জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় গত ১৭ জুন থেকে দুই স্কুলছাত্রীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলো গোপালপুর কো-অপারেটিভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আক্তার এবং স্থানীয় নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আশা মনি। গত সাত দিন ধরে তাদের কোনো প্রকার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘটনার দিন তারা নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি, যা স্থানীয়ভাবে একটি পরিকল্পিত অপহরণ বা প্ররোচনার ঘটনা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব স্থানে অনুসন্ধান চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশু দুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই নিখোঁজের ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র থাকতে পারে। আফসানা আক্তারের পিতা আল আমিন বকশীগঞ্জ থানায় যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাতে গোপালপুর এলাকার আরিফা খাতুন নামে এক তরুণীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন যে, আরিফা খাতুনের প্ররোচনায় বা কোনো অজানা প্রলোভনে তাদের সন্তানরা বাড়ি ছেড়েছে অথবা তাদের অপহরণ করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত মানবেতর সময় পার করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের আকুতি হলো, পুলিশ যেন অতিদ্রুত আরিফা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র না মেলায় তাদের সন্দেহ আরিফা খাতুনের ভূমিকা ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গড়িমসি বা তদন্তে বিলম্ব হলে নিখোঁজ শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তারা তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরিফা খাতুনসহ সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কারণ সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে আরও অধিকতর সক্রিয় হতে হবে এবং ঘটনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, যদি এই ঘটনার পেছনে কোনো পাচারকারী চক্র বা অপরাধী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে তা উন্মোচনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দুই স্কুলছাত্রীর এই দীর্ঘস্থায়ী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি বকশীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হবে এবং অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়বেন। নিখোঁজ হওয়া শিশু দুটির পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় এলাকাবাসী এখন কেবল প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপের দিকে চেয়ে আছে। এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন নিখোঁজের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক অস্থিরতার একটি বহিঃপ্রকাশ, যা রোধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ, যাতে দ্রুত এই রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হয়।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।