সারের দাবীতে কৃষকদের লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ।

Munim Hossain Khandker Protik avatar   
Munim Hossain Khandker Protik
সারের দাবীতে কৃষকদের লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ।
সারের দাবীতে কৃষকদের লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ।
ছবি: সংগৃহীত

১০ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রায় তিন শতাধিক কৃষক। আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহ..

 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: 

১০ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রায় তিন শতাধিক কৃষক। আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।

অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় কৃষকরা ‘বাঁচলে কৃষি বাঁচবে দেশ’, ‘মরলে কৃষক মরবে দেশ’- এসব স্লোগান দেন।

কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, সারের দোকান গুলিতে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি দোকান ঘুরে বেশী দামে ইউরিয়া ও ডিএপি সার পেলেও টিএসপি সার ক্রয় করতে পারেননি। ধান চাষের এ সময়ে টিএসপি সারের খুব প্রয়োজন। কিন্তু বাড়তি টাকা খরচ করে সার কেনা সামর্থ্যের বাইরে। তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই ফসল উৎপাদন আলু, তামাক ও ভূট্টা উৎপদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করায় চরম আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।  আমন চাষে ঠিকমতো সার না পেলে কৃষিকাজ করব কিভাবে? কৃষিকাজ ছাড়া আমরা অন্য কোনো কাজও জানি না।’

কৃষক শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘সারের দাবিতেই আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। ইউএনও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে চাহিদামতো সার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সময়মতো সার না পেলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামব।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

সার ডিলারদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। 
কালীগঞ্জের সার ডিলার সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সরকারিভাবে যতটুকু সার আমরা পাচ্ছি, ততটুকুই সরকারি নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছি। আমরা কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করি না এবং বেশি দামে সার বিক্রিও করি না।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে টিএসপি সারের চাহিদা বেশি। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম। সরকার সরবরাহ বাড়ালে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া সম্ভব হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের সারের ঘাটতি ও ক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত সারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে চাহিদামতো সার পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সার ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা সার বিক্রিতে অনিয়ম করলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তিনিও সার ডিলারদের দোকানগুলো মনিটরিং করবেন।

 

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator