সম্প্রতি জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিআইএফএ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় চলচ্চিত্রটির পোস্টার ও টিজার।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
রহস্য, ইতিহাস, বন্ধুত্ব, সাহসিকতা এবং রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্পে নির্মিত চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মাঝে কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। নির্মাতাদের প্রত্যাশা, ভিন্নধর্মী গল্প ও আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলা শিশুতোষ সিনেমায় নতুন মাত্রা যোগ করবে ‘গুপ্তধনের খোঁজে’।
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন ‘একজীবন’ খ্যাত মডেল ও অভিনেতা অন্তু করিম। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে পেন্টাগন ফিল্মস, আর সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছে এমএস মাল্টিমিডিয়া।
নির্মাতা সূত্রে জানা যায়, এটি শুধুমাত্র একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়; বরং শিশুদের কল্পনাশক্তি, সাহসিকতা ও দলগত বন্ধনের শক্তিকে তুলে ধরা হয়েছে গল্পের প্রতিটি ধাপে। রহস্যময় মানচিত্র, অজানা সংকেত, হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস এবং বিপজ্জনক অভিযানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে চলচ্চিত্রের কাহিনি।
চলচ্চিত্রটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রহস্যময় গুপ্তধনের সন্ধানকে কেন্দ্র করে। বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক ইতিহাসের সূত্র ধরে একদল কিশোর-কিশোরী নেমে পড়ে এক ভয়ংকর অথচ রোমাঞ্চকর অভিযানে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা এই অভিযাত্রা দর্শকদের নিয়ে যাবে এক ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায়।
চলচ্চিত্রটতে অভিনয় করেছেন ওমর তন্ময় ফিয়ান, সৌহার্দ্য চৌধুরী, যায়ান মুহাম্মদ রুয়াইফি, তাহানি শামস নাওমি, ইরফান রহমান, সাইফ খান, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, মো. মনিরুল ইসলাম, নিশক তারেক আজিজ, রুহনাজ নাওয়ার কাশফি, মো. জুবায়ের ইসলাম (তালহা), মনিরুজ্জামান মনি, আফিফ খান, নিরব হাসান মুন্না, মিজান রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্লাবন আহমেদ, লাকি চন্দ এবং মোহাম্মদ শামস উদ্দিন প্রমুখ।
চলচ্চিত্রটির গল্প লিখেছেন অন্তু করিম। চিত্রনাট্য করেছেন নিজাম ইউ খান, রাইসুল ইসলাম অনিক এবং রাসিদুর রহমান। পরিচালনায় রয়েছেন তরুণ নির্মাতা রাইসুল ইসলাম অনিক।
পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিক বলেন, আমরা এমন একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা করেছি যেখানে শুধু বিনোদন নয়, বরং শিশুদের কল্পনাশক্তি, সাহসিকতা, ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ এবং বন্ধুত্বের মূল্যবোধ ফুটে উঠবে। বাংলাদেশের শিশু-কিশোর দর্শকদের জন্য মানসম্মত অ্যাডভেঞ্চারধর্মী চলচ্চিত্র খুব কম নির্মিত হয়। সেই জায়গা থেকেই ‘গুপ্তধনের খোঁজে’ নির্মাণের উদ্যোগ।
প্রযোজক অন্তু করিম বলেন, বাংলাদেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্রের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষায় এমন গল্প দেখুক যা তাদের আনন্দ দেবে, ভাবাবে এবং অনুপ্রাণিত করবে। ‘গুপ্তধনের খোঁজে’ সেই স্বপ্ন থেকেই নির্মিত।
প্রকাশিত ফার্স্ট লুকে রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চারের আবহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে অফিসিয়াল টিজারে দেখা গেছে রহস্যময় পরিবেশ, ধনসম্পদের ইঙ্গিত, বিপজ্জনক অভিযান এবং শিশু চরিত্রগুলোর সাহসী যাত্রার কিছু ঝলক, যা ইতোমধ্যেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন মনোরম ও বৈচিত্র্যময় লোকেশনে চলচ্চিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও সিনেমাটোগ্রাফিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শকরা বড় পর্দায় আন্তর্জাতিক মানের অ্যাডভেঞ্চারধর্মী অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন।
বাংলা শিশুতোষ চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্তধনের খোঁজে’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক দর্শকরাও সিনেমাটি উপভোগ করবেন বলে আশাবাদ নির্মাতাদের। খুব শিগগিরই চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
বিআলো/সিপন