জাতীয়, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

কোভিড-১৯: টেস্ট কতটা সংকটে?

কোভিড-১৯: টেস্ট কতটা সংকটে?
June 29
10:12am 2020

আই নিউজ বিডি ডেস্ক

আই নিউজ বিডি ডেস্কবিশ্বজুড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেল। শুরুর গল্পটা সবার জানা থাকলেও শেষের গল্পটা কেউই জানে না। কোভিড-১৯–এর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্বকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে, তা এখনো অজানা।

গোটা বিশ্বে সকল ব্যবস্থাপনাকে পঙ্গু করে রাখা করোনা ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সুস্থ থাকাটাই মানুষের এখন একমাত্র লক্ষ্য। প্রতিদিন দেশের খবরের পাতায় অপ্রত্যাশিত সংবাদ– বিক্রি হচ্ছে স্কুল! সংকীর্ণ হতে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। চাকরি হারিয়ে চিরচেনা শহর ছেড়ে গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা। চারদিকে অসহায় মানুষদের অভাবের আর্তনাদ। কিটের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র। বিষয়গুলো হৃদয়বিদারক।

যত দিন যাচ্ছে করোনা প্রতিরোধের সংগ্রাম ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। যার কারণে এখন আরো বেশিসংখ্যক মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। অন্যথায় হুমকির মুখে পড়তে হবে প্রিয় দেশকে।

কিটই হচ্ছে বর্তমান করোনা প্রতিরোধের হাতিয়ার। আর সেই কিটের সরবারহ নেই বলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের করোনা পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো। কোথাও আবার নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে চাইলেও টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশজুড়ে রোগী বাড়লেও সেই তালে বাড়ছে না টেস্টের সংখ্যা।

বর্তমানে সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৬৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে করোনার নমুনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে বাংলাদেশে। অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না শুধু পরীক্ষা কিটের অভাবে।

প্রতিদিনই বন্ধ হচ্ছে গড়ে ৫ বা ৬টি কেন্দ্র। কিটের অভাবে কয়েকটি ল্যাবরেটরি ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষা স্থগিত রাখছে। দেশের অন্তত ৯টি জেলার ১২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে কিটের সংকট দেখা দিয়েছে। যার জন্য সংক্রমণের সাথে কিটের সংকটও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

দেশে যখন প্রতিদিনিই করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে; তখন করোনা পরীক্ষায় কিটের স্বল্পতা এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিটের সংখ্যা বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে।

 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া লাখ এবং সংক্রমণ মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

প্রতিদিনই হাজারো মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় মারাত্মক চাপে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। দেখা যাচ্ছে প্রায়ই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ মানুষ মারা যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনেও বলা হচ্ছে প্রতিদিনই হাসপাতালের বাইরে বাড়িতে মারা যাচ্ছেন বেশকিছু রোগী।

দেশে সংক্রমণের শুরুর দিকে কিছু সঠিক পদক্ষেপ অভাব ছিলো, তা বলতেই হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি চিহ্নিত করা, রোগ শনাক্ত করা, শনাক্ত হওয়া রোগীকে আইসোলেশনে নেয়া, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করাসহ জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল। সেই মৌলিক কাজগুলো হয়নি বলেই সংক্রমণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

কিট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, এই ক্রান্তিকালে কিটের সংকট ভীষণ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কেননা, এর কারণে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই বিলম্বিত হচ্ছে তা নয়, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠেছেন কিনা তাও জানা যাচ্ছে না। দেশের জনসংখ্যার বিচারে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে না।

এদিকে টেস্টিং কিটের চেয়ে ল্যাবরেটরির অভাবকে বড় সংকট হিসাবে দেখছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

যেখানে প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা উচিত। কিন্তু এ পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫৫২টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তাও মাত্র এক দিন, ১৭ জুন।

পরীক্ষার হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ায়ও বেশ পিছিয়ে। যে কয়জনের পরীক্ষা হচ্ছে; তাদের রিপোর্ট পেতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যার ফলে অন্যদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী টেস্ট করাতে না পেরে ফিরে গেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগ্রহীদের জানিয়ে দিচ্ছেন কিট না আসা পর্যন্ত আর কোনো টেস্টের সিরিয়াল দেয়া হবে না। আর কবে এই কিট পাওয়া যাবে তা কেউই বলতে পারছেন না।

এদিকে, যত বেশি পরীক্ষা হবে, তত বেশি মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়বে। আর যত বেশি ধরা পড়বে তাদেরকে অতি দ্রুত আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে।

এমন সূত্রকে ফলো করে লাগাম টেনে ধরছে করোনা প্রতিরোধের রোল মডেল দক্ষিণ কোরিয়া। গণহারে বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষাঢ বিশ্বে কোরিয়া এগিয়ে। শুধু কিট আবিষ্কারে তারা বসে নেই, এটার দ্রুত কার্যক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে দেশটি।

আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার দ্রুত ফলাফলের প্রত্যাশায় এমন কিটের গবেষণ চালিয়ে যাচ্ছে কোরিয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যা কিনা মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

কোরিয়ার ইউনহাপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নতুন কিটগুলো জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি মায়ের প্রসবের আগে করোনায় আক্রান্ত কিনা; তা দ্রুত নির্ধারণ করতে পারবে। এছাড়া অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে যেখানে ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য সন্দেহজনক রোগীদের পরীক্ষা করা দরকার, তাও এই কিট দিয়ে সম্ভব হবে।

করোনারোধে এমন জরুরি ডায়াগনস্টিক কিট প্রবর্তণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও বর্তমান করোনা পরীক্ষার কিটগুলো ফলাফল দেখাতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় নেয়।

কোরিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি দ্রুত অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।

করোনা মোকাবিলায় কোরিয়া সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবরোধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে কিটসহ চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বন্ধুত্বের অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করেছে।

তবে এ মুহূর্তে দেশ এবং দেশের মাষুদের বাঁচাতে হলে অনেক বেশি পরীক্ষার প্রয়োজন আর তার জন্য লাগবে কিট। এ দিকে কড়া নজর রাখতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠকদের।

যদিও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটের জন্য খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থের সঠিক পরিচালনা হয়তো করোনা প্রতিরোধে অনেকটা সহায়ক হবে বলে মনে

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

বিক্রয় প্রতিনিধিরাও বাঁচতে চায়। ৮দফা দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

বিক্রয় প্রতিনিধিরাও বাঁচতে চায়। ৮দফা দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

চৌগাছার মুকুন্দপুর গ্রামের আলী সরদার আর নেই,  গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চৌগাছা শাখা

চৌগাছার মুকুন্দপুর গ্রামের আলী সরদার আর নেই, গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চৌগাছা শাখা

করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণা: ডা. সাবরিনা গ্রেফতার

করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণা: ডা. সাবরিনা গ্রেফতার

ডা. সাবরিনাকে রিমান্ডে নেবে পুলিশ

ডা. সাবরিনাকে রিমান্ডে নেবে পুলিশ

সেই বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করল মালয়েশিয়া

সেই বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করল মালয়েশিয়া

প্রতারক সাহেদের সিলেট কানেকশন

প্রতারক সাহেদের সিলেট কানেকশন

বাসা ভাড়া সংকট চরমে জবি শিক্ষার্থীদের, কমিটি করে সময়ক্ষেপণ প্রশাসনের

বাসা ভাড়া সংকট চরমে জবি শিক্ষার্থীদের, কমিটি করে সময়ক্ষেপণ প্রশাসনের

তৃতীয় দফায় করোনা পরীক্ষা করালেন মাশরাফী

তৃতীয় দফায় করোনা পরীক্ষা করালেন মাশরাফী

আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের মূল হোতা দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের মূল হোতা দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার

পূনঃনির্মানের ৪ দিনেই ভেসে গেলো বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া এডিবির ড্রেন

পূনঃনির্মানের ৪ দিনেই ভেসে গেলো বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া এডিবির ড্রেন

অমিতাভ বচ্চন করোনা আক্রান্ত

অমিতাভ বচ্চন করোনা আক্রান্ত

পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে তলব করেছে দুদক

পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে তলব করেছে দুদক

অনিয়মে জড়িত থাকলে বদলি নয়, বরখাস্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

অনিয়মে জড়িত থাকলে বদলি নয়, বরখাস্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

যাত্রী সেজে ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার ১

যাত্রী সেজে ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার ১

অবশেষে মাস্ক পরলেন ট্রাম্প

অবশেষে মাস্ক পরলেন ট্রাম্প

সর্বশেষ

তিস্তায় বাড়ছে পানি ভাঙছে বাড়ি

তিস্তায় বাড়ছে পানি ভাঙছে বাড়ি

থানা হেফাজতে মৃত্যু : বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

থানা হেফাজতে মৃত্যু : বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

গত ১ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৮ জন নিহত

গত ১ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৮ জন নিহত

প্রতারক সাহেদের সিলেট কানেকশন

প্রতারক সাহেদের সিলেট কানেকশন

ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে

ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে

সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ, দেখার কেউ নেই

সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ, দেখার কেউ নেই

পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে তলব করেছে দুদক

পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে তলব করেছে দুদক

তৃতীয় দফায় করোনা পরীক্ষা করালেন মাশরাফী

তৃতীয় দফায় করোনা পরীক্ষা করালেন মাশরাফী

বেসরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানে করোনা টেস্ট স্থগিত

বেসরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানে করোনা টেস্ট স্থগিত

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল সানিয়ার

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল সানিয়ার

ডা. সাবরিনাকে রিমান্ডে নেবে পুলিশ

ডা. সাবরিনাকে রিমান্ডে নেবে পুলিশ

"প্রেস বিজ্ঞপ্তি"

"প্রেস বিজ্ঞপ্তি"

চৌগাছায় ভোয়া খালে সড়কবিহীন ভুয়া কালভার্ট!  কোন প্রয়োজনে লাগবে সড়ক বিহীন এই সেতু প্রশ্ন এলাকাবাসির

চৌগাছায় ভোয়া খালে সড়কবিহীন ভুয়া কালভার্ট! কোন প্রয়োজনে লাগবে সড়ক বিহীন এই সেতু প্রশ্ন এলাকাবাসির

অনিয়মে জড়িত থাকলে বদলি নয়, বরখাস্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

অনিয়মে জড়িত থাকলে বদলি নয়, বরখাস্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

পূনঃনির্মানের ৪ দিনেই ভেসে গেলো বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া এডিবির ড্রেন

পূনঃনির্মানের ৪ দিনেই ভেসে গেলো বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া এডিবির ড্রেন