নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক অফিস সহকারীকে মারধরের অভিযোগে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী অমিতাভ বিশ্বাসকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ আই নিউজ বিডিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের অমর চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে অমিতাভ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যান। সেখানে তিনি অফিস সহকারী মোহাম্মদ রাসেল হায়দারের কাছে নিজেকে দৈনিক *আমার সংবাদ* পত্রিকার নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনৈতিক সুবিধা দাবি করেন।
রাসেল হায়দার তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অমিতাভ তাকে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা অফিসের অন্য কর্মীদের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে থেমে যায়।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে, দুপুরের খাবার শেষে রাসেল হায়দার যখন অফিসে ফিরছিলেন, তখন অমিতাভ তার ওপর হামলা চালান। অফিস গেটের সামনে থাকা একটি গাছের ডাল দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। রাসেলের চিৎকারে সহকর্মীরা ছুটে এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এই ঘটনার পর আহত রাসেল হায়দার বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ অভিযুক্ত অমিতাভ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে।
এ প্রসঙ্গে ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানান, "অমিতাভ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিকতার নামে ভুয়া পরিচয়দান এবং অনৈতিক সুবিধা দাবির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা এ ধরণের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এই ঘটনা সমাজে ভুয়া সাংবাদিকতার প্রভাব এবং এর ফলে শিক্ষার পরিবেশে যে ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাংবাদিকতার পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজে সঠিক সংবাদ পরিবেশনের জন্য এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে বলে মনে করেন তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি অফিসগুলোতেও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।