শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সাতক্ষীরার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তালা সাব-জোনাল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটি পালন শুরু করেছে। রবিবার সকাল থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়, যার ফলে অফিসের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং অধিকাংশ গ্রাহককে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তালা সাব-জোনাল অফিসের কর্মচারীরা সকাল থেকেই অফিসের মূল ফটক বন্ধ করে দেন, ফলে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে এসে ব্যর্থ হন। অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
অফিসের এক কর্মচারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান অব্যবস্থাপনার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে এবং অন্যায়ভাবে বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। আমরা এই ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং আমাদের সহকর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।"
উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, "জনগুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অফিস বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মারাত্মক ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।"
এজিএম তালা সাব-জোনাল অফিসের সাধন কুমার মণ্ডল জানান, চার দফা দাবিতে তারা এই গণছুটি পালন করছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অন্যায়ভাবে বরখাস্ত ও বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংস্থার অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ।
শুক্রবার বিকেলে পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরার সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এই গণছুটির ঘোষণা দেন। এজিএম সাধন কুমার দাস লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমাদের দাবিগুলো মানা না হলে এই কর্মসূচি চলবে।"
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। অফিস বন্ধ থাকায় এই বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা প্রদানে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে, জরুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বা মেরামতের কাজ বন্ধ থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন গ্রাহকরা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতি নিরসনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান দেখা যায়নি। এই কর্মসূচির ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।