সোনারগাঁয়ে ঈদগাহের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে  মানববন্ধন..

SM Mithu avatar   
SM Mithu
সোনারগাঁয়ে ঈদগাহের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে  মানববন্ধন..
সোনারগাঁয়ে ঈদগাহের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে  মানববন্ধন..
ছবি: সংগৃহীত

****

 

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী আল-মানার ঈদগাহের ৩৬ শতাংশ জমি অবৈধ দখল, লিজ ও নানা ধরনের চক্রান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। ঈদগাহের জমি ভূমিদস্যু, দালাল ও প্রভাবশালী মহলের আগ্রাসন থেকে রক্ষা এবং সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী বন্দোবস্তের দাবিতে এ কর্মসূচিতে ১২ গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে মামরকপুর, আনন্দবাজার, মোবারকপুর, দক্ষিণ খংসারদী, টেঙ্গারচর, উত্তর খংসারদী, বসনদরদী, মোল্লাবাড়ী ও নগরপুরসহ আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুগের পর যুগ ধরে ওই স্থানে এলাকার মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। এটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল ঈদগাহের জমি দখল ও অন্যের নামে লিজ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঈদগাহ কমিটির সহ-সভাপতি মোতালেব প্রধান বলেন, “অতীতে জায়গাটি সাত্তার সাহেব ভোগ করতেন। তাকে বলার পর তিনি আর লিজ নেননি। জায়গাটি নিচু ও গর্ত থাকায় এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ভরাট করেছেন। পরবর্তীতে কিছু খালি জায়গা দেখে বাইরের একটি চক্র তা লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করে। অথচ এখানে ইতোমধ্যে ১২টি গ্রামের মানুষ দুই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে জানানো হলে তিনি ঈদগাহ করার অনুমতি দেন এবং সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে বলেন। পরে ভূমি অফিসের কানুনগো ও নায়েব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঈদগাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। জনগণের স্বার্থে এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল হোসেন বলেন, “কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, ১২টি গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বার্থেই আমরা এই জমি চাই। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রক্ষায় সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা আউলাদ মিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “১০-১২টি সমাজের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে এই স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে ঈদগাহ কমিটির সভাপতি হাজী আফতাব উদ্দিন মোল্লা, সহ-সভাপতি মোতালেব প্রধান, ক্যাশিয়ার গাজী মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক গাজী আনিসুল, সহ-সভাপতি গাজী শামসু, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল, নূরে ইয়াসিন নোবেল, আউলাদ হোসেন, আক্তার মোল্লা, মালেক, গাজী, খাইরুল, কাশেম আলী, লেয়াকত আলী ও মাওলানা হাফেজ উসমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে এলাকাবাসী আল-মানার ঈদগাহের ৩৬ শতাংশ জমি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ কিংবা বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করে জমিটি ঈদগাহের নামে স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator