কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির মোকলেছ ও দেলোয়ার নামে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আটক করা মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও মাদককে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাগজপত্রবিহীন বা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এমন মোটরসাইকেল এবং ভারতীয় মোবাইল ফোন আটক করার পর সেগুলোকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ী, ভাঙারি দোকানদারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায় কর্মসংস্থানের আশায় আসা সাধারণ ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারণে আটক করে তাদের কাছ থেকেও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনের কারণে মোকলেছ ও দেলোয়ারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে তারা পরস্পরের যোগসাজশে এসব অনিয়ম করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোকলেছের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো মেডিকেল বা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ ছাড়া মোকলেছের বিরুদ্ধে নিজ দায়িত্বাধীন এলাকার বাইরে গিয়ে পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী ডোপ টেস্ট করা হলে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।