খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
বোচাগঞ্জ থানা অধীনে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে অভিযুক্ত আসামি আশা আক্তার দুইটি শিশু কন্যা সহ কোটি টাকার সম্পদ জরুরী ফাইল জিম্মি ও তারমধ্যে একটি ফাইল আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান এর নির্দেশে ইন্সপেক্টর শামিম আক্তার সরকার, এসআই আব্দুর রহমান, এসআই কাওসার, কনস্টেবল আব্দুল খালেক, কনস্টেবল কাকলি সহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে দুইটি জরুরী ফাইল উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো একটি জরুরী ফাইল ও দুইটি শিশু কন্যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
১৭/০১/২০২৬ সন্ধ্যা ছয়টায় দিকে ভুক্তভোগী বাদী বাড়িতে না থাকায় ১ ঘন্টার ব্যবধানে আশা আক্তার দুই শিশু কন্যা —
জান্নাতি আক্তার (৬)
মীম আক্তার (সাড়ে চার বছর) কে পার্কে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে, তিনটি জরুরী ফাইল ও নগদ ১ লক্ষ টাকা নিয়ে নিখোঁজ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মাস্টারপাড়া তিনমাথা মাঠপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের বাড়ি থেকে, এরপর ওই তারিখে বোচাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় যার নং ৮১৭/২৬।
পরবর্তীতে ২১/০১/২০২৬ ইংরেজি তারিখে আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যেখানে কোটি টাকার সম্পদ তিনটি জরুরী ফাইলের বিষয় উল্লেখ রয়েছে যার জিডি নং ১০৪৪/২৬ ।
এলাকা সূত্রে জানা যায় , রেল কলোনি স্টেশন পাড়া এলাকার মৃত আইয়ুব আলী ছেলে সোহেল গাংগুয়া, রনি কেকড়া ও মিঠুন এর কাছে কাজল,মুক্তার,আজমল,আলমের এই ৪ জনের ৩০০ টাকার হ্যান্ডস্ট্যাম্প তাদের হাতে ষড়যন্ত্র করে তুলে দিয়েছে আশা আক্তার ও তার পিতা লাইসুর রহমান মাতা লিপি আক্তার।
আরও জানা গেছে , এই হ্যান্ডস্ট্যাম্পগুলো কোনো কার্যকর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, পাওনাদার আব্দুল মজিদ খান-কে মোবাইল ফোনে সোহেল গাংগুয়া, রনি কেওড়া ও মিঠুন হুমকি দিয়ে বলে যে এই এলাকা ছাড়তে হবে , মামলা তুলে নিতে হবে ও ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে না হলে খুন ও গুম করে ফেলা হবে বলে অভিযোগ রয়েছে যার কল রেকর্ড মজুদ রয়েছে ভুক্তভোগী বাদীর কাছে।
আরও জানা যায়, ধারকৃত টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে ওই ৪ ব্যক্তিকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ০৩/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানা সংলগ্ন তেঁতুলতলা মনিপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত আশা আক্তার-কে আটক করে মির্জাপুর থানায় রাখা হয়। সেখান থেকে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ দুইটি ফাইল উদ্ধার করে।
তবে এখনো একটি জরুরী ফাইল ও দুই শিশু কন্যাকে উদ্ধার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আসামি আশা আক্তার, তার পিতা লাইসুর রহমান ও মাতা লিপি আক্তার ঘটনার দিন ১৯/০১/২০২৬ রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী বলা হয়, মামলা না তুললে ২ শিশু কন্যা ও একটি জরুরী ফাইল ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।



















