নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ১১ নম্বর গোহালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত জিএম হায়দার তালুকদার। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মনাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এই ব্যক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। মূলত স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবাসমূহ জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই তিনি নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ইউনিয়নটির পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সুবাদে জিএম হায়দার তালুকদার স্থানীয় জনসাধারণের শিক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতার সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত। তার অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাব ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের আড়ালে থাকার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ ও শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করছি, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গোহালাকান্দা ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তার মতে, ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা এবং সরকারি ভাতার সুষম বণ্টনের অভাব সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মূল কারণ। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত ও কার্যকর সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
জিএম হায়দার তালুকদারের এই প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও নির্বাচনী বিধিবিধানের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে নানা মহলে পর্যালোচনা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন এবং উন্নয়নমূলক প্রতিটি কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। তবে তার এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তব রূপ পাবে তা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনী তফসিল এবং স্থানীয় ভোটারদের মতামতের ওপর। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শিক্ষকের জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা প্রশংসনীয় হলেও ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার পরিকল্পনা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল রয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করাই হবে তার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে, জিএম হায়দার তালুকদারের এই নির্বাচনী ঘোষণা গোহালাকান্দা ইউনিয়নবাসীর জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউনিয়নকে একটি আদর্শ জনপদে রূপান্তর করার যে লক্ষ্য তিনি নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার মানুষ উপকৃত হতে পারে। তবে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং নির্বাচনী বিধিবিধান মেনে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় তিনি কতটা নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগটি স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।