শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় নিজেদের পক্ষে আসার পরও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি এবং বিভিন্নভাবে পুলিশি ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ গাজীর ছেলে এবং রাজধানীর সাভারের ‘ফিস প্যারাডাইস অ্যান্ড কেসবার্ড’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে সাইফুল্লাহ জানান, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া মৌজার বিআরএস ৫৪৬১ ও ৮১৪৮ নম্বর খতিয়ানের ৮৮৩৩, ৮৮৪০ ও ৮৮৪২ নম্বর দাগের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা হলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আদালত তাঁর পক্ষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। তবে আদালতের রায়ের পরও প্রতিপক্ষের তৎপরতা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
সাইফুল্লাহর অভিযোগ, মামলায় পরাজিত হওয়ার পর তাঁর আপন চাচাতো ভাই ও এনসিসি ব্যাংকের পারুলিয়া শাখার কর্মকর্তা সাদিকুজ্জামান লালটু ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বসতবাড়ি, দোকানপাট, গাছগাছালিসহ বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। বিগত সরকারের আমলে তাঁদের ‘জামায়াত-শিবির’ আখ্যা দিয়ে পুলিশি নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বসতবাড়ির পরিবেশ নষ্ট করে পরিবারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বাড়ির সীমানাঘেঁষে মুরগির খামার স্থাপনেরও অভিযোগ করেন সাইফুল্লাহ। তাঁর দাবি, অগ্রণী ব্যাংকের দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শাখার জুনিয়র কর্মকর্তা শিবলি নোমানী ও তাঁর ভাই সাইফুজ্জামান প্রিন্স ওই খামার গড়ে তুলেছেন। খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাইফুল্লাহ আরও বলেন, অভিযুক্ত সাদিকুজ্জামান লালটু, শিবলি নোমানী, সাইফুজ্জামান প্রিন্স ও শেখ আলী মর্তুজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাঁকে এবং তাঁর ভাই গাজী শহিদুল্লাহকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দোকান ও বসতবাড়িতে মাদকদ্রব্য রেখে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল্লাহ ও তাঁর ভাই শহিদুল্লাহ গাজী আদালতের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, পৈতৃক সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কথিত হুমকি, হয়রানি ও দখলচেষ্টার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।