মোঃ মিনহাজুল ইসলাম
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট ও বিতরণ নিয়ে অসন্তোষ থেকে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। সার কিনতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গুদাম না খোলায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একপর্যায়ে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন ৩৩ জন কৃষক।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সার কেনার আশায় ওই ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে সেখানে দুই শতাধিক কৃষকের ভিড় হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুদামের দরজা না খোলায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে একদল কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখান থেকে ইউরিয়ার বস্তা নিয়ে বের হতে থাকেন তারা।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় গুদামে থাকা অবশিষ্ট সার নিরাপদে রাখা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের মধ্যে তা বিতরণে গড়িমসি করা হচ্ছিল। বর্তমানে তার গুদামে প্রায় ৩৪০ বস্তা সার মজুদ ছিল বলে তারা দাবি করেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ইউনিয়নটিতে সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে সার না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এরই মধ্যে তারা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।
ওসি আরও জানান, ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, জেলা পর্যায়ের সভায় থাকায় ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন।