উঠতে খুব ভয় করে। কিন্তু উপায় নেই, ভয়কে জয় করেই যেতে হয়।'

এ বিষয়ে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরেই কাজটি শুরু হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, 'জনচলাচলের সুবিধার্থে আপাতত টিআর প্রকল্পের আওতায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় আকারের একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। আশা করি, দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে।'

উল্লেখযোগ্য যে, এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের দুর্ভোগ লাঘবের প্রত্যাশা করছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা এলাকাবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator