লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। দেশীয় অস্ত্র , প্রাইভেটকার সহ বিপুল সরঞ্জামাদি উদ্ধার..

Munim Hossain Khandker Protik avatar   
Munim Hossain Khandker Protik
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। দেশীয় অস্ত্র , প্রাইভেটকার সহ বিপুল সরঞ্জামাদি উদ্ধার..
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। দেশীয় অস্ত্র , প্রাইভেটকার সহ বিপুল সরঞ্জামাদি উদ্ধার..
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোরে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী মৌজায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের..

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। দেশীয় অস্ত্র , প্রাইভেটকার সহ বিপুল সরঞ্জামাদি উদ্ধার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোরে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী মৌজায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা প্রাইভেটকার, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের গ্রে'প্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- রংপুরের কোতয়ালী থানার রামপুরা এলাকার প্রাইভেটকারচালক মো. মাসুদ পারভেজ মাসুদ (৩৭), পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাটগাড়ি গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৪৭), বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিংগলাকাঠী গ্রামের মো. আলামিন (৩৪), গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার তরফ কামাল গ্রামের মো. সোহরাব হোসেন (৪০),

পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. জাকিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের একটি দল ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফিরছিলেন। এ সময় পুলিশের দলটি সাবেক এমপি মো. মোতাহার হোসেনের বাড়ির সামনে মহাসড়কে একটি সাদা প্রাইভেটকার সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে।

সন্দেহ হওয়ায় পুলিশের পিকআপ গাড়িটি প্রাইভেটকারটির সামনে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাইভেটকারের চালক ও  সাবেক এমপির পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে আরও ৭-৮ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে চালক সহ চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পৃলিশ প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা বিভিন্ন সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে- একটি ব্যাটারিচালিত গ্রাইন্ডিং মেশিন, একটি ব্যাটারিচালিত ড্রিল মেশিন, আটটি ড্রিল বিট, ছোট-বড় চারটি গ্রাইন্ডিং ব্লেড, চারটি ছোট-বড় স্লাইড রেঞ্চ, একটি প্লাস, দুটি ক্যাবল কাটার প্লাস, দুটি হ্যাক্স ব্লেড, তিনটি স্ক্রু ড্রাইভার, দুটি লোহার তৈরি ছেনী, ১৫টি বিভিন্ন ধরনের চাবি, দুটি কসটেপ, একটি ছোড়া ও একটি লোহার তৈরি দা।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করে গ্রেপ্তারকৃত  ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, মানবপাচার ও চুরিসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টও মুলতবি রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফপ্তার ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা ও ওয়ারেন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় মামলা হয়েছে, মামলা নম্বর ২১। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৯৮, ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator