আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে বিশেষ সহযোগী চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ড. মুদাব্বির হোসেন মুনিম। তিনি বিএনপি পরিবারের সন্তান এবং বড়লেখা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী মুক্তাদির হোসেন মিছবাহ’র ছোট ভাই।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বড়লেখা পৌরশহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি, এলাকার উন্নয়ন ও দলের স্বার্থে কাজ করা নিয়ে নিজের নানা সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন তিনি। এসময় বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকা তিতুমীর কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯১ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বহুবার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে তার।
১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্য থেকে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট সম্পন্ন করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দীর্ঘ ১৭ বছর চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শেষে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের জনসাধারণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করে সিলেকশন বোর্ডের মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, আদর্শ এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলে 'হৃদয়ে হৃদয়ে জিয়াউর রহমানের স্পর্শ' নামে একটি বই লিখেছেন, যা বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। আগামি নির্বাচনেও তিনি জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা ড. মুদাব্বির হোসেন মুনিম বলেন, গত এক বছরে তিনি বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে পাঁচ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শে গরিব ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের খোঁজ নিয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। চলতি বছর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নিজ এলাকায় সাত ফুট উচ্চতার নিমগাছের চারা ও বারোমাসি কাঠালের চারা বিতরণ করেছেন।
অন্য এক প্রশ্নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. মুদাব্বির বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি আর লন্ডনে ফিরে যাবেন না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি দেশে স্থায়ী হয়েছেন এবং দলের জন্য কাজ করবেন। বিএনপিতে ১০ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। একজন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হিসেবে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এমপি না হলেও ৩০০ আসনে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মুদাব্বিরের বড় বোন কবি ও সাহিত্যিক দিল আফরোজ আমীন বলেন, সব দিক থেকে ছোটভাইকে যোগ্য ও উপযুক্ত করে বিএনপি ও বড়লেখা-জুড়ীবাসীর হাতে তুলে দিয়েছেন তারা। তার মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও মানবিকতাকে বিএনপির স্বার্থে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। এসময় ভগ্নিপতি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমীনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।