দেড়শ বছর আয়ু লাভের গোপন প্রযুক্তি? পুতিন-শি জিনপিংয়ের ফোনালাপে তোলপাড়..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দেড়শ বছর আয়ু লাভের গোপন প্রযুক্তি? পুতিন-শি জিনপিংয়ের ফোনালাপে তোলপাড়..
দেড়শ বছর আয়ু লাভের গোপন প্রযুক্তি? পুতিন-শি জিনপিংয়ের ফোনালাপে তোলপাড়..
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ১৫০ বছর পর্যন্ত আয়ু লাভের সম্ভাবনা নিয়ে এক রহস্যময় ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রয়টার্সের প্র..

বিশ্বের দুই শক্তিধর নেতা—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কি অমরত্ব বা দীর্ঘ জীবন লাভের কোনো গোপন প্রযুক্তির সন্ধান পেয়েছেন? সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সামরিক কুচকাওয়াজের সময় দুই নেতার মধ্যে হওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথোপকথন বিশ্বজুড়ে এই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের ফাঁস করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নেতা মানুষের আয়ু ১৫০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। এই ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে যখন চীন সরকারের চাপে রয়টার্স ভিডিওটি সরিয়ে ফেলে এবং তাদের গ্রাহকদের এটি ব্যবহার না করার জন্য ‘কিল অর্ডার’ জারি করে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজের সময় ভ্লাদিমির পুতিনের দোভাষী শি জিনপিংকে জানান যে, জৈবপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে, বিশেষ করে বারবার অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে, মানুষ বৃদ্ধ বয়সেও তারুণ্য ধরে রাখতে পারবে এবং এমনকি অমরত্বও লাভ করতে পারে। এর জবাবে, শি জিনপিং বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে এই শতাব্দীতেই মানুষ ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারবে। দুই নেতার এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটিকেই অনেকে মানব ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি ছিল শুধুমাত্র একটি সাধারণ মন্তব্য, কিন্তু অনেকেই এর পেছনে দীর্ঘ জীবন লাভের এক গোপন পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাচ্ছেন।

এই ধারণাটি কি শুধুই কল্পনা, নাকি এর পেছনে বিজ্ঞানের কোনো ভিত্তি রয়েছে? যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের রক্ত ও প্রতিস্থাপন বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর, তবে এর স্থায়িত্ব দাতা এবং গ্রহীতার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে কিডনি, লিভার, হার্ট এবং ফুসফুসের মতো অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা গেলেও, রোগীদের আজীবন ঔষধ সেবন করতে হয়। তবে, বিজ্ঞানীরা এখন ‘প্রত্যাখ্যান-মুক্ত’ অঙ্গ তৈরির জন্য কাজ করছেন, যা শূকরের জিন পরিবর্তন করে বা মানুষের নিজের কোষ থেকে স্টেম সেল ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে বারবার অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘ জীবন লাভ করাটা অসম্ভব কিছু নয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে চীনের আচরণ নিয়ে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি-র লাইসেন্সকৃত ফুটেজটি রয়টার্স প্রকাশ করার পরই শুরু হয় বিপত্তি। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে সিসিটিভি রয়টার্সকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে জানায় যে, তারা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং অবিলম্বে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানায়। রয়টার্স প্রথমে তাদের অবস্থান ধরে রাখলেও, পরবর্তীতে তারা ভিডিওটি সরিয়ে ফেলে। এই ঘটনাটিই জল্পনাকে আরও ঘনীভূত করেছে। কেন দুই বিশ্বনেতার এই সামান্য কথোপকথন নিয়ে চীন এতটা সংবেদনশীল? এটি কি অসাবধানবশত ফাঁস হয়ে যাওয়া কোনো গোপন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ?

এই রহস্যময় ঘটনাটি শুধুমাত্র মানব জীবনের সীমা নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিয়েও এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদি সত্যিই ক্ষমতাধর দেশগুলো দীর্ঘ জীবন লাভের প্রযুক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তবে তা মানব সমাজে এক নতুন এবং সম্ভবত আরও ভয়াবহ বৈষম্যের সৃষ্টি করবে। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে হয়তো বিজ্ঞান এবং রাজনীতির এক জটিল সমীকরণে নির্ধারিত হবে মানব জীবনের নতুন সংজ্ঞা।

No comments found


News Card Generator