খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার দুই শিশু কন্যা সন্তান জিম্মি রাখা, কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি ফাইল আত্মসাৎ, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুটপাটের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মজিদ খান জানান, তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগম, যাকে তিনি বিয়ে করার সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর, তার গর্ভে চার পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পারিবারিক কষ্টে অসুস্থ হয়ে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে পিতামাতার বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই তারিখে আশা আক্তার (তৎকালীন বয়স ১৮ বছর)–কে বিবাহ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে এবং তাদের সংসার প্রায় ৭ বছর ৬ মাস চলমান ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তার শ্বশুর লাইসুর রহমান (পিতা: মৃত মফির উদ্দিন), শাশুড়ি লিপি আক্তার, বড় দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন, বড় বোন রাশিদা আক্তার, ছোট ভাই নয়ন মিয়া ও তাদের সহযোগীদের প্ররোচনায় আশা আক্তার মোট আটবার তার সংসার ত্যাগ করেন। কন্যা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি বারবার বিষয়টি সহ্য করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাকে মানসিক চাপ ও হুমকি প্রদান করে তার তিনটি বাড়ি, সাতটি গরু, ছয়টি খাসি ছাগল, আটটি অটো, চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি কার গাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া নগদ ১৭,০৯,২০০ টাকা এবং প্রায় কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি ফাইল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী— দেলোয়ার হোসেন (পিতা: মমিনুল ইসলাম (হামিদুল), ঠিকানা: জালগাও, ৩ নং মুর্শিদাহাট, সেতাবগঞ্জ পৌরসভা, ডাকঘর ও থানা বোচাগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর), মোঃ শাহআলম (পিতা: আচারিয়া) ঠিকানা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, রোড ১/৯, মিঠামইন হাওর বিল, থানা কোতোয়ালি, জেলা কিশোরগঞ্জ), মোঃ জসিম দেওয়ান (পিতা: মোঃ মালেক দেওয়ান, ঠিকানা: মমিনপুরনগর, গড়াই, হাটুভাঙ্গা, থানা মির্জাপুর, জেলা টাঙ্গাইল), মোঃ আওয়াল (পিতা: অজ্ঞাত, ঠিকানা: লতিফপুর, পৌরসভা লতিফপুর, থানা কোতোয়ালি, জেলা গাজীপুর), মোঃ পশিরউদ্দিন (রাহুল) (পিতা: ছনো মিয়া, ঠিকানা: রওমারী গ্রাম, ডাকঘর থানা শেরপুর, জেলা ময়মনসিংহ)— এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা আশা আক্তারের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যমে বসবাস করছে এবং তাকে দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে ফেলেছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ব্যক্তিরা ব্ল্যাকমেইল করে তার দুই শিশু কন্যা সন্তানসহ কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত জরুরি ফাইল আত্মসাৎ ও জিম্মি করে রেখেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—পলাশপুর থানা মির্জাপুর জেলা টাঙ্গাইল এলাকা থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশু কন্যা অপহরণ। কালিয়াতি থানা জেলা টাঙ্গাইল এলাকা থেকে চার বছর বয়সী শিশু কন্যা পাচার।ঢাকার শ্যামলী এলাকা থেকে তিন বছর বয়সী এক ছেলে শিশু পাচার।টাঙ্গাইল পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে আড়াই বছর বয়সী শিশু কন্যা পাচারের মতো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আশা আক্তার (২৭) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেন্সিডিল, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য শরীরের গোপন স্থানে বহন করে অর্থের বিনিময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।নির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক অর্থ ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী— ৩১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে ৪,০৯,২০০ টাকা নেওয়া হয়,১৫/০৬/২০২৩ এ ৪,৭০,০০০ টাকা নেওয়া হয়,১৭/০১/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় তার অনুপস্থিতির সুযোগে— ড্রয়ারে থাকা নগদ ১,০০,০০০ টাকা,ট্রাংকের তলা ভেঙে কোটি টাকার সম্পদের ৩টি জরুরি ফাইল পার্কে ঘোরার কথা বলে দুই শিশু কন্যা কে অপহরণ করে— ১) জান্নাতি আক্তার (সাড়ে ৬ বছর) ২) মিম আক্তার (সাড়ে ৪ বছর )স্বর্ণ অলংকার সাড়ে ৬ ভরি, রুপা অলংকার সাড়ে ১৭ভরি,এলইডিটিভি,সেলাইমেশিন,রাইসকুকার,ব্লেন্ডার,আয়রন,অন্যান্য মূল্যবান মালামাল সব কিছু মিলিয়ে মোট ১৭,০৯,২০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯/০১/২০২৬ ইং তারিখ রাত ৯টার দিকে ৩ নং মুর্শিদাহাট, জালগাও এলাকায় বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ পুলিশ তদন্তে গেলে আশা আক্তারের নির্দেশে তার পিতা লাইসুর রহমান ও মাতা লিপি আক্তার প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন। তারা বলেন— “মামলা তুলে না নিলে দুই কন্যা সন্তান ও জরুরি ফাইল ফেরত দেওয়া যাবে না।” ০৩/০৩/২০২৬ বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানার দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় অভিযুক্ত আসামি আশা আক্তারের কাছ থেকে দুইটি জরুরী ফাইল উদ্ধার করা হয়। এখনো জরুরী একটি বিশেষ ফাইল সহ দুই শিশু কন্যাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। একাধিক মামলা ও জিডি দায়ের ভুক্তভোগী জানান, এ ঘটনায় তিনি ইতোমধ্যে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন। মামলা সমূহ: ১) বোচাগঞ্জ থানার মামলা নং ৪/২৩ (দিনাজপুর আদালতের বিচারধীন রয়েছে যার মামলা নং ১২৯/২৩) ২) দিনাজপুর কোর্ট সিআর মামলা নং ৯০১/২৪ বিচারধীন রয়েছে ৩) সিআর মামলা নং ২৪৩/২৪ ৪) সিআর মামলা নং ২৫৪/২৪ (ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে) ৫) সিআর মামলা নং ২৬৬/২৫ ওয়ারেন্ট জারি ৬) নির্বাহী আদালতের মামলা নং পি-২৪/২৬ ওয়ারেন্ট জারির অপেক্ষায় আছে ৭) নির্বাহী আদালতের মামলা নং পি-৬৭/২৬ ওয়ারেন্ট জারির অপেক্ষায় আছে ৮) সিআর মামলা নং ২২/২৬ প্রতিবেদন দাখিল হবে আগামী ১৫ তারিখে ৯) সিআর মামলা নং ৭৩/২৬ (পিবিআই তদন্তাধীন) ১০) মানহানি সিআর মামলা নং ৭৯/২৬ বোচাগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তরে তদন্তধীন রয়েছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি): ১) দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা জিডি নং ২১৯৫/২৪ (নিখোঁজ) ২) বোচাগঞ্জ থানা জিডি নং ৩৩৩/২৪ ৩) বোচাগঞ্জ থানা জিডি নং ৮১৭/২৬ ৪) বোচাগঞ্জ থানা জিডি নং ১০১৫/২৬ এবং বিভিন্ন উপমহলে অভিযোগ দায়ের ২৮/০২/২০২৬,২৫/০৩/২০২৬।ন্যায়বিচারের দাবি ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মজিদ খান বলেন— “এত প্রমাণ ও মামলা থাকার পরও তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং আমার দুই শিশু কন্যা সন্তান ও আমার কষ্টে অর্জিত সম্পদ ফেরত চাই।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের কেউ দেখামাত্র নিকটস্থ থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।



















