সোমবার ২৪ আগস্ট চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে স্থানীয় জনপদে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি গোচরা হাফেজ টাওয়ার চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নাগরিক সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থানে নিয়ে আসা। ঘটনার দিন স্থানীয় জনগণ ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা বর্তমান সময়ে রাঙ্গুনিয়ার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই র্যালিটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদানের কৌশল হিসেবেও কাজ করেছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা রাঙ্গুনিয়ার বর্তমান মাদক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের যোগসাজশে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের সহজলভ্যতা বাড়ছে, যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজেদের সন্তানদের রক্ষা করতে না পারলে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিএনপির প্রবীণ নেতা নেজাম উদ্দীন চৌধুরী ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মোশারফ তাদের বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদক কেবল একক কোনো পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। তারা অভিযোগ করেন যে, মাদকের বিস্তার রোধে অতীতে যথাযথ পদক্ষেপের অভাব ছিল, যার ফলে অপরাধীরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করছে।
মাদক নির্মূলের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এসপি বেলায়েত হোসেন এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দীন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এসপি বেলায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী—কারও সাথেই কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় মাদকের আস্তানা বা সন্দেহভাজনদের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করেন। ওসি জহির উদ্দীন জানান, পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন, তাই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে এবং তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
রাঙ্গুনিয়ার এই মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র্যালিটি স্থানীয় জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে শুধু সমাবেশ বা র্যালির মাধ্যমে মাদকের মতো একটি জটিল সামাজিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, বরং নিয়মিত কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা ধরে রাখা এখন সময়ের দাবি। যদি প্রশাসন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাতে পারে এবং স্থানীয় জনতা সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকে, তবেই রাঙ্গুনিয়ার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি মাদকমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের সফলতার ওপর নির্ভর করছে রাঙ্গুনিয়ার আগামী দিনের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের সম্ভাবনা। মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই এখন কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি এখন প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।