সীতাকুণ্ডে পাওনা টাকা দাবি করায়, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা..

M. JAMSHED ALAM avatar   
M. JAMSHED ALAM
সীতাকুণ্ডে পাওনা টাকা দাবি করায়, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা..
সীতাকুণ্ডে পাওনা টাকা দাবি করায়, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা..
সীতাকুণ্ডে পাওনা টাকা দাবি করায়, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

সীতাকুণ্ডে পাওনা টাকা দাবি করায়, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

এম জামশেদ আলম,
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা দাবি করায় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের মুখে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বার-আউলিয়া এলাকার চিকনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন হাফিজ জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সোনাইছড়ি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত ‘বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ড’ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কিছু মালামাল কেনার জন্য তিনি ১ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেছিলেন। কিন্তু পরে নির্ধারিত মালামাল বুঝিয়ে না দিয়ে তা অন্য একটি পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। এ অবস্থায় তিনি অগ্রিম টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কোম্পানির পরিচালক মোঃ তানভীরের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই রাতেই সীতাকুণ্ড মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতার দাবি, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে শিপইয়ার্ড সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে কখনো চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত দেখা যায়নি। তাদের ভাষ্য, পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা করায় তিনি একটি পরিকল্পিত মামলার শিকার হয়। 

জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই মোস্তাকিম বলেন, “চাকরি হারানোর পর অনেক কষ্টে সংসার চালাতে জাহাঙ্গীর শিপইয়ার্ডে ব্যবসা শুরু করে। মালামালের জন্য  ‘বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ড’ কে অগ্রিম টাকা দিলেও সে মাল কিংবা টাকা কোনোটিই ফেরত পায়নি। এখন একটি মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী ও চার সন্তান মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পাওনা টাকা আদায় এবং তার মুক্তি দাবি করছি।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘বিওবি রিসাইক্লাস শিপইয়ার্ড’-এর পরিচালক তানভীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার (ওসি) তদন্ত মো. আলমগীর বলেন, “বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

No comments found


News Card Generator