কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌরসভার বেপারীপাড়া মোড়ে মাদকাসক্ত পুত্র আব্দুল আউয়ালের ছুরিকাঘাতে তার পিতা আব্দুল মালেক (৮০) মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, যা সমগ্র এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আউয়াল (৪৫), যিনি ডাকনামে ভাঙ্গারী বাদল হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন তিনি। তার মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত।
সেদিনের ঘটনার সূত্রপাত হয় পারিবারিক কলহ থেকে। আউয়াল ও তার পিতা আব্দুল মালেকের মধ্যে তর্কাতর্কিতে শুরু হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আউয়াল ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি নিয়ে তার পিতাকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আব্দুল মালেককে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের চতুর্থ পুত্র মো. খোকন জানান, 'বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মারা যান।' পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি একটি চরম দুঃখজনক ঘটনা।
এ বিষয়ে নিহতের ভাতিজা ও স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, 'বাদল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। কিছুদিন আগে তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে বাদল কয়েক মাস জেলে ছিলেন। জেল থেকে বের হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যাওয়ায় সম্প্রতি বাবাকে চাপ দিচ্ছিল স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য। মূলত মাদকের প্রভাবেই এ ঘটনা ঘটেছে।'
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মাহাবুব মোরশেদ বলেন, 'মাদকাসক্ত পুত্রের ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ পিতা আহত হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিকালে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পাই। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। সমাজের সকলের সহযোগিতা পেলে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।'
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজের জন্য মাদকের বিপজ্জনক প্রভাবের একটি বাস্তব উদাহরণ। মাদকাসক্তি পরিবার ও সামাজিক কাঠামো ভঙ্গুর করে তুলছে, যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।