শহীদদের স্মরণে  সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।..

ছাইম ইবনে আব্বাস, সিলেট।  avatar   
ছাইম ইবনে আব্বাস, সিলেট।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেস ক্লাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।..

শহীদদের স্মরণে  সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার  (২৬ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ অংশ গ্রহণ  করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সদস্য সচিব ইমরান আহমদ। সভার সূচনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাধারণ সদস্য জাকারিয়া তালুকদার। এরপর স্বাধীনতার শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক হারিছ আলী, সদস্য সাকিব আল মামুন এবং মাহমুদুল হাসান বাচ্চু। বক্তারা তাদের বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য গভীরভাবে তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত হয়েছিল, তা আজও আমাদের জাতিসত্তার মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, মহান স্বাধীনতা কেবল একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি চেতনা, যা ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বহন করে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা দুর্নীতি, অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তারা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, সততা ও দেশপ্রেমের চর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য সেলিম হাসান কাওছার, দীনেশ দেব নাথ, শফিক উদ্দিন আহমদ, জাকারিয়া আবুল, জাবেদ মাহবুব, ছাইম ইবনে আব্বাসসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতামত তুলে ধরে স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভার শেষ পর্বে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় দিবসগুলো আরও ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে উদযাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।
সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনা পুনর্জাগরণ এবং জাতীয় দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রয়াস, যা উপস্থিত সবার মাঝে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ়ভাবে অনুপ্রাণিত করে।

No comments found


News Card Generator