EyeNewsBD

জাতীয়, প্রবাসে বাংলা

প্রবাস জীবনে রোজার অনুভূতি কেমন?

প্রবাস জীবনে রোজার অনুভূতি কেমন?
April 26
08:07am 2020

বছর ঘুরে আবারও আমাদের সকলের সামনে হাজির হলো পবিত্র মাহে রমজান। আমরা যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি, আমাদের সকলের কাছে এ মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মুসলমানই এ সময় আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে।

২৪ এপ্রিল, শুক্রবার। ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজকের থেকে রমজান মাস শুরু হলো। ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করা ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তাই আজ সেহরির মাধ্যমে তাদের প্রথম রোজার জন্য নিয়ত করা শুরু করবেন। মধ্য ইউরোপে অবস্থিত ৭,৮২৭.৪ বর্গমাইলের ছোট্ট একটি দেশ স্লোভেনিয়া, যার উত্তরে রয়েছে অস্ট্রিয়া, উত্তর-পূর্বে হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পূর্বে ক্রোয়েশিয়া, পশ্চিমে ইতালি এবং দক্ষিণে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূল অবস্থিত। ইউরোপ তথা পৃথিবীর অনেক দেশের মতো স্লোভেনিয়াতেও আজকের থেকে রমজান মাসের সূচনা হয়েছে। প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশনের অধীনে থাকা স্লোভেনিয়া আয়তনে যেমন ছোট ঠিক তেমনি জনসংখ্যার বিচারেও তেমন একটি বড় নয়। প্রায় একুশ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ রাষ্ট্রে বাইরের ইমিগ্র্যান্ট বলতে গেলে যুগোস্লাভিয়ার ফেডারেশনের অধীনে থাকা অন্যান্য দেশ যেমন: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া, মেসিডোনিয়া, মন্টিনেগ্রো, ক্রোয়েশিয়া, এক সময় সার্বিয়ার অধীনে থাকা আলবেনীয় অংশ যা কসোভো নামে পরিচিত, এ সকল দেশেরই যারা বসবাস করেন স্লোভেনিয়াতে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা তাই এখানে বলতে গেলে অনেকটাই হাতেগোনা। এরপর কোন সুসংগঠিত কমিউনিটি না থাকায় এবং একইসঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক মানদণ্ডের বিবেচনায় ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন: ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, গ্রীস, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল এ সকল দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতো শক্তিশালী না হওয়ায় সে অর্থে এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সে রকম কোন যোগসূত্রও নেই। তাই রমজানের অনুভূতি এখানে বলতে গেলে অনেকটাই শূন্যে মিলিয়ে যাওয়ার মতো। এরপর এ বছর পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো স্লোভেনিয়াতেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দেশটিতে বসবাস করা মানুষের জীবন অনেকটাই থমকে গিয়েছে। গত মাসের ১৯ তারিখ থেকেই করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সম্পূর্ণ স্লোভেনিয়াকে জরুরি অবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে এবং দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জরুরি প্রয়োজন না হলে কেউই যেন বাসা থেকে বাইরে বের না হয়। বাস, ট্রেনসহ সকল ধরণের গণপরিবহণ সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। স্লোভেনিয়ার অভ্যন্তরে এক মিউনিসিপালিটি থেকে অন্য মিউনিসিপালিটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট ফ্যাক্টরি, কিছু নির্দিষ্ট খাবারের দোকান, সুপার শপ, পেট্রোল স্টেশন, হাসপাতাল, ফার্মেসি অর্থাৎ নিত্য প্রয়োজনীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি সকল ধরণের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রত্যেক বছরই রোজার সময় আসলে প্রিয় বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে যায় অনেক। রোজার কিংবা ঈদের আনন্দ বলতে গেলে এখানে অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক, হয়তো বা যদি কখনও ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া হয় এবং সেখানে যদি ইসলাম ধর্মাবলম্বী অন্য কোনও স্টুডেন্টের সঙ্গে দেখা হয়, তাই যা একটু আনন্দ তাকে ঘিরে এতোটুকুই। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ বছর আর সেটিও হচ্ছে না। দাঁত থাকতে মানুষ তার ডেট মর্ম বোঝে না। বাংলাদেশে যখন ছিলাম তখন আসলে বুঝিনি যে বাংলাদেশ ছেড়ে যখন বিদেশে আসবো জীবন থেকে "অনুভূতি" নামক একটি শব্দকে হারিয়ে ফেলবো। স্লোভেনিয়াতে হয়তো বা সব রয়েছে বাংলাদেশে থাকার সময় যা চেয়েছিলাম, কিন্তু নেই সেই প্রিয় মানুষগুলো। এ বছরের রমজানের প্রথম সেহরি করলাম কিন্তু আজকে পাশে নেই পরিবারের সদস্যদের কেউ। ঘুম থেকে জেগে তোলার মানুষটির জন্য আজকে মনটা কেঁদে উঠছে ভীষণভাবে। বড় একাকী একটি জীবন, কেউই আজ পাশে নেই। মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয় না অনেক দিন হলো। বাংলাদেশে রমজানের একেকটি দিন ছিল সত্যি অনেক আনন্দের, এখানে তার ছিটেফোঁটাও নেই। পুরাতন ঢাকার মতো এখানে নেই কোন চকবাজার, নেই কোনও বিপণি যেখানে প্রতিদিন বিকেলে পসরা সাজিয়ে বসবে সুস্বাদু বিভিন্ন ইফতারির আইটেম। মসজিদের আজানের সুর কিংবা ঘুম ভাঙানোর গান এখন কেবল অন্তরে বাজে। এরপর ব্যাচেলর লাইফ, একটু যত্ন করে রান্না করে খাওয়ানোর মতো কেউই নেই। কোন রকম একটু কিছু উনুনে জ্বালিয়ে যা হয় তা দিয়েই নিজেকে চালাতে হয়। এরপর সেমিস্টারের মাঝামাঝি হওয়ায় পড়াশুনার চাপ তো আছেই। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। যদিও বাস্তবের ক্লাস আর অনলাইন ক্লাসের মধ্যে আসমান-জমিন ফারাক, কিন্তু সঠিক সময়েই সেমিস্টার শেষ করতেই হবে। মিডটার্ম পরীক্ষার পাশাপাশি এক গাঁদা হোমওয়ার্কের চাপ। থেমে নেই কোন কিছুই। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সব কিছুতে বিষাদের মাত্রা বাড়িয়েছে অনেক। খুব শীঘ্রই দেশে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। স্বার্থকতা শুধু এক জায়গায় নিজের ভালোলাগার সে মুহূর্তগুলো শিশিরের মতো ভোরের আলোয় মিশে গিয়েছে বলে একটু করে হলেও বুঝতে পেরেছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা সেই সকল মানুষদের যারা খাদ্য, বাসস্থানসহ তাদের জীবনের প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। এটিই হয়তো বা সিয়াম সাধনার প্রকৃত উদ্দেশ্য। ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে "এতটুকু আশা" নামক একটি বিখ্যাত ছবির রিলিজ হয়েছিল। প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বারের কণ্ঠে সেই সময় এ চলচ্চিত্রের একটি বিখ্যাত গানের কয়েকটি লাইন ছিল এরকম- প্রতিদিন কত খবর আসে যে খবরে পাতা ভরে/ জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। প্রতিদিনের সংবাদপত্রে ঠিক এমনভাবে হাজারো খবর ছাপা হলেও প্রবাসীদের জীবনের সেই অনুভূতিগুলো অগোচরে থেকে যায়। বুকের সমস্ত অনুভূতিকে পাথর চাপা দিয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তাদের অদম্য প্রচেষ্টায় আমাদের দেশকে বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে। এক মাস পর রমজান মাস চলে যাবে, ঈদের আনন্দে রাঙিয়ে উঠবে গোটা ধরিত্রী, কিন্তু তাদের জীবন পাতার কোন পরিবর্তন সে অর্থে আসবে না। সব কিছুই অপ্রকাশ্য থেকে যাবে। ত্যাগের মধ্য দিয়েই বোধ হয় রচিত হয় প্রবাসের জীবনের স্বার্থকতা। সব কিছু থাকলেও যে জীবন যে বড়ই রিক্ত। এ রমজান সকলের ভালো কাটুক, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠুক মাহে রমজানের আনন্দ। একইসঙ্গে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে ফরিয়াদ জানাই, যেন করোনার ভয়াবহ ছোবল থেকে খুব শীঘ্রই এ ধরিত্রী মুক্ত হতে পারে। অনন্ত যৌবনা বসন্তের মতো ধরিত্রী আবার ফিরে আসুক তার আগের রূপে, সব কিছু ফিরে পাক তার সেই হারিয়ে যাওয়া কর্মচাঞ্চল্য। সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা।

ভয়কে জয় করতে এসেছে রমজান

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত পৃথিবী। মানুষের টুঁটি চেপে ধরছে ভয়। সে ভয়কে জয় করার জন্য সোনালি বার্তা নিয়ে এসেছে মাহে রমজান।
পাপে জরাজীর্ণ জীবনের বর্ণিল অধ্যায় রচিত হোক রমজানের নির্মল ছোঁয়ায়। রহমতের ধারায় পবিত্র হবে পৃথিবী, মাগফিরাতের পেয়ালায় জীবন হবে সজীব। আর নাজাতের জীয়নকাঠিতে আসবে নবজাগরণ। এ জন্য করতে হবে রমজানের যথাযথ মূল্যায়ন, বুঝতে হবে হাকিকত। অর্জন করতে হবে তাকওয়া।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)। তাকওয়ার বাংলা অর্থ হচ্ছে পরহেজগারী। এই যে মানুষ জীবন ভর আল্লাহর বিধি-নিষেধ অমান্য করে নফসের গোলামি করছে, অন্যায়-অবিচার-পাপাচারে বিষিয়ে তুলেছে পৃথিবী নামক গ্রহটাকে, সেসব বর্বরতা, দ্বীনহীনতার অবসান ঘটিয়ে সভ্যতার ফুল ফোটাতে তাকওয়া হল পরশপাথর। তাই আসুন তাকওয়া অর্জনে রমজানকে কাজে লাগাই। হোম কোয়ারেন্টিনের সময়টাতে পরিবারকে হাকিকি রোজার প্রতি উদ্বুদ্ধ করি। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা রাখবে, তার অতীত জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’ (বুখারি শরিফ, হাদিস নম্বর ২০১৪)। রোজা মানেই কেবল উপবাস থাকা নয় বরং আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে অন্তরের কলুষতাকে পুড়িয়ে ফেলার নামই রমজান। তাহলেই সওয়াবের ফুলে ভরে উঠবে আমাদের বাগান। যদিও মসজিদের জন্য আামদের হৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে, তবুও এ মহামারীর কারণে ঘরেই নামাজ আদায় করতে হবে। আল্লাহর ইচ্ছায় ঘরের নামাজেই মসজিদে নামাজ আদায়ের সওয়াব পাওয়া যাবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা যদি কোনো নেক কাজ নিয়মিত পালন করে। আর কোনো রোগ বা ভ্রমণের কারণে সে আমল করতে না পারে তাহলেও ওই আমলের সওয়াব তার আমলনামায় যোগ হতে থাকবে’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ২৭৩৬)। রোজা-তারাবির পাশাপাশি পবিত্র কোরআন চর্চার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবারের যারা কোরআন পড়তে জানে না, তাদের শেখাতে হবে। কোরআন আলোকিত জীবনের পথ দেখায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে এক নুর এবং কিতাব’ (সূরা মায়িদা, আয়াত ১৫)। পবিত্র কোরআন শুধু পড়ার জন্যই আল্লাহ নাজিল করেননি। কোরআনকে বোঝা এবং গবেষণার জন্যও তাগিদ দেয়া হয়েছে। কোরআন এমনই এক সংবিধান, যা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে প্রেমময় বন্ধনকে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মানবজীবনের ছোট-বড় সব সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে।
আধুনিক বিশ্বে অমুসলিমরা যেখানে কোরআন নিয়ে গবেষণা করে নানা কিছু আবিষ্কার করে চলেছে, সেখানে আমরা মুসলমানরা শুধু কোরআনের ওপর চোখ বুলিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছি। এ জন্যই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? না কি তাদের অন্তরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে?’ (সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ২৪)। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ এখন ঘরবন্দি। বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জনের চাকা। বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্ররা। একমুঠো খাবারের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে। কেউ সাহায্য পাচ্ছেন, আবার কেউ সাহায্যের বদলে বঞ্চিত হয়ে ঘরে ফিরছেন। অনেকেই আছেন, যারা পেটে খাবার না থাকলেও লজ্জায় কারও কাছে হাত পাততে পারেন না। আমাদের উচিত এ মানুষগুলোকে খুঁজে বের করা। তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। তাদের সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করা। নবীজি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মানুষ তারা, যারা মানুষকে খাওয়ায়’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নম্বর ২৩৯৭১)। সমাজের বিত্তবানরা ইতালি, আমেরিকার দিকে তাকান। দেখুন তাদের সম্পদ আছে, কিন্তু সম্পদ ভোগ করার মতো সময় পাচ্ছে না আজ। সবকিছু ছেড়ে আচমকাই চলে যেতে হচ্ছে তাদের। এমনটা যে আপনারও হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? তাই সময় থাকতে সম্পদকে কাজে লাগান। অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। যাদের জাকাত ফরজ হয়েছে, এখনই জাকাত আদায় করে ফেলুন। রোজা, দান-সদকার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তে হবে। নফল নামাজ আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে দেয়। এর মাধ্যমে বান্দার পাপ মুছে যায়। গোনাহ মাফের আরেকটি সহজ উপায় হচ্ছে তওবা। বান্দা যখন তার গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়, কায়মনোবাক্যে তাঁকে ডাকে, তখন আল্লাহ বান্দার প্রতি খুশি হন। সদয় হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে তওবা কবুলের শর্ত হচ্ছে দৃঢ় অঙ্গীকার করা। বান্দা আর পাপে জড়াবে না, এমন দৃঢ় অঙ্গীকার করলেই আল্লাহ তওবা কবুল করেন। আমাদের সীমালঙ্ঘনের কারণেই এমন বিপর্যয় নেমে এসেছে পৃথিবীতে। আল্লাহতায়ালা বারবার সাবধান করে দিয়েছিলেন, হে মানুষ! তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। প্রকৃতির সঙ্গে সদয় ব্যবহার করো। কিন্তু মানুষ সে নির্দেশ মানেনি। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ না করে, প্রকৃতির প্রতি উদার না হয়ে, মানুষ পরিণত হয়েছিল দানবে। সে জন্যই আজ আমাদের প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়েছেন। যার ফলে মানবজাতিকে এ বিভীষিকায় পড়তে হয়েছে। তাই আসুন আমরা ওয়াদাবদ্ধ হই, একে অন্যের প্রতি সদয় হব। সৃষ্টির সেবক হব। যেন আল্লাহতায়ালা মুক্তির এ রমজান মাসে আমাদের করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করেন।

করোনাভাইরাস ও ছোটবেলায় বাঘের গল্প

আমাদের নহাটা একটি ইউনিয়ন, একটি গ্রাম এবং একটি বাজার। এটি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় অবস্থিত। আর নহাটার পাশের গ্রামের নাম নারানদিয়া। ফুল মিয়া নামে দূর সম্পর্কের এক চাচা সেই গ্রামে বাস করতেন। তার ছিল একটি বন্দুক। এলাকায় আমার বাবা এবং হাতে গোনা তিন চারজনের বন্দুক ছিল। তবে ঢাল সড়কির অভাব ছিল না তখন। ঝগড়া হলেই গ্রামের মানুষ ঢাল সড়কি নিয়ে বেরিয়ে পড়ত যা আমি দেখেছি ছোটবেলায়। চাচা ফুলমিয়ার বন্দুক পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত হতো। তখন নহাটা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামগুলো ছিল জঙ্গলে ভরা। সন্ধ্যা লাগলেই নেমে আসতো গাঢ় অন্ধকার। তখন গ্রামের বাড়িতে বাথরুমের কোনো বালাই ছিল না। প্রকৃতির ডাক এলেই বদনা হাতে ছুটতে হতো বাগানে বা মাঠে। আমার বয়স আর কত হবে তখন ৪-৫ বছর। মুরব্বীদের মুখে যে গল্পগুলো শুনেছি তার বেশির ভাগই ভুত, পেত্নী থেকে শুরু করে কলেরা বা নানা ধরণের মহামারী অথবা সাপ বা বাঘের ভয়ঙ্কর গল্প। জোনাকি পোকা আর চাঁদের আলো ছিল একমাত্র অন্ধকারে পথ চলার মাধ্যম। জোনাকি পোকা আলো জ্বালিয়ে আশপাশ দিয়ে উড়ে বেড়াত, মনে হতো এক মিরাকেল আলো যা দেখতে ভালোই লাগত। তাছাড়া ভুত পেত্নীর গল্প শুনতে শুনতে ভয়ে সোজা বিছানায় গিয়ে ঘুম।
এর মধ্যে হঠাৎ একদিন এক বাস্তব ঘটনা ঘটে গেল। সারা এলাকায় খবর ছড়িয়েছে রাতে বাঘ এসে পাশের গ্রামের এক কৃষকের গরু খেয়ে ফেলেছে। সে সময় বৈশাখ অথবা জ্যৈষ্ঠ মাস, সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই বাঘের পায়ের চিহ্ন দেখতে এসেছে। কী বিশাল বাঘের পায়ের ছাপ পড়েছে কাদার উপর। আমরা যারা ছোট খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আম কুড়াতে যেতাম, সেসব কিছু বন্ধ হয়েছে। রাখো তোমার আম কুড়ানো, জীবন নিয়ে চলছে টানাটানি। রাতে পায়খানা-প্রস্রাব পর্যন্ত বন্ধ ছিল। কাজ একটাই শুধু আল্লাহকে ডাকা। সেবার বন্যার কারণে সুন্দর বনের বাঘ গ্রামে ঢুকে রাতের আঁধারে গরু ছাগল খাওয়া শুরু করেছে। এমন একটি গুজব রটেছে গ্রামে যা শুনে আমরা সবাই তখন আতঙ্কিত। সন্ধ্যা আসতেই বাঘের ভয়ে ঘরে ঢুকে পড়াশুনা করতে বসাই ছিল একমাত্র কাজ। হঠাৎ একদিন অন্ধকার রাতে বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে গ্রামের এক স্কুলের পাশের বাগানে কিছু মানুষ বাঘ দেখতে পায় বলে দাবি করে। এই খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে পরে গোটা গ্রাম। গ্রামের লোকেরা লাঠি, মশাল নিয়ে হল্লা পার্টি বের করে রাস্তায়। সকালে আমরা বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাই। সেটা বাঘের নাকি অন্য কোন জন্তুর বলতে পারব না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মহম্মদপুর থানার পুলিশ। বিষয়টি এলাকার মানুষের নজরে আনা হয়। এরই বাঘের কামড়ে একজনের একটি গরু মারা যায়। সব মিলে আতঙ্কে রয়েছে গোটা গ্রাম। অতিরিক্ত জেলা বনাধিকারিক শহর থেকে গ্রামে এসে বললেন, গুজব বা সত্যি যাই হোক বিষয়টি তদন্ত হবে। সবাই ঘটনা স্থলে এসেছে। পায়ের ছাপ ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত জেলা বনাধিকারিক বললেন, এটা মনে হচ্ছে গুজব। কারণ, সুন্দরবন থেকে বাঘ এখানে আসার ইতিহাস নেই। তবে আমরা সতর্ক আছি বলে চলে গেলেন। চাচা ফুল মিয়া বিষয়টি নিয়ে বেশ ভাবনায় পড়েছেন এবং নানা ধরণের প্লান প্রোগ্রামে ব্যস্ত। তিনি জঙ্গলের এক বড় গাছের উপর মাচাল বেঁধেছেন। সেখানে উঠে নিজেকে ভালো মত গাছের সঙ্গে বেঁধে বন্দুক নিয়ে রেডি। কখন বাঘ আসবে সেই আশায় বসে আছেন গাছে উঠে। এক দুইদিন চলে গেল অথচ এমন সুন্দর বন্দুক, তার আওয়াজ শোনা গেল না। ব্যাপার কী? তৃতীয় দিন চাচা ক্লান্ত হয়ে কোন এক সময় ঘুমিয়ে পড়েছেন। ঘুমের ঘোরে তার হাতের বন্দুক থেকে দুডুম করে একটি গুলি বেরিয়ে যে শব্দ তৈরি করেছে তাতে সবাই ধারণা করেছে ঘটে গেছে ঘটনা। চাচা ফুল মিয়া বাঘ শিকার করেছেন। কিন্তু না, বাঘ শিকার হয়নি তবে চাচা ফুল মিয়ার কার্যকলাপ দেখেছি তখন। তিনি গ্রামে বসবাস করলেও বেশ স্টাইলিস্ট ছিলেন। মাঝে মধ্যে তিনি ইংরেজি বলতেন। কাপড় চোপড়ে বেশ বিদেশি বিদেশি ভাব ছিল। যেমন তিনি “hat and coat” পরতেন। এবারের করোনাভাইরাসের সময় হঠাৎ মনে পড়ে গেল ছোটবেলার সেই বাঘ শিকারের প্লান এবং আরও কত কী! চাচা ফুল মিয়া আজ বেঁচে নেই। থাকলে করোনার বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই কিছু একটা করতেন।

গর্ভাবস্থায় মায়েরা কি রোজা রাখতে পারবেন?

হবু মায়েরা রোজা রাখতে পারবেন কি না তা নিয়ে চিন্তিত অনেকেই। বিশেষ করে আপনজনেরা দুশ্চিন্তায় থাকেন গর্ভবতী মা এবং তার অনাগত সন্তানের সুস্থতা নিয়ে।
গর্ভাবস্থায় মায়েরা কি রোজা রাখতে পারবেন, রোজা রাখলে তাদের করণীয় কী- যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন ইম্পেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেডের অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট (গাইনি বিভাগ) ডা. নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, গর্ভবস্থায় মায়েরা রোজা রাখতে পারবেন। তবে যেসব মায়েরা এ সময় কোনো ধরনের শরীরিক সমস্যায় ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে রোজা না রাখাটাই উত্তম। ডা. নুসরাত বলেন, এসব মায়েদের রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সন্তানের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা আছে কিনা তা জানতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, প্রস্রাবের ইনফেকশন থাকলে রোজা না রাখাই ভালো।
গর্ভের প্রথম তিন মাস রোজা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস রোজা রাখলে সমস্যা হতে পারে। কারণ এ সময় অতিরিক্ত বমি হয়ে থাকে। এছাড়া দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে যায়। রোজা রাখলে করণীয় ১. সেহরিতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। একবারে বেশি পানি পান করা যাবে না। শুধু পানি না খেয়ে লেবুর শরবত খাওয়া যেতে পারে। এতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন। ২. ইফতারে বিভিন্ন ধরনের তাজা ফলের রস, ডাবের পানি ও খেজুর খেতে পারেন। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম যা দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে। তাই খেতে পারেন কলাও। ৩. দুধ প্রোটিনের ভালো উৎস। সেহরিতেও দুধ খেতে পারেন। ৪. ইফতারে ভাজাপোড়া না খেয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই ভালো। ৫. গর্ভাবস্থায় অনেকের ওষুধ খেতে হয়। দিনের বেলার ওষুধগুলো রাতে খেয়ে নিবেন। আর যেসব ওষুধ দুইবার খাবার নিয়ম আছে তা ইফতারের সময় একবার ও শেষরাতে আরেকবার খেয়ে নিন। যেসব সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন ১. প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে, বমি হলে কিংবা অজ্ঞান হয়ে গেলে। ২. গর্ভাবস্থায় সন্তান ১২ ঘণ্টায় দশ থেকে বারো বার নড়াচড়া করে। নড়াচড়া কম অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৩. ডিহাইড্রেশনের কারণে অনেক সময় ইউটেরাসের কনট্রাকশন শুরু হতে পারে। তাই লেবার পেইন বা পেটে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোজায় সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের ১০ পরামর্শ

রমজান মাসে ধর্মীয় বিধি-বিধানের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য সুস্থ থাকা খুবই জরুরি।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সেহরি ও ইফতারে খাদ্য দ্রব্য বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এ সময় জীবযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আসেন,পরিবর্তন আসে নিয়মিত কাজের ধরনেও। রোজায় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ স্বাস্থ্য ঠিক রেখে কিভাবে রোজা করবেন বা রোজার সময় কোন ধরনের খাদ্য দ্রব্য বেশি নেয়া উচিত তা জানা প্রয়োজন। এ বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে, তেমনি সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে।
তবে তার মতে, কোনোভাবেই বেশি খাওয়া যাবে না। পুষ্টিবিদ অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন, রোজার পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। তবে এর মধ্য বিশুদ্ধ পানি ও ফলের রসই বেশি কাজে লাগে। তিনি বলেন, ইফতারে ঘরে তৈরি খাবারই সবচেয়ে নিরাপদ। বেশি তেলে ভাজা বাজারের ইফতার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গোলাম মাওলা ও নাজমা শাহীন দুজনই মনে করেন তৈলাক্ত খাবার, ভাজা পোড়া বর্জন করাই ভালো। বরং ফল ও খেজুর শরীরে পুষ্টি ও শক্তি যোগাবে। রোজায় সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের ১০ পরামর্শ- ভাজাপোড়া খাবার নয় অধ্যাপক গোলাম মাওলার মতে, মাছ ডাল ভাত আদর্শ খাবার। ভোররাতে গরুর মাংস এড়িয়ে মুরগী খেলে ভালো হবে। তবে শাকসবজি ও ডাল শরীরের জন্য ভালো হবে। খাদ্য তালিকায় কী থাকবে? পানি, ফল, চিড়া, রুটি, ভাত, সবজি, ডাল, ডিম, হালকা খিচুড়ি খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার শরীরে শক্তি বাড়ায়। সতর্ক হয়ে খেতে হবে অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন, মাঝেমধ্যে ইফতারির পর হালকা কম তেলযুক্ত তেহারি খাওয়া মন্দ না। নিয়মিত খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে পুষ্টিবিদ নাজমা শাহীন বলছেন, নিয়মিত যেসব খাবার খান রোজার সময়েই সেগুলোই তার জন্য যথেষ্ট। তবে সারাদিন রোজা পালন শেষে পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত। শারীরিক পরিশ্রম কমানো ও শান্ত থাকা রোজার সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম গোলাম মাওলা বলছেন, একেবারে অলস থাকাও যেমন ক্ষতিকর তেমনি অতিরিক্ত পরিশ্রমও ক্ষতিকর হবে। সহজে যাতে হজম হয় অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন, রোজা পালনকারী ব্যক্তিকে বুঝতে হবে কোন খাবারগুলো সহজে হজম হয়। এসব খাবারকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব খাবার হজমে সমস্যা করে সেগুলো না খাওয়াই ভালো। একবারে বেশি খাবার থেকে বিরত থাকা অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। ফল ও সবজি দিয়ে পরিমাণ মতো ইফতার করা যেতে পারে। খাবার কিভাবে খাবেন? গোলাম মাওলা ও নাজমা শাহীন দুজনই বলছেন, ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। ইফতারির শুরুতেই পানি শরীরের জন্য উপকারী। পাশাপাশি খেজুর খেতে হবে। যা শরীরে শক্তি যোগান দেবে। স্যুপ হতে পারে দারুণ খাবার রোজার সময় সারাদিন পর স্যুপ শরীরকে সতেজ রাখে ও হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, শাক সবজি, বাঁধাকপি বাদ দিয়ে ফুলকপির স্যুপ বা লেটুস পাতার স্যুপ অনেক উপকারী। লেটুস পাতায় কোনো গ্যাস হয় না। খাবার ও জীবনাচরণ ঠিক রাখা অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন, শুধু খাবারই নয় বরং এর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। ইফতারের পর বা সেহরির পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত। ঔষধ সেবন যারা দুর্বলতা, ক্লান্তি, অ্যাসিটিডি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। অধ্যাপক গোলাম মাওলা ও অধ্যাপক নাজমা শাহীন দুজনই এসব বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে রোজা রেখেও ঔষধ সেবন করা সম্ভব। কারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইফতার থেকে সেহরির সময়ে ঔষধ সেবন করা যায়।

বিশ্বজুড়ে পর্যটন ব্যবসায় ধস

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যবসায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। সমগ্র অর্থনীতি যেমন বাধাগ্রস্ত তেমনি বিশ্ব পর্যটন প্রায় স্থবির। করোনা মোকাবেলায় লন্ডন থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক, প্যারিস- সবখানেই হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিমান পরিবহন অনেকটা বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা শুরু হয়ে গেছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটনে ক্ষতি হয়েছিল ৭৭০ কোটি মার্কিন ডলার, অন্যদিকে ২০০২ সালে সার্স ভাইরাসের প্রভাবে পর্যটনে লোকসান হয়েছিল ৮২০ কোটি ডলার এবং ২০২০ সালে করোনাভাইরাসে পর্যটনে ৩ হাজার কোটি ডলার লোকসানের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৯ সালে ৮৪০ কোটি মানুষ বিশ্ব ভ্রমণ করেছে। স্পেনে ভ্রমণ করেছে ১ কোটি ৮০ লাখ, চীনে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ও ভারতে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ। বিশ্বব্যাপী হোটেল, রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হোটেল বুকিং প্রায় শতভাগ কমেছে। কানাডাতে এ সময় হোটেল বুকিং কমেছে ৯৪ শতাংশ, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে কমেছে ৯০ শতাংশ, আয়ারল্যান্ডে ৮৬, যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪ এবং যুক্তরাজ্যে ৮২ শতাংশ। ভাইরাসের আতঙ্কে মাটিতে নেমে এসেছে এয়ারলাইনস বা এভিয়েশন শিল্প খাত। কেন না, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ ভ্রমণ স্থগিত রেখেছে। পর্যটন খাত বড় ধরনের বিপদে আছে। মানুষ সফর কম করছে বলে অনেক এয়ারলাইনস এখন আর আকাশে উড়ছে না। বিমান পরিবহনে চীন, হংকং ও তাইওয়ান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে। আবার একই অঞ্চলের বড় অর্থনীতির দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থাও নাজুক। তাদের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে আছে। আবার দূরের দেশগুলোর মধ্যে কানাডা তাদের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে ৫৮ শতাংশ এবং রাশিয়া ৬৭ শতাংশ। এক মাসে চীনের ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে ৯১ শতাংশ, তাইওয়ানের ৯০ দশমিক ৬, হংকংয়ে ৮৬ দশমিক ৪, ভিয়েতনামে ৮৫ দশমিক ৯, থাইল্যান্ডে ৭৬ দশমিক ৯, মালয়েশিয়ায় ৭৫ দশমিক ২, জাপানে ৭৪ দশমিক ৬, দক্ষিণ কোরিয়ার ৬৯ দশমিক ৩, কানাডার ৫৮ দশমিক ২ এবং কম্বোডিয়ার ফ্লাইট বন্ধ ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ। থাইল্যান্ডে মোট পর্যটকের ৩০ শতাংশ চীনা পর্যটক। থাইল্যান্ড ট্যুরিজম অথরিটি সূত্র অনুযায়ী থাইল্যান্ডে পর্যটন থেকে ৩০৫ কোটি ডলার আয় কমতে পারে। ভিয়েতনামে ৫০৯ কোটি ডলার, ইন্দোনিশায় পর্যটন দ্বীপ বালিতে ২০ হাজার হোটেল বুকিং বাতিল করা হয়েছে বিধায় ৪০০ কোটি ডলার লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (আইএটিএ) সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আকাশপথে যাত্রী পরিবহন কমে গেছে ২০ শতাংশের বেশি। আইএটিএ’র ধারণা ছিল এ বছরও বিমানের যাত্রী চাহিদা বাড়বে। তবে সেই বক্তব্য সংশোধন করে তারা জানিয়েছে, এক দশকের মধ্যে অর্থাৎ ২০০৮-০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে প্রথমবারের মতো এ বছর যাত্রী পরিবহন কমছে। তাই খরচ কমাতে বড় উড়োজাহাজের পরিবর্তে ছোট উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রী বহন করছিল বিমান সংস্থাগুলো। কিন্তু তাতেও লোকসানের বোঝা কমাতে পারছে না। তাই ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়েছে সংস্থাগুলো। বাতিল করা হয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব প্যাকেজ ট্যুর।
আইএটিএ’র এই সতর্ক বাণীর সত্যতা এরই মধ্যে অনুভব করতে শুরু করেছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কান্তাস এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, করোনা সংকটে এই আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ভাগে তাদের কর-পূর্ব মুনাফা দশ কোটি মার্কিন ডলার কম হতে পারে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স- কেএলএম জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তাদের আয় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার কমে যাবে। আইএটিএ’র মহাপরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলেকজাঁদ্র দ্য জুনিয়াক বলেন, কোভিড-১৯’র (করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ) কারণে চাহিদার তীব্র মন্দায় বিমান সংস্থাগুলোতে- বিশেষ করে চীনা বাজারের সংস্পর্শে আসাদের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে। ২০২০ সাল এয়ারলাইনগুলোর জন্য ‘খুব কঠিন একটি বছর’ হতে চলেছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের কোনো দেশে রোজা ১১ ঘন্টা, কোনো দেশে ২০ ঘন্টা

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের কোনো দেশে রোজা ১১ ঘন্টা আবার কোনো দেশে ২০ ঘন্টা। গত শুক্রবার আলজাজিরায় প্রকাশিত খবরে এ তথ্য দেওয়া হয়।
মুসলিমদের প্রধান দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনা শরীফসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ, আমেরিকা, স্কান্ডিনাভিয়ান বিভিন্ন দেশে শুক্রবার রোজা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশে রোজা শুরু হয়েছে শনিবার। পবিত্র রমজানে সারাবিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় একযোগে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা করে। সাহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে রোজা শুরু হয় এবং ইফতার গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে আসুন জেনে নিই উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন দেশে রোজা কত ঘণ্টা? ► এবার বাংলাদেশ এবং ভারতে প্রায় ১৫ ঘণ্টার একটু কম বেশি রোজা রাখতে হবে। পাকিস্তানে হবে ১৬ ঘণ্টা।
► সবচেয়ে কম সময়ের রোজা হবে চিলি, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও নিউজিল্যান্ডে। এসব দেশে ১১ ঘণ্টা একটু কম বেশি। ► স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন, নরওয়ে,ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ডে রোজা দীর্ঘ হয়। এসব দেশে ২০-২২ ঘণ্টার একটু কম বেশি রোজা রাখতে হচ্ছে। ► বৃটেনে ১৮ ঘণ্টার একটু কম বেশি। জার্মানিতে ১৯ ঘন্টার একটু কম বেশি রোজা রাখতে হচ্ছে। ► কানাডা, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে, ১৬ থেকে ১৭ ঘন্টার একটু কমবেশি রোজার সময় নির্ধারিত হবে। ► সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রায় ১৫ ঘণ্টার একটু কমবেশি হচ্ছে রোজার সময়। ► রোজা রাখার সঙ্গে সূর্যের উদয়-অস্তের বিষয়টি থাকায় রোজার সময়ও কমবেশি হয়ে থাকে।

জীবন রাঙাই কোরআনের রঙে

আজ পহেলা রমজান। রহমতের প্রথম দিন। দয়াময় মালিকের অফুরন্ত রহমত পেতে আমাদের বেশি বেশি তার সন্তুষ্টির বিষয়গুলোতে মনোনিবেশ করতে হবে।
আল্লাহর অপার অনুগ্রহ প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম আল কোরআন। ইতিহাস সাক্ষী, রুক্ষ মরুর পাষণ্ড মনের আরবীয় জাহেলদের সভ্য আর উন্নত বানাতে পেরেছিল এই কোরআন। সে সময়ের পরাশক্তি রোম আর পারস্য সাম্রাজ্য পদানত করার অন্যতম মূল হাতিয়ার কোরআন। আল কোরআনই অন্ধকারে আলো জ্বালে, অমানুষকে মানুষ বানায়,পথহারাকে পথের দিশা দেয়। কোরআন পড়ে এই সাড়ে চৌদ্দ’শ বছরে কত পথহারা বনী আদম যে পথের সন্ধান পেয়েছে, রঙহীন জীবনে রঙ এনেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। প্রিয় পাঠক! রমজান এসেছে সওগাত নিয়ে, রমজান এসেছে রহমত নিয়ে। রহমত লুফে নিতে সঙ্গী বানাতে হবে মহা গ্রন্থ আল কোরআনকে। যদি আপনি হাফেজ হয়ে থাকুন তাহলে খতমের পর খতম দিতে থাকুন।
যদি আপনি শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে জানেন তাহলে পুরো রমজানে এক খতম কোরআন পড়ার চেষ্টা করুন। যদি আপনার পড়া শুদ্ধ না থাকে তাহলে পণ করুন এই রমজানেই কোরআন শুদ্ধ করবেন যে কোন মূল্যেই হোক। আর প্রতিদিন নির্জনে কোরআন নিয়ে বসুন। কোরআনের প্রতিটি লাইনের নিচে হাত রেখে বলুন, হে আল্লাহ! আপনি যা বলেছেন নিশ্চয় সব সত্য বলেছেন। অর্থাৎ সর্বাবস্থায় আল্লাহর সামনে নিজেকে এভাবে পেশ করুন যে, কোরআন শিখতে না পারায় আমি লজ্জিত, তবে কোরআনের ভালবাসায় আমার মন সদা টইটুম্বুর। কেন পড়ব আল কোরআন? পবিত্র কোরআন শরীফে মহা গ্রন্থ আল কোরআন সংক্রান্ত ২৮ টি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। এই আয়াতগুলোতে কোরআন কি, কেন,কাদের জন্য নাযিল হয়েছে? সব উত্তর আছে। সংক্ষিপ্ততার জন্য শুধু বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আয়াতের বঙ্গানুবাদ পেশ করা হচ্ছে। আল কোরআনের পরিচয়: ‘ইহা এমন এক গ্রন্থ, যার মধ্যে কোন সন্দেহ -সংশয়ের অবকাশ নেই; খোদাভীরুদের জন্য এ গ্রন্থ পথনির্দেশ’। ( সূরা বাক্বারা, আয়াত নং ২) আর আমি অবতীর্ণ করেছি কোরআন,যা মুমিনদের (বিশ্বাসী) জন্য সুচিকিৎসা ও দয়া,আর তা সীমালঙ্ঘনকারীদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। ( সূরা ইসরা, আয়াত নং ৮২) ‘এবং নিশ্চয়ই এটা (আল কোরআন) মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। (সূরা নামল, আয়াত নং ৭৭) চমকে যাওয়া তথ্য! বস্তুত: যে কোন অবস্থাতেই তুমি থাক এবং কোরআনের যে কোন অংশ থেকেই পাঠ কর কিংবা যে কোন কাজই তোমরা কর তখন আমি তোমাদের কাছে থাকি যখন তোমো তাতে আত্মনিয়োগ কর। (সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৬১) প্রিয় পাঠক! রমজান এসেছে আল্লাহকে পাওয়ার অফার নিয়ে তার অবারিত রহমতের বর্ষণে স্নান করাতে। তাহলে আর দেরি নয়। আসুন, কোরআন হাতে এখনই বসে পড়ি এবং মাওলায়ে কারীমকে তালাশ করি। আল কোরআনকে সঙ্গী করে আশা করি পথের দিশা পেয়েই যাব, ইনশাআল্লাহ।

পৃথিবীবাসীর জন্য ১৪শ’ বছর আগে কোরআনের নসিহত

বিশ্ব আজ আতঙ্কগ্রস্ত, বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও ভীতসন্ত্রস্ত। ঐশী আজাব এবং শাস্তি বৃষ্টির মতো বর্ষিত হচ্ছে।
বলা যায় সবাই আজ মহাবিপদের সম্মুখীন। একের পর এক বালা-মুসিবত কেন আসছে? এসব নিয়ে কি কখনও ভেবে দেখেছি আমরা? এসবের মূল কারণ হল- পবিত্র কোরআনের অমিয় বাণী বিশ্ব জগতের কাছে ব্যর্থ হয়েছে। তাই মানবগ্রহের ওপর আল্লাহতায়ালা এসব বালা-মুসিবত চাপিয়ে দিয়েছেন। এখন একমাত্র তিনিই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। আজ বিশ্বমানবতা আল্লাহপাকের স্মরণ থেকে দূরে চলে গেছে এবং আল্লাহতায়ালাকে ভুলতে বসেছে। অনেকে তো আল্লাহপাকের অস্তিত্বই স্বীকার করতে চায় না। আর যারা আল্লাহর ওপর এবং আল্লাহর পাঠানো কিতাব-কোরআনের ওপর বিশ্বাস রাখে, তারাও কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা বিকৃত করে এমন সব মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নিয়েছে, যা সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে আলো-বাতাসকে পর্যন্ত বিষাক্ত করে ফেলেছে।
আমাদের অন্যায়ের মাত্রা এতটাই ছাড়িয়েছে, প্রতিটি অণু-পরমাণু যেন পাপে ভরপুর হয়ে গেছে। আমি ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাকরি যাই করি না কেন, সব কিছুতেই যেন অসততাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। এমনকি মুখে আমি যা বলছি তা-ও মিথ্যা বলছি, আল্লাহর জন্য টুটাফাটা যে নামাজ আদায় করছি সেখানেও দুনিয়ার চিন্তায় এমনভাবে মগ্ন যে- কখন নামাজ শেষ করে আবার দুনিয়ায় ঝুট-ঝামেলায় ফিরে আসব সর্বক্ষণ এ ধান্ধায় থাকি। তাই আমরা যে একের পর এক মহামারী ও বালা-মুসিবতের সম্মুখীন হচ্ছি এর মূল কারণ আমাদের কাজকর্ম। আমার আমলই এসব মহামারী ডেকে আনছে। যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন- ‘মানুষের নিজের কারণেই স্থলে ও জলে বিশৃঙ্খলা ছেয়ে যায়। এর পরিণামে তিনি তাদের কোন কোন কাজের শাস্তির স্বাদ ভোগ করাবেন যাতে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারে’ (সূরা আর রুম, আয়াত : ৪১)। যেহেতু আমাদের পাপের আঁধারে পৃথিবী ডুবে গেছে, তাই বিভিন্ন প্রাকৃতিক আজাব তা করোনাভাইরাসের আক্রমণ বলুন বা ঘূর্ণিঝড় সিডর, বুলবুল, ভূমিকম্প- সবই মূলত আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মানবগ্রহের জন্য সতর্ক সংকেত। আল্লাহ আমাদের সতর্ক করছেন যে, হে আমার বান্দারা, তোমরা সতর্ক হও, তোমরা অসৎ পথ ছেড়ে দিয়ে সৎ পথে চল, তোমরা সহজ-সরল পথ অবলম্বন কর। বিষয়টিকে এভাবেও বলা যায়, সমাজ ও দেশের বেশিরভাগ মানুষ যখন পাপ, ব্যভিচার, অন্যায় এবং নিজ প্রভুকে ভুলতে বসে তখনই আল্লাহতায়ালা তার পক্ষ থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য শাস্তি দেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর তোমাদের কর্মের কারণেই তোমাদের ওপর বিপদ নেমে আসে। অথচ তিনি অনেক বিপদ এমনিতেই উড়িয়ে দেন’ (সূরা আশ শুরা : ৩০)। আমাদের অন্যায়ের কারণে আল্লাহর আজাব এসেছে। বালা-মুসিবত যখন ঐশী হয় তখন তা থেকে রক্ষা করার মালিকও তিনিই। যেভাবে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে ‘তুমি বল, আল্লাহর হাত থেকে কে তোমাদের রক্ষা করতে পারে যদি তিনি তোমাদের কোনো শাস্তি দিতে চান? অথবা তিনি যদি তোমাদের প্রতি দয়া করতে চান তবে কে তোমাদের বিরত করতে পারে?’ (সূরা আহজাব, আয়াত ১৭)। আল্লাহপাক আমাদের বারবার সতর্ক করছেন। এরপরও যদি আমাদের হুশ না হয় তাহলে আমরাও আদ ও সামুদ জাতিসহ অন্যান্য জাতি যেভাবে তাদের অপকর্মের জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে, সেদিকেই এগোচ্ছি না তো? তিনি যেহেতু রহমানুর রাহিম, তিনি চান না তার বান্দারা যেন কোনোভাবে কষ্ট পাক। তাই তিনি বারবার সতর্ক করছেন, তার বান্দারা যেন সঠিক পথে চলে। সব ধরনের বালা-মুসিবত থেকে রক্ষার এখন একটিই মাত্র রাস্তা খোলা আছে আর তাহল রহমান খোদার প্রকৃত বান্দায় পরিণত হওয়া, আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকার যথাযথ আদায় করা, নিজেকে সংশোধন করা এবং নিজ আত্মাকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করা। দয়াময় প্রভু আমাদের নিরাশ হতে বারণ করেছেন। তিনি আমাদের সুপথে ফিরে আসার জন্য ক্ষমার সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব গুনাহ মাফ করবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা যুমার, আয়াত : ৫৩)। হে দয়াময় প্রভু! আমরা যদি আপনার অবাধ্য হই তাহলে হয়তো আপনি নতুন মানবজাতি সৃষ্টি করবেন, যারা আপনার কোরআন মেনে জীবনযাপন করবে। আপনি আমাদের আপনার ক্ষমার মায়াবী চাদরে জড়িয়ে নিন। আমিন।

যেভাবে বদলে যাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য

করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা সক্ষমতা প্রকাশ করতে পারলেও এর প্রভাবে চিরতরে বদলে যাবে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি এবং নিশ্চিতভাবে তা আমাদের প্রভাবিত করবে আগামী দিনগুলোতে।
এ মহামারী এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ দ্বারা বিশ্ব বাণিজ্য হুমকির মুখে ও মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অতীতে কিছু ঘটনা, যা বিশ্ব বাণিজ্যকে সাময়িকভাবে প্রভাবিত করছে, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলা, ২০১১ সালে জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামি। যদিও এগুলো বেশির ভাগই সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল তথাপি বিশ্বায়ন কখনও হুমকির মুখে পড়েনি। এখন সময়টি একেবারেই আলাদা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সময় সমগ্র বিশ্বের জন্য। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলগুলো প্রচণ্ড চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা আগামীতে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যে যুদ্ধের সমাধান হয়নি এবং যে কোনো মুহূর্তে পুনরায় তা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) তাদের দেয়া শুল্ক প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে পারবে। বাণিজ্য বিবাদ নিরসনেও ডব্লিউটিও’র বিশেষ কৌশল বা পদ্ধতি আগের মতো কাজ করছে না। একই সময়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেখা যাচ্ছে, চীনে অবস্থিত সরবরাহকারীদের ওপর বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের অত্যধিক নির্ভরতার ফলাফল তাদের জন্য ভালো হয়নি। অনেক দেশ এখন উপলব্ধি করছে চীন থেকে আসা সরবরাহের ওপর তারা কতটা নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, ইতালির আমদানি করা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্লাড থিনার চীন থেকে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৯৭ শতাংশ, জাপান তাদের চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৪০ শতাংশ চীন থেকে আমদানি করে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী মাস্কের চাহিদা বেড়ে যায়। এ মহামারী চলমান সময়ে চীনের দৈনিক মাস্কের চাহিদা ছিল ৫০-৬০ মিলিয়ন, যেখানে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ২০ মিলিয়ন। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে বিশ্বব্যাপী করোনা টেস্টিং কিটের সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট থেকে বাদ পড়েনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপও। এর মধ্যে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডস ও চেক রিপাবলিক চীন থেকে সরবরাহ করা এন৯৫ মাস্ক, পিপিই নিুমানের বলে ফেরত পাঠিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। সেই চীন থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রকে আমদানি করতে হচ্ছে করোনার চিকিৎসা সামগ্রী। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এ আমদানির বিপক্ষে ছিল তথাপি বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ তোলা হয়- যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে আমেরিকানদের জীবন হুমকির মুখে। তথাপি দ্বিমুখী চাপে ট্রাম্প প্রশাসন চীন থেকে চিকিৎসা সামগ্রীর আমদানি শুল্ক হ্রাস করে। এ সংকট দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতাদের অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে, যা আগামীতে বাণিজ্যনীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। রেজিলিয়েন্স বা স্থিতিস্থাপকতা এখন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ভাবনার বিষয়। করোনা-পরবর্তী পৃথিবীতে কোম্পানিগুলো তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার বিষয়ে কঠোরভাবে চিন্তা করবে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট উৎপাদক, ভৌগোলিক অঞ্চল কিংবা বাণিজ্যনীতি তাদের ঋণাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে না পারে। এর ফলে প্রচলিত উৎপাদন ও মজুদ ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটবে এবং নন-জিরো ইনভেন্টরি পদ্ধতি থাকবে না। এর ফলে অবশ্যই ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তবে করোনা-পরবর্তী বিশ্বে ব্যয়ের পরপরই সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে ভাবনা থাকবে। কোম্পানিগুলো তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের সরবরাহকারীদেরও স্থিতিস্থাপকতার মূল্যায়ন করবে বলে আশা করা যায়। করোনার সংক্রমণ ‘ঘরে থেকে কাজ করা’ ধারণাটিকে জনপ্রিয় করে তুলছে। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে বেশির ভাগ কোম্পানি তাদের কার্যক্রম এ পদ্ধতিতে রূপান্তর করবে বলে ধারণা করা যায়। মহামারীর পর বেশির ভাগ কোম্পানি ভৌগোলিক দূরত্বকে বাদ দিয়ে তাদের কাজের জন্য মেধাবী কর্মী নিয়োগ দেবে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে। বর্তমানেও বেশিরভাগ টেক-কোম্পানি এ পদ্ধতি অনুসরণ করছে; তবে মহামারী-পরবর্তী সময়ে এ প্রবণতা যে আরও বাড়বে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। দীর্ঘ লকডাউনের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বিঘ্ন হচ্ছে প্রায় প্রতিটি দেশেই। উৎপাদন প্রক্রিয়া এভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার ফলে অর্থনৈতিক মন্দা দ্রুত বাড়ছে। অটোমেটেশনের মাধ্যমে উৎপাদন ও গ্রাহকের দ্বারপ্রান্তে সরবরাহের প্রচেষ্টা করা হবে আগামীতে। এর মধ্যেই চীনের আলিবাবা, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজন অটোমেটেড সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, করোনা-পরবর্তী পৃথিবীতে চীন এবং অন্য দেশগুলো অটোমেশন প্রক্রিয়াকে দ্রুত গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন না ঘটে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে অনেকখানি অন্তরালে সরিয়ে দিয়েছে। লকডাউনের ফলে পৃথিবী তার জলবায়ুকে ৫০০ বছর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে বলা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি এখনও বিরাজমান। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত কার্যক্রমের অভাবে চরম বৈরী আবহাওয়া কিংবা আরও নতুন কোনো রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। যেসব কোম্পানি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হবে, তাদের ধীরে ধীরে ফুটন্ত ব্যাঙের ভাগ্য বরণ করতে হবে। করোনা মহামারী বিশ্বায়নকে একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে না, তবে চিরতরে বদলে দেবে এর গতি-প্রকৃতি। কোম্পানিগুলোকে তাদের টিকে থাকার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বদলে ফেলতে হবে ব্যবসার কৌশল। একইভাবে আমাদের অর্থনীতিও অনেকটাই বদলে যাবে।

লকডাউন না করেও ইরান কীভাবে করোনা প্রতিরোধে সফল হচ্ছে?

ইরানের কিছুদিন আগেও করোনাভাইরাসে ২৪ ঘন্টায় যে আক্রান্ত সংখ্যা ৩ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ১৫০ ছিল তা এই মুহূর্তে অনেকটাই কমের দিকে। যদিও এটি বলার সময় এখনো আসেনি যে, ইরানে করোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
পুরো ইরান করোনা ইস্যুতে এক সপ্তাহের বেশি লকডাউন ছিল না। তাছাড়া লকাডাউন ছিল এক শহরের গাড়ি অন্য শহরে প্রবেশ করতে পারবে না এমন। তবে নিজ শহরের গাড়ি হলে তা প্রবেশের অনুমতি ছিল। তবে যে শহরগুলোতে জনগণ ভ্রমণে বেশি যায় সে শহরগুলো প্রথম থেকেই পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছিল।
এ নিয়ে কয়েকটি বিষয় বলতে চাই, প্রথমত, ইরানে প্রথম যখন করোনা আসে তখন স্বাস্থ্য দিক-নির্দেশনা স্বরূপ সবাইকে নিয়মিত হাত ধোয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। এবং তার পরের দিন বিবিসি নিউজের একটা নিউজ চোখে পড়ে যেখানে বলা হচ্ছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে এত ভাগ পানির ব্যবহার বাড়ছে। এটা মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, ইরানের জনগণ হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতন হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কিছুদিন আগে ইরানিদের অন্যতম উৎসব ফার্সি নববর্ষের ছুটি চলছিল। এ উৎসবে ইরানিদের বাইরে ঘুরতে যাবার ঐতিহ্য পুরনো দিনের। এর মাঝে একটি নিউজ সাইটে একটি নিউজ চোখে পড়লো যাতে বলা হচ্ছে, মোবাইলের ইন্টারনেন্ট ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে বাসার বাইরে জনগণের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয়ত, ইরানের হাসপাতালগুলোতে যে বেড এবং আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে কিছু প্রদেশ ছাড়া যেগুলোতে করোনার প্রকোপ অনেক বেশি ছিল তা করোনা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আছে। যদিও এরপরেও কঠিন অবস্থা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রদেশে অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ইরানি আইসিইউ অথবা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন তা আমার জানা নেই বা নিউজে দেখিনি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ইরানের রাজপথ এবং চলাচলের মাধ্যম মেট্রো ও বাসগুলো নিয়মিতভাবে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টিও ছিল চোখে পড়ার মত। উপরের কথাগুলো বলা এ কারণে যে, একটি মহামারী লড়তে আর যে ভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছু নিয়েই আমরা অবগত না সেক্ষেত্রে এমন যুদ্ধে লড়তে আমাদের সকল ক্ষেত্রে থেকে সহায়তা নেয়া যেতে পারে আগামীর অবস্থা বুঝতে। এবার আসতে চাই কিভাবে ইরানের পক্ষে সম্ভব হলো এত দ্রুত পুরোপুরি না হলেও করোনাকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা? প্রথমত, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের করোনা আসার দুই থেকে তিন দিনের মাঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। এবং দ্রুত করোনা রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা সেন্টার ঘোষণা দেয়া। দ্বিতীয়ত, ২ থেকে ৩ দিনের মাঝে সারা দেশের চিকিৎসকদের কাছে করোনা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা, দিক-নির্দেশনা ও প্রটোকল পৌঁছিয়ে দেয়া। এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার পিপিই দেয়া। তৃতীয়ত, ইরানে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৫৯৬ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। আর এ সুস্থ হওয়ার পেছনে চিকিৎসকদের যে মূল অবদান আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের কী ট্রিটমেন্ট দিলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন সেগুলো নিয়ে গবেষকদের গবেষণাও কিন্তু এক্ষেত্রে অবদান রাখছে। প্রটোকল আপডেট হচ্ছে। চতুর্থত, ইরানের সর্বশেষ হিসেবে, প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বাসায় অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিও কিন্তু একটি পজিটিভ দিক।

সম্পর্কিত সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সিএনজিতেই কাজ সারে অনেক খদ্দের

সিএনজিতেই কাজ সারে অনেক খদ্দের

আম্পান: পশ্চিমবঙ্গে নিহত বেড়ে ৮০

আম্পান: পশ্চিমবঙ্গে নিহত বেড়ে ৮০

১২০০ কি.মি সাইকেল চালিয়ে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো মেয়ে

১২০০ কি.মি সাইকেল চালিয়ে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো মেয়ে

আড়াইশ কিলোমিটার গতি নিয়ে ধেয়ে আসছে ‘আম্পান’

আড়াইশ কিলোমিটার গতি নিয়ে ধেয়ে আসছে ‘আম্পান’

যে ওষুধে ‘করোনায় সুস্থের হার বাড়ছে’ বাংলাদেশে

যে ওষুধে ‘করোনায় সুস্থের হার বাড়ছে’ বাংলাদেশে

পাকিস্তানে ১০০ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত

পাকিস্তানে ১০০ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত

তছনছ করে গেল আম্ফান, এবার আসছে মহাপ্রলয় 'নিসর্গ'

তছনছ করে গেল আম্ফান, এবার আসছে মহাপ্রলয় 'নিসর্গ'

ভারতে ক্ষুধার জ্বালায় মরা কুকুরের মাংস খাচ্ছে মানুষ! (ভিডিও)

ভারতে ক্ষুধার জ্বালায় মরা কুকুরের মাংস খাচ্ছে মানুষ! (ভিডিও)

রাতে ঘুম আসে না ? ৫ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার ১০ টি উপায়

রাতে ঘুম আসে না ? ৫ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার ১০ টি উপায়

৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের কষ্টের দিনে পাশে দাঁড়ায়নি কেউ

৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের কষ্টের দিনে পাশে দাঁড়ায়নি কেউ

ভিক্ষুকের কোলের বাচ্চাটি সবসময় ঘুমিয়ে থাকার বীভৎস র’হস্য

ভিক্ষুকের কোলের বাচ্চাটি সবসময় ঘুমিয়ে থাকার বীভৎস র’হস্য

লকডাউন পিরিয়ডে প্রবেশ সূর্যের, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

লকডাউন পিরিয়ডে প্রবেশ সূর্যের, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রাখে আল্লাহ মারে কে! বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় অক্ষত ব্যাংক কর্মকর্তা

রাখে আল্লাহ মারে কে! বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় অক্ষত ব্যাংক কর্মকর্তা

ভাবছি ‘সেই ৮০ সিম’ নিলামে তুলব: নাসির

ভাবছি ‘সেই ৮০ সিম’ নিলামে তুলব: নাসির

হঠাৎ করে তুলে নেওয়া হয়েছে রাজধানীর প্রবেশ পথের চেকপোষ্ট

হঠাৎ করে তুলে নেওয়া হয়েছে রাজধানীর প্রবেশ পথের চেকপোষ্ট

সর্বশেষ

ভর্তি হতে না পেরে হাসপাতালের গেটেই সন্তান প্রসব

ভর্তি হতে না পেরে হাসপাতালের গেটেই সন্তান প্রসব

‘গানটি এত প্রশংসিত হবে ভাবিনি’

‘গানটি এত প্রশংসিত হবে ভাবিনি’

ঈদের নামাজের পর টাকা তোলা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০, শতাধিক বাড়ি ভাংচুর

ঈদের নামাজের পর টাকা তোলা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০, শতাধিক বাড়ি ভাংচুর

মণিপুরে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠলো ঢাকা-চট্টগ্রাম

মণিপুরে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠলো ঢাকা-চট্টগ্রাম

আতংঙ্কিত না হয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান খালেদা জিয়ার

আতংঙ্কিত না হয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান খালেদা জিয়ার

হাফেজ্জী হুজুর রহঃ-এর জামাতা মাওলানা আব্দুল লতিফের ইন্তেকাল

হাফেজ্জী হুজুর রহঃ-এর জামাতা মাওলানা আব্দুল লতিফের ইন্তেকাল

মাছ ধরেই কাটল ক্রিকেটার মোস্তাফিজের ঈদ

মাছ ধরেই কাটল ক্রিকেটার মোস্তাফিজের ঈদ

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ দশে ভারত

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ দশে ভারত

ঈদে বাবার বাড়ি যেতে না দেয়ায় স্বামীর সঙ্গে অভিমানে আত্মহত্যা

ঈদে বাবার বাড়ি যেতে না দেয়ায় স্বামীর সঙ্গে অভিমানে আত্মহত্যা

ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ঈদ করা হলো না শাহিদার

ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ঈদ করা হলো না শাহিদার

মাংস কিনতে গিয়ে এনজিও কর্মী নিখোঁজ মরদেহ মিলল বাগানে

মাংস কিনতে গিয়ে এনজিও কর্মী নিখোঁজ মরদেহ মিলল বাগানে

ঈদে ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের

ঈদে ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের

প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু!

প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু!

পাবনা থেকে পালিয়ে না.গঞ্জে গেলেন করোনা শনাক্ত ব্যক্তি!

পাবনা থেকে পালিয়ে না.গঞ্জে গেলেন করোনা শনাক্ত ব্যক্তি!

টানা ৬ দিন করোনা শনাক্তের রেকর্ড

টানা ৬ দিন করোনা শনাক্তের রেকর্ড