MD.SAKIB HASAN | আই নিউজ বিডি
MD.SAKIB HASAN
|সাবস্ক্রাইবার
ভিডিও পছন্দ হয়েছে
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:
আকাশভাঙ্গা আনন্দময় বৃষ্টি আর প্রকৃতির স্নিগ্ধতাকে সঙ্গী করে বগুড়ার নন্দীগ্রামে উদ্যাপিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আকাশজুড়ে মেঘের গর্জন আর বৃষ্টির ফোঁটাকে উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও বিজয়ের আনন্দ।
বৃষ্টির মাঝে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালিতে যেন আনন্দের জোয়ার নেমেছিল। বৃষ্টিভেজা রাজপথেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হন। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির শীতল হাওয়া আর নেতাকর্মীদের প্রাণখোলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নন্দীগ্রাম পৌরশহর।
আনন্দঘন এই বিজয় র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহালু-নন্দীগ্রাম (বগুড়া-৪) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। বৃষ্টির মধ্যে নেতার সান্নিধ্যে কর্মীদের উদ্দীপনা ছিল দ্বিগুণ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন আর দলীয় পতাকায় সজ্জিত হয়ে সবাই অংশ নেন এই বৃষ্টিভেজা আনন্দ র্যালিতে। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ রূপ আর উৎসবের আমেজ একাকার হয়ে এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ
র্যালি শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টিস্নাত দিনে নেতাকর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আনন্দঘন পরিবেশ দলের আন্দোলন-সংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় নেতারা।
উৎসবমুখর এই আয়োজনে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন।
নন্দীগ্রাম পাইলট হাই স্কুলের খেলার মাঠ, যেটি স্থানীয় শিশুদের জন্য জনপ্রিয় একটি খেলার স্থান, আজ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন শত শত শিশু এই মাঠে খেলাধুলা করতে আসে, কিন্তু মাঠের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ঘাস লাগানোর অভাবে এটি যেন মৃতপ্রায়।
মাঠের পরিবেশ উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা শিশুদের খেলাধুলার অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে। মাঠটি শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাঠের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, "আমরা প্রতিদিন আমাদের সন্তানদের এই মাঠে পাঠাই, কিন্তু মাঠের বেহাল দশা দেখে আমরা খুবই হতাশ। কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।"
নন্দীগ্রাম পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "মাঠের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। আমরা আশা করি স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।"
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুলের খেলার মাঠের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে এই নীতিমালা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। মাঠের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনের অনাগ্রহ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলার মাঠ শুধু শারীরিক কসরত করার স্থান নয়, এটি শিশুদের সামাজিক দক্ষতা ও সহযোগিতার অনুভূতি বিকাশে সহায়ক। মাঠের উন্নয়নের মাধ্যমে শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও মনোস্তাত্ত্বিক বিকাশে সহায়ক হবে।
এই মাঠের সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে এর আরও ক্ষতি হতে পারে এবং স্থানীয় শিশুদের জন্য খেলার সুযোগ আরও কমে আসবে। এ কারণে নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন তারা দ্রুত মাঠের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়।
অবশেষে, নন্দীগ্রাম পাইলট হাই স্কুলের মাঠের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ একটি জরুরি প্রয়োজন। আশা করা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং মাঠটি পুনরায় শিশুদের খেলার উপযোগী করে তুলবে।
