চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ উত্তরের ব্যবস্থাপনায় আগামী বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (দ.) ও জশনে জুলুস উদযাপিত হতে যাচ্ছে। মোগলের হাট তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া মির্জা হোসাইনিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এই ধর্মীয় কর্মসূচিতে অঞ্চলটির ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে আয়োজক কমিটি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই জশনে জুলুস ও মাহফিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী সকাল আটটায় মোগলেরহাট এলাকা থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে এবং পুনরায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফিরে গিয়ে মাহফিল, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। এই বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েতটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আয়োজক কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে নিশ্চিত করেছে।
জশনে জুলুসের রুট ডাইনামিক্স ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি মোগলেরহাট থেকে শুরু হয়ে ধামাইরহাট, গাবতল, রানিরহাট, রাজারহাট, পারুয়া, ঘাটচেক, মরিয়মনগর লিচুবাগান ও নিশ্চিন্তাপুর হয়ে পুনরায় মোগলেরহাটে এসে শেষ হবে। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ওয়াকিল আহমদ জানিয়েছেন, নবীপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই জশনে জুলুস রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি স্থানীয় সকল স্তরের মানুষকে এই ধর্মীয় আয়োজনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শোভাযাত্রার রুটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এখন আয়োজকদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।
অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এতে যোগ দিচ্ছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদগণ। আয়োজকদের তথ্যমতে, মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ড. আ ত ম লিয়াকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আঞ্জুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান নু ক ম আকবর হোসাইন। এছাড়া প্রধান ওয়ায়েজ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সুন্নী নুরানি বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল আসাদ মুহাম্মদ জুবাইর রজবী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আঞ্জুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের যুগ্ম সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ গোফরান। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের বড় জমায়েত ও শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকে।
পরিশেষে, ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর এই আয়োজন রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে। তবে ক্রমবর্ধমান জনসমাগমের কারণে এই ধরনের বড় আয়োজনে যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সুষ্ঠুভাবে জশনে জুলুস সম্পন্ন করা গেলে তা যেমন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আশা করা যাচ্ছে, আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচি কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সফল হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুন্দর ধর্মীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।