শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা এখন একটি নতুন কৃষিপ্রযুক্তির আলোকে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। এখানে মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি এবং নিচের পানিতে মাছ চাষের সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে ঘেরের আইলে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে স্থানীয় শত শত পরিবার এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।
তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় প্রায় ২৭৬ হেক্টর জমিতে এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। নগরঘাটা, সরুলিয়া, খলিষখালীসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে ব্যাপকভাবে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে। উৎপাদিত সবজি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও বিষমুক্ত হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
গিয়ে দেখা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার নগরঘাটা মিঠাবাড়ি এলাকায় দুই পাশে নয়নাভিরাম সবুজ দৃশ্য। মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা ও শাকদাহ বিলে শত শত হেক্টর ঘেরের আইলে মাচায় ঝুলছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, খিরাই, বেগুন, পুঁইশাক, বরবটি, ঝিঙে ও লালশাক। মাচায় ঝুলছে শত শত করলা, লাউ ও কুমড়া। কোনো কোনো ঘেরের বেড়িবাঁধে তরমুজ চাষেও সফলতা এসেছে।
স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, ৩ বিঘা ঘেরে বাঁশ ও নেট দিয়ে মাচা তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে তাঁর আয় ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে এই জমিতেই ধানের চাষ করবেন তিনি। আরেক কৃষক আব্দুর রহিম সরদার বলেন, মাচা দুই-তিন বছর পর পর তৈরি করতে হয় বলে উৎপাদনের খরচ অনেক কমে যায়।
সফল মৎস্য চাষি তরিকুল ইসলাম, ভূবনেশ্বর, স্বপন, অসিত কুমার মণ্ডল, তবিবুর রহমান ও আমান উল্লাহর ঘেরেও একই দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ, প্রকৃতিকে দিয়েছে মনোরম রূপ। প্রত্যেকের ঘেরের মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ ও কুমড়া।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এ পদ্ধতিতে ঘেরের আইলে সবজি ও নিচে মাছ চাষে মৎস্যচাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সমন্বিত এ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষে চাষিদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতি শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং পরিবেশগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হচ্ছে। কম খরচে বেশি উৎপাদন এবং ভেজালমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে এই পদ্ধতি স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির আরও বিস্তার ঘটালে স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।