ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

মো: সৈকত হাসান avatar   
মো: সৈকত হাসান
ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
ফরিদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
ছবি: সংগৃহীত

****


ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বড় মাধবপুর এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালিয়ে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। এ ঘটনায় লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে বড় মাধবপুর এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুয়েতপ্রবাসী হেলাল ভূঁইয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), দুই ছেলে সাবিত ভূঁইয়া (১২) ও নাশাত ভূঁইয়া (৮) এবং শাশুড়ি শেফালী বেগম (৭০) ওই বাড়িতে বসবাস করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বাড়ির লোহার কেচি গেটে দুটি তালা লাগিয়ে এবং মূল কাঠের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।
রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল কেচি গেটের দুটি তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, আর বাকিরা বাইরে পাহারায় থাকে। এ সময় কয়েকজনের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা ও চাইনিজ কুড়াল ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ডাকাত দলের তিন সদস্য মুখে মাস্ক পরা ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, ডাকাতরা বৃদ্ধা শেফালী বেগম ও তার নাতি সাবিত ভূঁইয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ঘুম থেকে তুলে পরিবারের সবাইকে চুপ থাকতে বলে। চিৎকার করলে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে ডাকাতরা শেফালী বেগমের কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে দুই কক্ষের দুটি স্টিলের আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার ও রুপার গহনা লুট করে। এ সময় ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা।
এজাহার অনুযায়ী, লুট হওয়া ১৪ ভরি স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং রুপার গহনার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার টাকা। নগদ টাকাসহ মোট লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালানোর পর ডাকাতরা বাইরে থেকে দরজায় হ্যাজবোল্ট লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে শেফালী বেগম মোবাইল ফোনে তার জামাতা মো. আঃ হাকিম মিয়াকে বিষয়টি জানান। তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন।
এদিকে প্রতিবেশী জালিল ভূঁইয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় মো. আঃ হাকিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনায় বড় মাধবপুর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator