ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমীকরণের বিশদ বিশ্লেষণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমীকরণের বিশদ বিশ্লেষণ..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমীকরণের বিশদ বিশ্লেষণ..
ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমীকরণের বিশদ বিশ্লেষণ..
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির তিন আগ্রহী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে কে পাচ্ছেন চূড়ান্ত মনোনয়ন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহ..

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য পদ অর্জনের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভেতরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের নিশ্চিত করা তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপ-নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত করার জন্য মূলত তিনজন হাই-প্রোফাইল আগ্রহী প্রার্থী পার্লামেন্টারি বোর্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ এবং দলের আরেক হেভিওয়েট নেতা সুলতানুল ফেরদৌস চৌধুরী নম্র এই সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন এবং নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করেন। মূল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার আগে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এমন চুলচেরা বিশ্লেষণ রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ ভালোই আলোড়ন তৈরি করেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণের এই অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যার উপস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতারাসহ পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা সরাসরি প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করেন। বৈঠকে উপস্থিত হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির বিশিষ্ট সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। প্রার্থীরা মূলত নিজ এলাকায় তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা এবং স্থানীয় ভোটারদের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার নানা দিক পার্লামেন্টারি বোর্ডের সামনে তুলে ধরেন। দলীয় ফোরামের এই কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে মূলত তৃণমূলের রাজনীতি এবং কেন্দ্রীয় কমান্ডের মধ্যকার সেতুবন্ধন কতটা সুদৃঢ়, সেটিই যাচাই করা হয়েছে, কারণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনী এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সাক্ষাৎকার পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পরপরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে দল তাদের আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি এই মুহূর্তে অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে এবং যথাসময়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এর আগে এই আসনটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সুনির্দিষ্ট সিডিউল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নপ্রত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপ্রপত্র বাছাই, ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ এবং ৮ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ পুরোপুরি গরম হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো হেভিওয়েট নেতার আসন ছাড়ার কারণে সৃষ্ট এই শূন্য আসনে কে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও কৌতুহলের শেষ নেই। প্রবীণ ও পরীক্ষিত নেতাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বনাম স্থানীয় পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার এই লড়াইয়ে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড কাকে শেষ পর্যন্ত বেছে নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে ঠাকুরগাঁওয়ের আগামী দিনের রাজনৈতিক চালচিত্র। আসন্ন এই উপ-নির্বাচনকে শুধু একটি সাধারণ সংসদীয় আসন দখলের লড়াই হিসেবে না দেখে, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত ও জনঘনিষ্ঠ প্রার্থী চূড়ান্ত করার মাধ্যমেই বিএনপি এই আসনে তাদের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দুর্গ অক্ষুণ্ণ রাখতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator