Feedback

সাহিত্য

নাটক -আমাদের রাসেল সোনা

নাটক -আমাদের রাসেল সোনা
July 31
04:06am
2020
Abul Hasan Tuhen
Jashore shadre, Jashore -7400, প্রতিনিধি:
Eye News BD App PlayStore

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের অংশ হিসেবে রচিত ।

নাটকঃ আমাদের ছোট রাসেল সোনা

 মূল কাহিনী- শেখ হাসিনা 

নাট্যরূপ-আবুল হাসান তুহিন

কাহিনী সংক্ষেপঃ এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার ছোট ভাই রাসেল সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন। সেটারই নাট্যরূপ আমি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কাহিনীতে প্রধানমন্ত্রীর ছোটবেলাায় রাসেলের সাথে তার সম্পর্ক পারিবারিক ইতিহাস বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করেছেন ।এখানে আমি শ্যাডোর ভিতরে সে সমস্ত চরিত্রগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখানে মূলত প্রধান মন্ত্রীর স্মৃতিচারণ বক্তব্য এই চরিত্রের মূল। বাকি চরিত্রগুলো শ্যাডোর ভিতরে অভিনয় হবে যেন তিনি স্মৃতিচারণ করছেন  আপন মানুষগুলো তাঁর চোখের সামনে উপস্থিত । তাঁর বাল্যজীবন বঙ্গবন্ধুুর সংগ্রামী জীবন, জেলেের জীবন, ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু ঘোষণা গ্রেপ্তার, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের হাতে বন্দী থাকার জীবন ,শিশু রাসেলের বিভিন্ন সময়ের ঘটনা । শেষে বঙ্গবন্ধুু হত্যা রাসেলকে হত্যা মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এখানে শেখ হাসিনার চরিত্র ছাড়া বাকি সমস্ত চরিত্রগুলো শ্যাডোর ভিতর অভিনীত হবে ।






চিরত্র বিন্যাসঃ

১। শেখ হাসিনা ২। বড় ফুফু ৩। মেজো ফুফু ৪। ছোট হাসিনা ৫। ছোট রেহেনা ৬। ছোট কামাল ৭। ছোট জামাল ৮। মা ৯। রাসেল ১০। বঙ্গবন্ধু ১১। রাসেল খেলার সাথী বেশ কয়েকজন ছোট শিশু ১২। পাকিস্তানি সৈন্য কয়েক জন ১৩ । আম্বিয়া ১৪। মিত্রবাহিনীর ১৫। আর্মি কয়েকজন

দৃশ্য।।০১।।দিন।। মদৃশ্যঞ্চ

চরিত্রঃ একদল ছেলেমেয়ে

কবিতার আবৃত্তি সাথে সাথে কোরিওগ্রাফি করে একদল ছেলেমেয়ে

৩২ নম্বর মেঘের ওপারে

আনিসুল হক

আকাশের ওপারে আকাশ,

তার ওপরে মেঘ,

মেঘের মধ্যে বাড়ি—

৩২ নম্বর মেঘমহল।

৩২ নম্বরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আপনি।

আপনার গায়ে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি,

চোখে কালো মোটা ফ্রেমের চশমা,

হাতে পাইপ।

ছাদের কিনারে সানশেডে উড়ছে কবুতরগুলো।

উঠানে সাইকেল-রিকশা চালাচ্ছে লাল সোয়েটার পরা রাসেল।

পানের ডিব্বা নিয়ে ডাইনিং টেবিলের পাশের গোল টেবিলটাতে সুপারি কাটায় ব্যস্ত আপনার রেণু।

জামাল মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের সময় পাওয়া ক্যাপটা পরে আয়নায় তাকাচ্ছেন।

ছাদের ঘরে বেহালা বাজাচ্ছেন কামাল। মেঘে মেঘে ছড়িয়ে পড়ছে বেহালার মূর্ছনা।

আকাশের ওপারে আকাশ, তার ওপরে মেঘ,

মেঘের মধ্যে বাড়ি—৩২ নম্বর মেঘমহল।

সেইখানে দোতলার ঝুল-বারান্দায় দাঁড়িয়ে

পুরু লেন্সের ভেতর থেকে পূর্ণ চোখে তাকিয়ে আপনি দেখছেন...

যেমন করে দেখেছিলেন

একাত্তরের মার্চে ওড়ানো সবুজের মধ্যে লাল সূর্য আর হলুদ মানচিত্রখচিত পতাকা;

যেমন করে তাকিয়ে দেখেছিলেন সত্তরে একাত্তরে রোজ আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়

৩২ নম্বর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতা-পাগল মানুষগুলোকে;

যেমন করে সাতই মার্চের মঞ্চে দাঁড়িয়ে লক্ষ-কোটি চোখে দেখতে পেয়েছিলেন

একটা জাতির জন্মের ফুল ফোটা;

যেন আপনি রিলকে, পৃথিবীর শেষতম কবি যিনি

শিল্পীর মগ্নতা নিয়ে নিরীক্ষণ করেন কী করে কলি থেকে পাপড়ি উন্মীলিত হয়, ফুটে ওঠে ফুল।

আকাশের ওপারে আকাশে

মেঘমহলের ৩২ নম্বরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আপনি তাকিয়ে আছেন—

বারবার দেখেও আপনার আশ মিটছে না;

শিল্পী যেমন ছবি আঁকা শেষ করে ক্যানভাস থেকে দূরে গিয়ে পুরোটা ছবি বারবার করে দেখেন;

লেখা সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরও রবীন্দ্রনাথ যেমন বারবার পড়তেন তাঁর কবিতা

আর পাণ্ডুলিপিটাকে বানিয়ে ফেলতেন একটা আস্ত শিল্পকর্ম;

তেমনি করে আপনি দেখছেন

আপনার আঁকা ছবিটাকে

দূর থেকে, কিন্তু পূর্ণ চোখে।

তেমনি করে আপনি পড়ছেন আপনার লেখা কবিতাটাকে।

অপার্থিব শিল্পসুষমায় অপরূপ দিব্যকান্তি

আপনি দেখছেন কী রকম জ্বলজ্বল করছে আপনার শিল্পকর্মখানি—

দেখছেন কী রকম করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে বাঙালিরা—

দেখছেন কী রকম মুক্ত কণ্ঠে তারা গাইছে আমার সোনার বাংলা—

স্বকণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনানোর

কবিজনোচিত উজ্জ্বলতা আর মগ্নতা অবয়বজুড়ে;

ভোরের সোনালি আলোয় কাঁচা-পাকা চুলে স্বর্গীয় দ্যুতি।

রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল আর জীবনানন্দ দাশের পাশে দাঁড়িয়ে আপনি বলছেন,

‘ওই দেখুন, ওই যে আমার কবিতা—

কবিগুরু, ওই যে আপনার সোনার বাংলা,

বিদ্রোহী কবি, ওই যে আপনার জয় বাংলা,

জীবনানন্দ বাবু, ওই যে আপনার রূপসী বাংলা,

ওই তো আমার কবিতা আমার কবিতার নাম বাংলাদেশ,

ওই তো আমার কবিতা আমার কবিতার নাম বাংলাদেশ,

ওই তো আমার কবিতা আমার কবিতার নাম বাংলাদেশ,

চির অপরূপ চির মধুর চির অপরাজেয় বাংলাদেশ।’

আপনি চশমা খুলে হাতে নিলেন,

আপনার উজ্জ্বল চোখ দুটি থেকে গড়িয়ে পড়ল দুফোঁটা অশ্রু।

অনেক নিচে মর্ত্যের এক চার কোনা ঘরে লেখার টেবিলে বসে আছি—

আমার চোখ ভিজে গেল

আমি পাশ-টেবিলে রাখা বাংলাদেশের পতাকাটা বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম,

কে বলেছে আপনি নাই, এই তো আপনি আছেন—এইখানে,

সবখানে, সমস্ত বাংলায়—

এইখানে বাংলার লাল ও সবুজে

আমাদের অশ্রু আর ভালোবাসায়,

আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার

আর এগিয়ে যাওয়ার অমোঘ মন্ত্রে—

‘মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না...’


দৃশ্য।।০২।।দিন।। ঘর

চরিত্রঃ মা, রাসেল, শেখ হাসিনা

মঞ্চে সাদা পর্দার পিছনে মা এবং রাসেলকে শ্যাডোয় দেখা যাবে। দুজনের কথা বলা শেষ হলে শেখ হাসিনা একটি আলোকিত স্পটের ভিতরে এসে দাঁড়াবেন কথা বলবেন।

মা  ঃ রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়?

 আসো,খাবে না, খেতে আসো।

রাসেলঃ  মা মা মা, তুমি কোথায় মা? (শ্যাডোর ভিতর দেখা যাবে, এরপর শেখ হাসিনা মঞ্চে এসে বলবেন)

হাসিনাঃ মা যে কোথায় গেল--মাকে ছাড়া রাসেল যে ঘুমাতে চায় না ঘুমের সময় মায়ের গলা ধরে ঘুমাতে হবে। মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত। এটা মনে হয়  সেদিনের ঘটনা, রাসেলের সাথে যে স্মৃতি গাঁথা হয়ে আছে সেটা অমলিন। ওকে অতটুকুই রেখেই গিয়েছিলাম স্বামীর কর্মস্থলে। আমার মনের গভীরে সে অতটুকুই আছে। তাই ভাবতেই পারিনা রাসেল নেই। (শেখ হাসিনা কাঁদবেন চোখ মুছে বলবেন।)

 আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন।৬ দফা দেওয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা।

                 ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।০৩।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ বঙ্গবন্ধু, কিছু পাকিস্তানি সৈন্য

শ্যাডোর ভিতর দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানি সৈন্যরা।

পাকিস্তানিঃ  Sheikh Mujib You have to go with us, We have Erest Orders.

বঙ্গবন্ধুঃ এ আর নতুন কি? শাসকগোষ্ঠী এটাই পারে মুখ বন্ধ করতে চাইলে এরেস্ট,  আমাদের আর দাবায়ে রাখতে পারবা না।(বঙ্গবন্ধু কে এরেস্ট করে নিয়ে   যাবে পাকিস্তানি সৈন্যরা।)

                       ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।০৪।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

হাসিনাঃ রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি। কাজেই তার তো সব কিছু ভালোভাবে চেনার বা জানারও সময় হয়নি। রাসেল আমাদের সবার বড় আদরের; সবার ছোট বলে ওর আদরের কোনও সীমা নেই। ও যদি কখনও একটু ব্যথা পায় সে ব্যথা যেন আমাদের সবারই লাগে। আমরা সব ভাইবোন সব সময় চোখে চোখে রাখি, ওর গায়ে এতটুকু আঁচড়ও যেন না লাগে। কী সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু। দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে আদর করি।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় আমার শোয়ার ঘরে। দোতলা তখনও শেষ হয়নি। বলতে গেলে মা একখানা করে ঘর তৈরি করেছেন। একটু একটু করেই বাড়ির কাজ চলছে। নিচতলায় আমরা থাকি। উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরটা আমার ও কামালের। সেই ঘরেই রাসেল জন্ম নিল রাত দেড়টায়। 

আব্বা নির্বাচনী মিটিং করতে চট্টগ্রাম গেছেন। ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটা মোর্চা করে নির্বাচনে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল। তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না। ল্যান্ডফোনই ভরসা। রাতেই যাতে আব্বার কাছে খবর যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা কাকা বাসায়। বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে। একজন ডাক্তার এবং নার্সও এসেছেন। সময় যেন আর কাটে না। জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আর জেগে ওঠে। আমরাও ঘুমে ঢুলঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমনবার্তা শোনার অপেক্ষায়।

                        ।।  ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।০৫।।রাত।।ঘর

চরিত্রঃ হাসিনা , মেজো ফুফু, বড় ফুফু, কামাল জামাল, রেহেনা

(শ্যাডোতে দেখা যায় ছোট বয়সের হাসিনা, কামাল জামাল, ও রেহনা অপেক্ষা করছে পরিবারে নতুন অতিথি আসবে। সবার  চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু)

মেজো ফুফুঃ (ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন) তোমরাা এখনো জেগে আছো? তোমাদের  ভাই হয়েছে।

 (খুশিতে সবাই আত্মহারা। )

হাসিনাঃ মেঝ ফুফু কতক্ষণ পর ভাইকে দেখতে পাব। 

মেজো ফুফুঃ তোমারা আরও একটু অপেক্ষা করো আমি ডাকবো। (সবাই পায়চারি করছে। এরপর বড় ফুফু কাপড়ে পেঁচানো ছোট্ট রাসেল নিয়ে আসবেন)

বড় ফুফুঃ দেখো দেখো কত সুন্দর একটি ফুটফুটে ছোট  ভাই  তোমাদের । না তোমাদের কোলে দেওয়া যাবে না। তোমরা সামলাতে পারবে না, 

হাসিনাঃ বড় ফুফু ভাইকে আমার কোলে দাও। (কোলে নিয়ে দেখে)সত্যি সত্যি কি সুন্দর হয়েছে দেখো দেখো তোমরা। মাথাভরা ঘন কালো চুল। তুলতুলে নরম গাল। অনেক বড়সড় হয়েছে। মাথার চুল একটু ভেজা মনে হচ্ছে।  আমার ওড়না দিয়ে মুছে দেই।এক কাজ করি চিরুনি দিয়ে চুল গুলো আঁচড়ে দেই । ( হাসিনা  চিরুনি নিয়ে মাথার চুল আচড়াতেই। মেজ ফুফু নিষেধ করলেন)

মেজো ফুফুঃ দেখতো মেয়ের কান্ড। শোন মা ভাইয়ের মাথার চামড়া খুব নরম তাই এখনই চিরুনি চালানো যাবে না। 

হাসিনাঃ ঠিক আছে ফুফু হাতের আঙ্গুল বুলিয়ে সিঁথি করে দিচ্ছি।

মেজো ফুফুঃ আচ্ছা ঠিক আছে। পাগলি মেয়ে।

                  ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।০৬।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

হাসিনাঃ আমাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল। অনেক বছর পর একটা ছোট বাচ্চা আমাদের ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আব্বা বার্ট্র্যান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন।

                   ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।০৭।।রাত।।ঘর

চরিত্রঃ বঙ্গবন্ধুু, মা (রানু ) 

(শ্যাডোতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু বই পড়ছেন ,স্ত্রী রানুকে ডেকে  বার্ট্র্যান্ড রাসেলের   বই পড়ে  ব্যাখ্যা  করে শোনাবেন)

মা(রানু)ঃ এই যে   মুড়ি আর তেল থাকলো আমি গেলাম

বঙ্গবন্ধুঃ আরে বসো তোমার জন্য কোড করেছি রাসেলের কয়েকটা মুল্যবান কথা। শোনো বার্ট্র্যান্ড রাসেলের নারী জাতির প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি ভালোবাসা সম্পর্কে বলেছেন, “ভালোবাসাকে ভয় করার অর্থ হলো জীবনকে ভয় করা এবং যারা জীবনকে ভয় করে তারা জীবন্মৃত অবস্থায় বেঁচে থাকে।” ‘তিনি প্রচার করেছেন বিশ্ব প্রেমের বাণী। প্রেম বা ভালোবাসা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে রাসেল বলেছেন, “সত্যিকার প্রেম শত্রুমিত্র ভেদাভেদ ভুলে একটি সার্বজনীন রূপ লাভ করে। তাই সংকীর্ণ ভালোবাসার গতি পার হতে পারলে দেখতে পাওয়া যায় যে প্রেমের রাজ্য মিলনের রাজ্য, প্রেমের রাজ্য সৌহার্দের রাজ্য। সেখানে বিভেদ নেই, বিভক্তি নেই, আছে শুধু মমতা ও একত্ববোধ।”মানব প্রেম ছিল তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর ভাষায় “আজকের দিনে ব্যাপক ধ্বংস তাই এই ধ্বংসকারী মনোভাবের উপর বিবেকের নিয়ন্ত্রণ অত্যাবশ্যক।

মা(রানু)ঃ এভাবে তোমার কাছে বসে বই পড়া শুনলে সংসারের কাজ কম্ম পড়ে থাকবে। আমি গেলাম তুমি মুড়ি খাও আর বই পড়ো। (রানু চলে যায়) 

                      ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।০৮।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা 


হাসিনাঃ ছোট্ট রাসেল আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। মা রাসেলকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সংসারের কাজ করতেন, স্কুল বন্ধ থাকলে তার পাশে শুয়ে আমি বই পড়তাম। আমার চুলের বেণি ধরে খেলতে খুব পছন্দ করতো ও। আমার লম্বা চুলের বেণিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিতাম। ও হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হাসতো। কারণ নাড়াচাড়ায় মুখে চুল লাগতো তাতে খুব মজা পেত।

জন্মের প্রথম দিন থেকেই ওর ছবি তুলতাম, ক্যামেরা আমাদের হাতে থাকতো। কত যে ছবি তুলেছি। ওর জন্য আলাদা একটা অ্যালবাম করেছিলাম যাতে ওর জন্মের দিন, প্রথম মাস, প্রতি তিন মাস, ছয় মাস অন্তর ছবি অ্যালবামে সাজানো হতো। দুঃখের বিষয় ওই ফটো অ্যালবামটা অন্যসব জিনিসপত্রের সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুট করে নেয়। হারিয়ে যায় আমাদের অতি যত্নে তোলা আদরের ছোট্ট ভাইটির অনেক দুর্লভ ছবি।

                     ।।ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।০৯।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ এক দল পাকিস্তানি সৈন্য

শ্যাডোতে দেখা যায় পাকিস্তানি সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি লুটপাট করছে।

পাকিস্তানিঃ ইয়ে কিয়া চিজ হে, এলবাম,  বেইমান কা তাসবীর!  লুটিয়়ে সব কুচ।সুুুুটকেস তোড়়ো় রোপিয়া   মিলতা। (সবাই অট্ট  হাসিতে উল্লাস করে থাকে)

                    ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।১০।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

হাসিনাঃ বাসার সামনে ছোট্ট একটা লন। সবুজ ঘাসে ভরা। আমার মা খুবেই যত্ন নিতেন বাগানের। বিকেলে আমরা সবাই বাগানে বসতাম। সেখানে একটা পাটি পেতে ছোট্ট রাসেলকে খেলতে দেওয়া হতো। একপাশে একটা ছোট্ট বাঁশ বেঁধে দেওয়া ছিল, সেখানে রাসেল ধরে ধরে হাঁটতে চেষ্টা করতো। তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে। আমরা হাত ধরে হাঁটাতে চেষ্টা করতাম। কিন্তু কিছুতেই হাঁটতে চাইতো না। ওর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল। বেশ নাদুস-নুদুস একটা শিশু। আমরা ভাইবোন সব সময় ওকে হাত ধরে হাঁটাতাম।

একদিন আমার হাত ধরে হাঁটছে। ওর যেন হাঁটার ইচ্ছা খুব বেড়ে গেছে। সারা বাড়ি হাত ধরে ধরে হাঁটছে। হাঁটাতে হাঁটতে পেছনের বারান্দা থেকে সামনের বারান্দা হয়ে বেশ কয়েকবার ঘুরলো। এই হাঁটার মধ্যে আমি মাঝে মাঝে চেষ্টা করছি আঙ্গুল ছেড়ে দিতে, যাতে নিজে হাঁটতে পারে। কিন্তু সে বিরক্ত হচ্ছে, আর বসে পড়ছে, হাঁটবে না আঙ্গুল ছাড়া। তার সাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি বরাবরই চেষ্টা করছি যদি নিজে হাঁটে। হঠাৎ সামনের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে আমার হাত ছেড়ে নিজে হাঁটতে শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে চলছে। আমি পেছনে পেছনে যাচ্ছি। সেই প্রথম হাঁটা শুরু করল। আমি ভাবলাম কতটুকু হেঁটে আবার আমার হাত ধরবে। কিন্তু যতই হাঁটছি দেখি আমার হাত আর ধরে না, চলছে তো চলছেই, একেবারে মাঝের প্যাসেজ হয়ে পেছনের বারান্দায় চলে গেছে। আমি তো খুশিতে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেছি যে, রাসেল সোনা হাঁটতে শিখে গেছে। একদিনে এভাবে কোনও বাচ্চাকে আমি হাঁটতে দেখিনি। অল্প অল্প করে হেঁটে হেঁটে তবেই বাচ্চারা শেখে।

কিন্তু ওর সবকিছু যেন ছিল ব্যতিক্রম। ও যে খুবই মেধাবী তার প্রমাণ অনেকভাবে আমরা পেয়েছি। আমাকে হাসুপা বলে ডাকত। কামাল ও জামালকে ভাই বলত আর রেহানাকে আপু। কামাল ও জামালের নাম কখনও বলতো না। আমরা অনেক চেষ্টা করতাম নাম শেখাতে, মিষ্টি হেসে মাথা নেড়ে বলতো ভাই। দিনের পর দিন আমরা যখন চেষ্টা করে যাচ্ছি- একদিন বলেই ফেলল ‘কামমাল’, ‘জামমাল’। তবে সব সময় ভাই বলেই ডাকত।

চলাফেরায় বেশ সাবধানি কিন্তু সাহসী ছিল, সহসা কোনও কিছুতে ভয় পেতো না। কালো কালো বড় পিপড়া দেখলে ধরতে যেত। একদিন একটা বড় ওলা (বড় কালো পিঁপড়া) ধরে ফেললো আর সাথে সাথে কামড় খেল। ছোট্ট আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হলো। সাথে সাথে ওষুধ দেওয়া হলো। আঙ্গুলটা ফুলে গেছে। তারপর থেকে আর পিঁপড়া ধরতে যেত না। কিন্তু ওই পিঁপড়ার একটা নাম নিজেই দিয়ে দিল। কামড় খাওয়ার পর থেকেই কালো বড় পিপড়া দেখলেই বলতো ‘ভুট্টো’। নিজে থেকেই নামটা দিয়েছিল।

রাসেলের কথা ও কান্না টেপরেকর্ডারে টেপ করতাম। তখনকার দিনে বেশ বড় টেপরেকর্ডার ছিল। এর কান্না মাঝে মাঝে ওকেই শোনাতাম। সব থেকে মজা হতো ও যদি কোনও কারণে কান্নাকাটি করতো, আমরা টেপ ছেড়ে দিতাম, ও তখন চুপ হয়ে যেত। অবাক হতো মনে হয়। একদিন আমি রাসেলের কান্না টেপ করে বারবার বাজাচ্ছি, মা ছিলেন রান্নাঘরে।

                   ।। ফ্ল্যাশ ব্যাক।।

দৃশ্য।।১১।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ হাসিনা ছোট ,মা , শিশু রাসেল( ডামি)

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় ছোট হাসিনা শিশু রাসেলকে নিয়ে খেলা করছে পাশে একটি টেপ রেকর্ডার কান্নার শব্দ বাজছে। কান্নার শব্দ শুনে মা তড়িঘড়ি করে এসে ঢুকবেন)

মা---ঃ (রাসেলের কান্না শুনে মা ছুটে এসেছেন। ভেবেছিলেন ও বোধহয় একা, কিন্তু এসে দেখেন হাসিনা  টেপ বাজাচ্ছে আর ওকে নিয়ে খেলছে।  ছেলেটা কানছে কেউ শুনতে পাচ্ছেনা। হাসু    রাসেল কানতেছিলো না? কিন্তু আমি তো  চিন্তা করছি ও মনে হয় একা আছে।      

হাসিনাঃ না মা আমিতো খেলছি ওর সাথে। এই যে ক্যাসেট প্লেয়ারে টেপ করা কান্নার শব্দ। 

মাঃ  (হেসে ফেললেন  টেপ করা কান্না শুনে।) পারো বটে। 

হাসিনাঃ আমি ওকে দিয়ে কথা বলিযে টেপ করতে চেষ্টা করছিলাম। এখন শুনছি কেমন হয়েছে।

                  ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ১২ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

 হাসিনাঃ আব্বা যখন ৬-দফা দিলেন তারপরই তিনি গ্রেফতার হয়ে গেলেন। রাসেলের মুখে হাসিও মুছে গেল। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল আব্বাকে খুঁজত। রাসেল যখন কেবল হাঁটতে শিখেছে, আধো আধো কথা বলতে শিখেছে, আব্বা তখনই বন্দি হযে গেলেন। মা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আব্বার মামলা-মকদ্দমা সামলাতে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। সংগঠনকে সক্রিয় রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম চালাতেও সময় দিতে হতো।

আমি কলেজে পড়ি, সাথে সাথে রাজনীতিতে সক্রিয় হযে কাজ শুরু করি। কামাল স্কুল শেষ করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। সেও রাজনীতিতে যোগ দেয়। জামাল ও রেহানা স্কুলে যায়। আব্বা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাসেলের খাওয়া-দাওয়া একরকম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু খেতে চাইতো না। ওকে মাঝে মাঝ ছোট ফুফুর বাসায় নিয়ে যেতাম। সেখানে গেলে আমার ছোট ফুফার সাথে বসে কিছু খেতে দিতেন। ছোট ফুফা ডিম পোচের সাথে চিনি দিয়ে রাসেলকে খেতে দিতেন। ঢেঁড়স ভাজির সাথেও চিনি দিয়ে রুটি খেতেন, রাসেলকেও খাওয়াতেন। আমাদের বাসায় আম্বিয়ার মা নামে এক বুয়া ছিল, খুব আদর করতো রাসেলকে। 

                ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।। ১৩ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ আম্বিয়া, রাসেল

শ্যাডোর ভিতোর দেখা যাবে আম্বিয়া রাসেলকে কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে খাবার খাওয়াচ্ছে।

আম্বিয়াঃ কে খায় কে খায় রাসেল সোনা খায়

                       ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।১৪।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

 হাসিনাঃ  আমাদের বাসায় কবুতরের ঘর ছিল। বেশ উঁচু করে ঘর করা হয়েছিল। অনেক কবুতর থাকতো সেখানে। মা খুব ভোরে উঠতেন, রাসেলকে কোলে নিয়ে নিচে যেতেন এবং নিজের হাতে কবুতরদের খাবার দিতেন। রাসেল যখন হাঁটতে শেখে তখন নিজেই কবুতরের পেছনে ছুটত, নিজে হাতে করে তাদের খাবার দিত। আমাদের গ্রামের বাড়িতেও কবুতর ছিল। কবুতরের মাংস সবাই খেত। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন অধিকাংশ জমি পানির নিচে থাকতো তখন তরকারি ও মাছের বেশ অভাব দেখা দিত। তখন প্রায়ই কবুতর খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। সকালের নাস্তার জন্য পরোটা ও কবুতরের মাংস ভুনা সবার প্রিয় ছিল। তাছাড়া কারও অসুখ হলে কবুতরের মাংসের ঝোল খাওয়ানো হতো। ছোট ছোট বাচ্ছাদের কবুতরের স্যুপ করে খাওয়ালে রক্ত বেশি হবে, তাই বাচ্চাদের নিয়মিত কবুতরের স্যুপ খাওয়াতো।

রাসেলকে কবুতর দিলে কোনও দিন খেত না। এত ছোট বাচ্চা কিভাবে যে টের পেত কে জানে। ওকে আমরা অনেকভাবে চেষ্টা করেছি। ওর মুখের কাছে নিলেও খেত না। মুখ ফিরিয়ে নিত। শত চেষ্টা করলেও কোনোদিন কেউ ওকে কবুতরের মাংস খাওয়াতে পারে নি। আব্বার সঙ্গে প্রতি ১৫ দিন পর আমরা দেখা করতে যেতাম। রাসেলকে নিয়ে গেলে আর আসতে চাইতো না। খুবই কান্নাকাটি করতো। 

               ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।। ১৫ ।। দিন।। জেলখানা

চরিত্রঃ হাসিনা (ছোট) ,মা ,  রাসেল, মা, বঙ্গবন্ধুু

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় মা, ছোট হাসিনা  রাসেলকে নিয়ে জেলখানায় বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে এসেছেন রাসেল বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে আসতে চাচ্ছে না কান্নাকাটি করছে। 

বঙ্গবন্ধুঃ রাসেল সোনা ভালো থাকবা , 

রাসেলঃ আমি যাব না আমি আব্বার কাছে থাকবো আমি আব্বার কাছে থাকবো।( রাসেল কাঁদবে)    

বঙ্গবন্ধুঃ হাসু মা তোমাদের সময় শেষ হইছে। রানু রাসেলরে বুঝাইয়া নিয়া যাও। ছোট মানুষ জেল আর বাড়ির ব্যবধানটা বোঝেনা।  

হাসিনাঃ (রাসেলকে বোঝাবে)  ভাই কান্নাকাটি করে না আব্বার বাসা জেলখানা আর আমরা আব্বার বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমরা বাসায় ফেরত যাবো। 

মাঃ আমাদের রাসেল সোনা কত ভালো, আবার আমরা তোমার আব্বার সাথে দেখা করতে আসবো আজকে যাই। 

                  ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ১৬ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা 

হাসিনাঃ বেশ কষ্ট করেই ওকে বাসায় ফেরত আনা হতো। আর আব্বার মনের অবস্থা কী হতো তা আমরা বুঝতে পারতাম। বাসায় আব্বার জন্য কান্নাকাটি করলে মা ওকে বোঝাতো এবং মাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। মাকেই আব্বা বলে ডাকতো।

১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি আব্বাকে আগরতলা মামলায় আসামি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে বন্দি করে রাখে। ছয় মাস আব্বার সঙ্গে দেখা হয়নি। আমরা জানতেও পারিনি আব্বা কেমন আছেন, কোথায় আছেন।

রাসেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আরও জেদ করতে শুরু করে। ছোট্ট বাচ্চা মনের কষ্টের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারে না, আবার সহ্যও করতে পারে না। কী যে কষ্ট ওর বুকের ভেতরে তা আমরা বুঝতে পারতাম।

কলেজ শেষ করে ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। মা আব্বার মামলা ও পার্টি নিয়ে ব্যস্ত। প্রায়ই বাসার বাইরে যেতে হয়। মামলার সময় কোর্টে যান।

                     ।। ফ্লাশব্যাক।। 

দৃশ্য।। ১৭ ।। দিন। বাড়ি

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা  ,মা   

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বেরোচ্ছে,মা কাগজপত্র হাতে কোর্টের দিকে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে।  

মাঃ হাসু বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছিস ।আজকে তোমার আব্বার কোর্টের দিন আছে আমাকে কোর্টে যেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাড়াতাড়ি ফিরো।   

হাসিনাঃ ঠিক আছে মা তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো।

মা ঃ   আম্বিয়া রাসেলকে সামলে রাখিস। আমি আর হাসু গেলাম।

                ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ১৮ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা 

আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন জোরদার করার জন্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১৯৬৮ সালে ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন নিয়ে সবাই ব্যস্ত। আন্দোলন সংগ্রাম তখন জোরদার হয়েছে। রাসলকে সময় দিতে পারি না বেশি। আম্বিয়ার মা সব সময় দেখে রাখতো। এমনি খাবার খেতে চাইত না কিন্তু রান্নাঘরে যখন সবাই খেত তখন সবার সঙ্গে বসতো। পাশের ঘরে বসে লাল ফুল আঁকা থালায় করে পিঁড়ি পেতে বসে কাজের লোকদের সঙ্গে ভাত খেতে পছন্দ করতো।

আমাদের একটা পোষা কুকুর ছিল; ওর নাম টমি। সবার সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল। ছোট্ট রাসেলও টমিকে নিয়ে খেলতো। একদিন খেলতে খেলতে হঠাৎ টমি ঘেউ ঘেউ করে ডেকে ওঠে, রাসেল ভয় পেয়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে রেহানার কাছে এসে বলে টমি তাকে বকা দিয়েছে। টমি আবার কিভাবে বকা দিল। কিন্তু রাসেলকে দেখে মনে হলো বিষয়টা নিয়ে সে বেশ বেশ গম্ভীর। টমি তাকে বকা দিয়েছে এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, কারণ টমিকে সে খুব ভালোবাসতো। হাতে করে খাবার দিত। নিজের পছন্দমতো খাবারগুলো টমিকে ভাগ দেবেই, কাজেই সেই টমি বকা দিলে দুঃখ তো পাবেই।

১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রায় তিন বছর পর আব্বা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন মুক্তি পান তখন রাসেলের বয়স চার বছর পার হয়েছে। কিন্তু ভীষণ রোগা হয়ে গিয়েছিল বলে আরও ছোট্ট দেখাতো। ওর মধ্যে আর একটি জিনিস আমরা লক্ষ্য করলাম। খেলার ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ পরপরই আব্বাকে দেখে আসত। আব্বা নিচে অফিস করতেন। আমরা তখন দোতলায় উঠে গেছি। ও সারাদিন নিচে খেলা করত। আর কিছুক্ষণ পরপর আব্বাকে দেখতে যেত। মনে মনে বোধহয় ভয় পেত যে আব্বাকে বুঝি আবার হারায়।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন অসহযোগ আন্দোলন চলছে, তখন বাসার সামনে দিয়ে মিছিল যেত আর মাঝে মধ্যে পুলিশের গাড়ি চলাচল করত। দোতলায় বারান্দায় রাসেল খেলা করত, যখনই দেখত পুলিশের গাড়ি যাচ্ছে তখনই চিৎকার করে বলত, ‘ও পুলিশ কাল হরতাল’। যদিও ওই ছোট্ট মানুষের কণ্ঠস্বর পুলিশের কানে পৌঁছত না কিন্তু রাসেল হরতালের কথা বলবেই। বারন্দায় রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে।

                   ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।। ১৯।। দিন।। বাড়ি

চরিত্রঃ রাসেল

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় রাসেল হরতাল হরতাল বলছে এবং জয় বাংলা জয় বাংলা বলে চিৎকার করছে। 

 রাসেলঃ  হরতাল হরতাল’ বলে চিৎকার করবে। স্লোগান দেবে ‘জয় বাংলা’। 

                          ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ২০ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

 হাসিনাঃ  আমরা বাসায় সবাই আন্দোলনের ব্যাপারে আলোচনা করতাম, ও সব শুনত এবং নিজেই আবার তা বলত।১৯৭১ সালের পঁচিশ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালালে আব্বা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ছাব্বিশ মার্চ প্রথম প্রহরের পরপরই আব্বাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। 

                     ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।২১।। গভীর রাত।। বাড়ি

চরিত্রঃ বঙ্গবন্ধু, পাকিস্তানি সৈন্য

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু বিচলিত ভাবে হাঁটাহাঁটি করছে,  কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানি সৈন্য এসে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। 

বঙ্গবন্ধুঃ (বঙ্গবন্ধু খুুব বিচলিত পাইপ টানছে আর পায়চারি করছি , কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না চারদিকে প্রচণ্ড গুলির শব্দ হচ্ছে এর মধ্যে কিছু পাকিস্তানি সৈন্য প্রবেশ করল ।)

বঙ্গবন্ধুঃ (পাকিস্তানি সৈন্যদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে) 

Stop shooting. why you shoot? if you want to shoot me. Why are you shooting at innocent people?

মেজরঃ।   Telling them to stop shooting?  But sheikh Mujib has come to arrest you.   

ভয়েস ওভারঃ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাা দিয়ে যান একটি টেলি বার্তার মাধ্যমে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানসহ দেশ-বিদেশে। 

THIS MAY BE MY LAST MESSAGE, FROM TODAY BANGLADESH IS INDEPENDENT. I CALL UPON THE PEOPLE OF BANGLADESH WHEREVER YOU MIGHT BE AND WITH WHATEVER YOU HAVE, TO RESIST THE ARMY OF PATION TO THE LAST. YOUR FIGHT MUST GO ON UNTIL THE LAST SOLDIER OF THE PAKISTAN OCCUPATION ARMY IS EXPELL ED FROM THE SOIL OF BANGLADESH AND FINAL VICTORY IS ACHIEVED. ”

ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, যে যেখানে আছো, আর যা কিছু আছে তাই নিয়ে রুখে দাড়াও।সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইত বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।


                           ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ২২ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

 হাসিনাঃ  পরদিন আবার আমাদের বাসা আক্রমণ করে। রাসেলকে নিয়ে মা ও জামাল পাশের বাসায় আশ্রয় নেন। কামাল আমাদের বাসার পেছনে জাপানি কনস্যুলেটের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।

কামাল মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায়। আমার মা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন। আমাদের ধানমণ্ডির ১৮ নম্বর সড়কে (পুরাতন) একটা একতলা বাসায় বন্দি করে রাখে। ছোট্ট রাসেলও বন্দি জীবনযাপন করতে শুরু করে। ঠিকমতো খাবার-দাবার নেই। কোনো খেলনা নেই, বইপত্র নেই, কী কষ্টের দিন যে ওর জন্য শুরু হলো।

বন্দিখানায় থাকতে আব্বার কোনও খবরই আমরা জানি না। কোথায় আছেন কেমন আছেন কিছুই জানি না। প্রথম দিনে রাসেল আব্বার জন্য খুব কান্নাকাটি করত। তার ওপর আদরের কামাল ভাইকে পাচ্ছে না, সেটাও ওর জন্য কষ্টকর। মনের কষ্ট কীভাবে চেপে রাখবে আর কীভাবেই বা ব্যক্ত করকে। চোখের কোণে সব সময় পানি। যদি জিজ্ঞাসা করতাম, 

                         ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।২৩।। দিন।। বাড়ি

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা  , রাসেল  

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় রাসেল চোখ মুচছে

হাসিনাঃ কি হয়েছে রাসেল?’ 

রাসেলঃ ‘চোখে ময়লা’। 

                                ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ২৪ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

হাসিনাঃ ওই ছোট্ট বয়সে সে চেষ্টা করত মনের কষ্ট লুকাতে। মাঝে মধ্যে রমার কাছে বলত। রমা ছোট থেকেই আমাদের বাসায় থাকতো, ওর সাথে খেলতো। পারিবারিকভাবে ওদের বংশ পরম্পরায় আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন কাজ করত। ওকে মাঝে মধ্যে দুঃখের কথা বলত। ওর চোখে পানি দেখলে যদি জিজ্ঞেস করতাম, বলত চোখে কী হয়েছে। অবাক লাগত এটুকু একটা শিশু কীভাবে নিজের কষ্ট লুকাতে শিখল।

আমরা বন্দিখানায় সব সময় দুঃশ্চিন্তায় থাকতাম, কারণ পাকবাহিনী মাঝে মধ্যেই ঘরে এসে সার্চ করত। আমাদের নানা কথা বলত।

                  ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।২৫।। দিন।।ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা  ,মা, রাসেল   

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় পাকিস্তানি সৈন্য এসে  ভিন্ন কথা জিজ্ঞেস করছে। 

পাকিস্তানি সৈন্যঃ  কান খুলকার শুনলিও শেখ মুজিব কো আওরাত । জয় বাাংলা বোলতা বাংলাদেশ মাংতা। ক্যা তুম লগ মালুম হোতা  বাচ্ জায়েগা ? নেহি।, সেপারেশন চাহিয়ে?   সবকুচ ভুল যাও।   চুতিয়া সামাজ দিহো বেয়াকুব সামাজ দিহো । ব্লাডি বাস্ট্যার্ড শালা বাংগাল আদমী।আওয়াজ বি নেহি।আন্ধার মে চুপচাপ রহগী।

                      ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ২৬ ।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

  হাসিনাঃ  রেহানাকে নিয়েও খুব চিন্তা করতো। জয় এরই মধ্যে জন্ম নেয়। জয় হওয়ার পর রাসেল যেন একটু আনন্দ পায়। সারাক্ষণ জয়ের কাছে থাকত। ওর খোঁজ নিতো।

যখন ডিসেম্বর মাসে যুদ্ধ শুরু হয় তখন তার জয়কে নিয়েই চিন্তা। এর কারণ হলো, আমাদের বাসার ছাদে বাংকার করে মেশিনগান বসানো ছিল, দিন-রাতই গোলাগুলি করত। প্রচণ্ড আওয়াজ হতো। জয়কে বিছানায় শোয়াতে কষ্ট হতো। এটুকু ছোট্ট বাচ্চা মাত্র চার মাস বয়স, মেশিনগানের গুলিতে কেঁপে কেঁপে উঠত।

এরপর শুরু হল এয়ার রেইড। আক্রমণের সময় সাইরেন বাজত। রাসেল এ ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিল। যখনই সাইরেন বাজত বা আকাশে মেঘের মতো আওয়াজ হত, রাসেল তুলা নিয়ে এসে জয়ের কানে গুঁজে দিত। সব সময় পকেটে তুলা রাখত।

সে সময় খাবারের কষ্টও ছিল, ওর পছন্দের কোনো খাবার দেওয়া সম্ভব হতো না। দিনের পর দিন বন্দি থাকা, কোনো খেলার সাথি নেই। পছন্দমতো খাবার পাচ্ছে না একটা ছোট বাচ্চার জন্য কত কষ্ট নিয়ে দিনের পর দিন কাটাতে হয়েছে তা কল্পনাও করা যায় না।

রাসেল অত্যন্ত মেধাবী ছিল। পাকসেনারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র পরিস্কার করত। ও জানালায় দাঁড়িয়ে সব দেখত। অনেক অস্ত্রের নামও শিখেছিল। যখন এয়ার রেইড হতো তখন পাকসেনারা বাংকারে ঢুকে যেত আর আমরা তখন বারান্দায় বের হওয়ার সুযোগ পেতাম। আকাশে যুদ্ধবিমানের ‘ডগ ফাইট’ দেখারও সুযোগ হয়েছিল। প্লেন দেখা গেলেই রাসেল খুশি হয়ে হাতে তালি দিত। 

ষোল ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে সারেন্ডার হয়, পাকিস্তান যুদ্ধে হেরে যায়, বাংলাদেশ মুক্ত হয়। আমরা সেদিন মুক্তি পাইনি। আমরা মুক্তি পাই ১৭ ডিসেম্বর সকালে। যে মুহূর্তে আমরা মুক্ত হলাম এবং বাসার সৈনিকদের ভারতীয় মিত্রবাহিনী বন্দি করল,

                   ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।২৭।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ পাকিস্তানি সৈন্য ও মিত্রবাহিনীর সৈন্য

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় পাকিস্তানি সৈন্যরা অস্ত্র নামিয়ে সারেন্ডার করছে মিত্রবাহিনীরা ধাক্কা দিয়ে বের করে নিয়ে যাচ্ছে।  

মিত্রবাহিনীঃ Pakistan has been separated. Don't move, surrender your arms from your own place.  hands up and get out. 

                  ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।। ২৮ ।। দিন।। ঘর 

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

হাসিনাঃ  আমাদের বাসায় দলে দলে মানুষ আসতে শুরু করল। এর মধ্যে রাসেল মাথায় একটা হেলমেট পরে নিল, সাথে টিটোও একটা পরল। দুইজন হেলমেট পরে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শুরু করল।

আমরা তখন একদিকে মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত আবার আব্বা, কামাল, জামালসহ অগণিত মানুষের জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কে বেঁচে আছে কে নেই কিছুই তো জানি না। এক অনিশ্চয়তার ভার বুকে নিয়ে বিজয়ের উল্লাস করছি। চোখে পানি, মুখে হাসি--এই ক্ষণগুলো ছিল অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে, কখও হাসছি কখনও কান্নাকাটি করছি। আমাদের কাঁদতে দেখলেই রাসেল মন খারাপ করত। ওর ছোট্ট বুকের ব্যথা আমরা কতটুকু অনুভব করতে পারি? এর মধ্যে কামাল ও জামাল রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসেছে। রাসেলের আনন্দ ভাইদের পেয়ে, কিন্তু তখন তার দু’চোখ ব্যথায় ভরা, মুখফুটে বেশি কথা বলত না। কিন্তু ওই দুটো চোখ যে সব সময় আব্বাকে খঁজে বেড়াচ্ছে তা আমি অনুভব করতে পারতাম।

আমরা যে বাসায় ছিলাম তার সামনে বাড়িভাড়া নেওয়া হলো। কারণ এত মানুষ আসছে যে বসারও জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে আমাদের ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাসা লুটপাট করে বাথরুম, দরজা-জানলা সব ভেঙে রেখে গেছে পাকসেনারা। মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকতে হবে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি আব্বা ফিরে এলেন বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়ে। আমার দাদা রাসেলকে নিয়ে এয়ারপোর্ট গেলেন আব্বাকে আনতে। লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল সেদিন, আব্বা প্রথম গেলেন তার প্রিয় মানুষের কাছে। তারপর এলেন বাড়িতে। আমরা সামনের বড় বাড়িটায় উঠলাম। ছোট যে বাসাটায় বন্দি ছিলাম সে বাসাটা দেশ-বিদেশ থেকে সব সময় সাংবাদিক ফটোগ্রাফার আসত আর ছবি নিত। মাত্র দুটো কামরা ছিল। আব্বার থাকার মতো জায়গা ছিল না এবং কোনও ফার্নিচারও ছিল না। যা হোক, সব কিছু তড়িঘড়ি করে জোগাড় করা হলো।

রাসেলের সব থেকে আনন্দের দিন এলো যেদিন আব্বা ফিরে এলেন। এক মুহূর্তে যেন আব্বাকে কাছছাড়া করতে চাইত না। সব সময় আব্বার পাশে পাশে ঘুরে বেড়াত। ওর জন্য ইতোমধ্যে অনেক খেলনাও আনা হয়েছে। ছোট সাইকেলও এসেছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই ও আব্বার কাছে চলে যেত।

ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ৩২ নম্বর সড়কে আমাদের বাসায় ফিরে এলাম। বাসাটা মেরামত করা হয়েছে। রাসেলের মুখে হাসি, সারা দিন খেলা নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝে গণভবনও মেরামত করা হয়েছে। পুরনো গণভবন বর্তমানে সুগন্ধাকে প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এবার গণভবন ও তার পাশেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করা হলো। গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসস্থান আর এর পাশেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, ভেতর থেকে রাস্তা ছিল, হেঁটেই কার্যালয়ে যাওয়া যেত।

আব্বা প্রতিদিন সকালে অফিসে আসতেন, দুপুরে গণভবনে বিশ্রাম নিতেন, এখানেই খাবার খেতেন। বিকেলে হাঁটতেন আর এখানেই অফিস করতেন। রাসেল প্রতিদিন বিকেলে গণভবনে আসত। তার সাইকেলটাও সাথে আসত। রাসেলের মাছ ধরার খুব শখ ছিল। কিন্তু মাছ ধরে আবার ছেড়ে দিতো। মাছ ধরবে আর ছাড়বে এটাই তার খেলা ছিল। একবার আমরা সবাই মিলে নাটোরে উত্তরা গণভবনে যাই। সেখানেও সারা দিন মাছ ধরতেই ব্যস্ত থাকতো।

রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে ভর্তি হয়। তবে স্কুলে যেতে মাঝে মধ্যেই আপত্তি জানাত। তখন আমরা ছোটবেলা থেকে যে শিক্ষকের কাছে পড়েছি তার কাছে পড়বে না। তখন ও স্কুলে ভর্তি হয় নি এটা স্বাধীনতার আগের ঘটনা, তার পছন্দ ছিল ওমর আলীকে। বগুড়ায় বাড়ি। দি পিপল পত্রিকার অ্যাডে কণ্ঠ দিয়েছিল, টেলিভিশনে ইংরেজি খবর পড়ত। মাঝে মধ্যে আমাদের বাসায় আসত, তখন রাসেলের জন্য অনেক ‘কমিক’ বই নিয়ে আসত এবং রাসেলকে পড়ে শোনাত।

যা হোক স্বাধীনতার পরে একজন ভদ্র মহিলাকে রাসেলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। রাসেলকে পড়ানো খুব সহজ কথা ছিল না। তা ছাড়া সব সময় তার লক্ষ্য থাকত শিক্ষিকার যেন কোনও অসুবিধা না হয়। মানুষকে আপ্যায়ন করতে খুই পছন্দ করত।

                ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।২৯।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শিক্ষিকা ও রাসেল  

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় শিক্ষিকা রাসেলকে পড়াচ্ছেন কিন্তু রাসেল শিক্ষিকাকে তার কথা শুনতে বলেছে। 

শিক্ষিকাঃ রাসেল পড়ছো না কেন?

রাসেলঃ  পড়বো কিন্তু এক শর্তে , প্রতিদিন তোমাকে দুটো করে মিষ্টি খেতে হবে। আর এ মিষ্টি না খেলে আমি পড়বে না। 

শিক্ষিকাঃ  দুুুটো মিষ্টি খেতে কষ্ট হবে না বুঝি?আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি যদি ঠিকমত লেখাপড়া করো তাহলে আমি প্রতিদিন দুটো করে মিষ্টি খাবো। এবার সুন্দর ভাবে পড়তে বসো।


                      ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।৩০।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনাদৃশ্য

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গেলে তার খেলাধুলার অনেক সাথী ছিল। গ্রামের ছোট ছোট অনেক বাচ্চাদের জড়ো করত। তাদের জন্য ডামি বন্দুক বানিয়ে দিয়েছিল। সে-ই বন্দুক বানিয়ে দিয়েছিল। সেই বন্দুক হাতে তাদের প্যারেড করাত। প্রত্যেকের জন্য খাবার কিনে দিত। রাসেলের খুদে বাহিনীর জন্য জামা-কাপড় ঢাকা থেকেই কিনে দিতে হতো। মা কাপড়-চোপড় কিনে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যেতেন।

                     ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।৩১।। দিন।। খোলা স্হান

চরিত্রঃ রাসেল ও কয়েকজন ছেলে

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় , দেখা যায় কয়েকজন ছোট ছেলেদের নিয়ে রাসেল লেফট রাইট  বলে পিটি করাচ্ছে। 

রাসেলঃ লেফট রাইট লেফট রাইট লেফট রাইট লেফট। (ছেলেগুলোর লেফট রাইট করবে লেফট রাইট শেষে) এই দেখো আমি তোমাদের জন্য ঢাকা থেকে কাপড় কিনে এনেছি এগুলো সবাই পড়বে টাকা আমাকে আমার নাসের চাচা দিয়েছেন এই টাকা দিয়ে সবাই চকলেট বিস্কুট কিনে খাবে ঠিক আছে।

সবাইঃ ঠিক আছে। (প্রথমে কাপড় দেবে তার পর এক টাকার বান্ডিল থেকে টাকা দেবে, সবাই আনন্দ করবে)

 

                          ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।৩২।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

 হাসিনাঃ রাসলেকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করতো, বড় হয়ে তুমি কি হবে? তাহলে বলতো, আমি আর্মি অফিসার হব। ওর খুব ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। মুক্তিযুদ্ধের চলাকালীন থেকেই ওর ওই ইচ্ছা। কামাল ও জামাল মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর সব গল্প বলার জন্য আবদার করতো। খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতো।

রাসেল আব্বাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতো। আব্বাকে মোটেই ছাড়তে চাইতো না। যেখানে যেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব আব্বা সেখানে তাকে নিয়ে যেতেন। মা ওর জন্য প্রিন্স স্যুট বানিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ আব্বা প্রিন্স স্যুট যেদিন পরতেন রাসেলও পরতো। কাপড়-চোপড়ের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তার নিজের পছন্দ ছিল। তবে একবার একটা পছন্দ হলে তা আর ছাড়তে চাইতো না।

ওর নিজের আলাদা একটা ব্যক্তিত্ব ছিল। নিজের পছন্দের ওপর খুব বিশ্বাস ছিল। খুব স্বাধীন মত নিয়ে চলতে চাইতো। ছোট মানুষটার চরিত্রের দৃঢ়তা দেখে অবাক হতে হতো। বড় হয়ে সে যে বিশেষ কেউ একটা হবে তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না। জাপান থেকে আব্বার রাষ্ট্রীয় সফরের দাওয়াত আসে। জাপানিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়। শরণার্থীদের সাহায্য করে জাপানের শিশুরা তাদের টিফিনের টাকা দেয় আমাদের দেশের শিশুদের জন্য।

সেই জাপান যখন আমন্ত্রণ জানায় তখন গোটা পরিবারকেই আমন্ত্রণ দেয় বিশেষভাবে রাসেলের কথা উল্লেখ করে। রাসেল ও রেহানা আব্বার সাথে জাপান যায়। রাসেলের জন্য বিশেষ কর্মসূচিও রাখে জাপান সরকার। খুব আনন্দ করেছিল রাসেল সেই সফরে।

তবে মাকে ছেড়ে কোথাও ওর থাকতে কষ্ট হয়। সারাদিন খুব ব্যস্ত থাকতো কিন্তু রাতে আব্বার কাছেই ঘুমাতো। আর তখন মাকে মনে পড়ত। মার কথা মনে পড়লেই মন খারাপ করতো। আব্বার সঙ্গে দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতো। আব্বা নেভির কর্মসূচিতে যান। সমুদ্রে জাহাজ কমিশন করতে গেলে সেখানে রাসেলকে সাথে নিয়ে যান। খুব আনন্দ করেছিল ছোট্ট রাসেল।

রাসেলের একবার খুব বড় অ্যাকসিডেন্ট হলো। সে দিনটার কথা এখনও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। রাসেলের একটা ছোট মপেট মোটরসাইকেল ছিল আর একটা সাইকেলও ছিল। বাসায় কখনও রাস্তায় সাইকেল নিয়ে চলে যেত। পাশের বাড়ির ছেলেরা ওর সঙ্গে সাইকেল চালাতো। আদিল ও ইমরান দুই ভাই এবং রাসেল একসঙ্গে খেলা করতো। একদিন মপেট চালানোর সময় রাসেল পড়ে যায় আর ওর পা আটকে যায় সাইকেলের পাইপে। বেশ কষ্ট করে পা বের করে। আমি বাসার উপর তলায় জয় ও পুতুলকে নিয়ে ঘরে। হঠাৎ রাসেলের কান্নার আওয়াজ পাই। ছুটে উত্তর- পশ্চিমের খোলা বারান্দায় চলে আসি, চিৎকার করে সবাইকে ডাকি। এর মধ্যে দেখি কে যেন ওকে কোলে নিয়ে আসছে। 

                   ।। ফ্লাশব্যাক।।

দৃশ্য।।৩৩।। দিন।। বাড়ি

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা  রাসেল, আম্বিয়া   

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় রাসেলকে কোলে করে নিয়ে আসছে আম্বিয়া। পা পুড়ে গেছে,  রাসেল চিৎকার করে কাঁদছে ।

হাসিনাঃ কি হয়েছে দেখি ? পায়ের অনেকখানি জায়গা পুড়ে গেছে। বেশ গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হযেছে। ডাক্তারকে খবর  দিচ্ছি। এসে ওষুধ দিল। ঠিক হয়ে যাবে। আমার সোনা ভাই কাঁদেনা।

                   ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।৩৪।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

 হাসিনাঃ অনেকদিন পর্যন্ত পায়ের ঘা নিয়ে কষ্ট পেয়েছিল।এর মধ্যে আব্বা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাশিয়া যান চিকিৎসা করাতে। সেখানে রাসেলের পায়ে চিকিৎসা হয়। কিন্তু সারতে অনেক সময় নেয়। আমাদের সবার আদরের ছোট ভাইটি। ওর ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। খুবই সাবধানী ছিল। আর এখন এতো কষ্ট পাচ্ছে। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে কামাল ও জামালের বিয়ে হয়। হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা অনেক মজা করি। বাইরে চাকচিক্য বেশি ছিল না কিন্তু ভেতরে আমরা আত্মীয়-স্বজন মিলে অনেক আনন্দ করি। বিশেষ করে হলুদের দিন সবাই খুব রং খেলে। রাসেল ওর সমবয়সীদের সাথে রং খেলে। বিয়ের সময় দুই ভাইয়ের পাশে পাশেই থাকে। দুই ভাইয়ের বিয়ে কাছাকাছি সময়ই হয়। কামালের ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই, আর জামালের ১৭ জুলাই বিয়ে হয়। রাসেল সব সময় ভাবিদের পাশে ঘুর ঘুর করতো, আর কী লাগবে খুব খেয়াল রাখতো।

৩০ জুলাই আমি জার্মানিতে স্বামীর কর্মস্থলে যাই। রাসেলের খুব মন খারাপ ছিল। কারণ সে জয়ের সাথে এক সঙ্গে খেলতো। সব থেকে মজা করতো যখন রাসেল জয়ের কাছ থেকে কোনও খেলনা নিতে চাইতো তখন জয়কে চকলেট দিত। আর চকলেট পেয়ে জয় হাতের খেলনা দিয়ে দিত, বিশেষ করে গাড়ি। রাসেল গাড়ি নিয়ে খেলতো, জয়ের যেই চকলেট শেষ হয়ে যেত তখন বলত চকলেট শেষ, গাড়ি ফেরত দাও। তখন আবার রাসেল বলতো চকলেট ফেরত দাও, গাড়ি ফেরত দেব। এই নিয়ে মাঝে মধ্যে দু`জনের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেত, কান্নাকাটি শুরু হতো। মা সবসময় আবার জয়ের পক্ষ নিতেন।

রাসেল খুব মজা পেত। পুতুলের খেলার জন্য একটা ছোট্ট খেলনা পুতুল ও প্রাম ছিল, ওই প্রাম থেকে খেলার পুতুল সরিয়ে পুতুলকে বসিয়ে ঠেলে নিয়ে বেড়াত। পুতুল এত ছোট ছিল যে, খেলার প্রামে ভালোই বসে থাকতো। রাসেল খুব মজা করে জয়-পুতুলকে নিয়ে খেলত। আমি জার্মানি যাওয়ার সময় রেহানাকে আমার সাথে নিয়ে যাই। রাসেলকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওর জন্ডিস হয়, শরীর খারাপ হয়ে পড়ে। সে কারণে মা ওকে আর আমাদের সাথে যেতে দেননি। রাসেলেকে সেদিন আমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারতাম তা হলে ওকে আর হারাতে হতো না। (কাঁদবেন এবং বলবেন)

১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিল ছোট্ট রাসেলকে। মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা সবার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল রাসেলকে। 

                           ।। ফ্লাশব্যাক।। 

দৃশ্য।।৩৫।। রাত ।। বাড়ি

চরিত্রঃ বঙ্গবন্ধুু, রাসেল, আর্মি   

শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় প্রচন্ড গুলি চলছে। বঙ্গবন্ধু এগিয়ে এসে জানতে চাইবেন তারা কি চায়, উত্তর না দিয়ে গুলি চালাবে, লুটিয়ে পড়বেন বঙ্গবন্ধু। রাসেল মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদতে থাকবে। একজন বলবে চলো তোমাকে তোমাকে তোমার মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসি। নিয়ে যাবে এবং কয়েকটি গুলির শব্দ হবে।

বঙ্গবন্ধুঃ  কি চাস  তোরা? (কোন উত্তর না দিয়ে গুলি চালাবে বঙ্গবন্ধু লুটিয়ে পড়বেন।)                           

রাসেলঃ (এরপর একজন আর্মি  রাসেলকে ধরে নিয়ে আসবে) আমি  মায়ের কাছে যাবো আমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে চলো। 

 আর্মিঃ  চলো তোমার মায়ের কাছে  পৌঁছে দিয়ে আসি(কতগুলি শব্দ হবে)


                         ।। ফ্লাশ ইন।।

দৃশ্য।।৩৬।। দিন।। ঘর

চরিত্রঃ শেখ হাসিনা

মঞ্চে একটি স্পট জোনের ভিতর শেখ হাসিনা

হাসিনাঃ ওই ছোট্ট বুকটা কি তখন ব্যথায় কষ্টে বেদনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাদের সান্নিধ্যে স্নেহ-আদরে হেসে খেলে বড় হয়েছে তাদের নিথর দেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে ওর মনের কী অবস্থা হয়েছিল- কী কষ্টই না ও পেয়েছিল!! (শেখ হাসিনা কাঁদবেন)

কেন কেন কেন আমার রাসেলকে এত কষ্ট দিয়ে কেড়ে নিল? আমি কি কোনোদিন এই "কেন"র উত্তর পাব? (অঝোরে কাঁদবেন)

লেখক: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। নাট্যরূপ আবুল হাসান তুহিন

প্রেরকঃ আবুল হাসান তুহিন

এ্যাড প্রিন্টাস ,২৬২-ঘোপ নওয়াপাড়া রোড,২৫০-শয্যা হাসপাতালের পশ্চিম পাশে, যশোর-৭৪০০

মোবাইল-০১৯১১৮০১৪৬১

০১৮৪৫৪৬৭৯৭৯, abulhasantuhen@gmail.com

All News Report

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

টাকা আত্মসাৎ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান রুমি

টাকা আত্মসাৎ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান রুমি

সিলেটে মোটরসাইকেলে বোমাসদৃশ বস্তু: বহিস্কৃত সেই সার্জেন্টের বাড়ি রাজনগরের মুন্সিবাজারে!

সিলেটে মোটরসাইকেলে বোমাসদৃশ বস্তু: বহিস্কৃত সেই সার্জেন্টের বাড়ি রাজনগরের মুন্সিবাজারে!

যতো দুর্নীতির   অভিযোগ এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে

যতো দুর্নীতির অভিযোগ এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে

স্মার্টফোন ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে ইউজিসির নির্দেশনা প্রদান

স্মার্টফোন ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে ইউজিসির নির্দেশনা প্রদান

চট্রগ্রামে কিশোরীকে জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানোর অভিযোগ বিউটি পার্লারের মালিকসহ গ্রেফতার ৫ জন!

চট্রগ্রামে কিশোরীকে জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানোর অভিযোগ বিউটি পার্লারের মালিকসহ গ্রেফতার ৫ জন!

জানা গেলো  ওসি প্রদিপের ফোনালাপের সেই পরামর্শদাতার পরিচয়

জানা গেলো ওসি প্রদিপের ফোনালাপের সেই পরামর্শদাতার পরিচয়

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালো ঢাবির ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালো ঢাবির ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ

করোনা চিকিৎসায় 'বিস্ময়কর সফল’ আইভারমেকটিন, বাংলাদেশে শতভাগ

করোনা চিকিৎসায় 'বিস্ময়কর সফল’ আইভারমেকটিন, বাংলাদেশে শতভাগ

অভিযুক্তদের বদলি কোন শাস্তি নয়, এখন থেকে শুরু বরখাস্তঃ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

অভিযুক্তদের বদলি কোন শাস্তি নয়, এখন থেকে শুরু বরখাস্তঃ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আদালতে মামলা চলাকালে জোর করে জমি  ও রাস্তা দখলের চেষ্টার অভিযোগ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আদালতে মামলা চলাকালে জোর করে জমি ও রাস্তা দখলের চেষ্টার অভিযোগ

ওসির হাতে থাপ্পড় খেলো দারগা,অনলাইন এ ভিডিও ভাইরাল

ওসির হাতে থাপ্পড় খেলো দারগা,অনলাইন এ ভিডিও ভাইরাল

নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান

নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান

চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে প্রদীপের ৩৫ জনের প্রাইভেট টিম

চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে প্রদীপের ৩৫ জনের প্রাইভেট টিম

মেজর সিনহার সহযোগী শিপ্রার জামিন

মেজর সিনহার সহযোগী শিপ্রার জামিন

বাঞ্ছারামপুরে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী খুন

বাঞ্ছারামপুরে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী খুন

সর্বশেষ

সৈয়দপুরে রানিং ইউপি মেম্বার পাচ্ছেন বয়স্কভাতা

সৈয়দপুরে রানিং ইউপি মেম্বার পাচ্ছেন বয়স্কভাতা

আরও ২ মন্ত্রীর পদত্যাগ, ভাঙনের ঝুঁকিতে লেবাননের সরকার

আরও ২ মন্ত্রীর পদত্যাগ, ভাঙনের ঝুঁকিতে লেবাননের সরকার

ভয়াবহ বোমায় কেঁপে উঠল পাকিস্তা, নিহত ৬

ভয়াবহ বোমায় কেঁপে উঠল পাকিস্তা, নিহত ৬

হোমনায় “কাশিপুর তরুণ প্রজন্মে’র” পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

হোমনায় “কাশিপুর তরুণ প্রজন্মে’র” পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

টাকা দিয়ে নকল ভক্ত বানাচ্ছেন বলিউড তারকারা

টাকা দিয়ে নকল ভক্ত বানাচ্ছেন বলিউড তারকারা

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্য রহস্যভেদে মাঠে নেমেছে সিবিআই

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্য রহস্যভেদে মাঠে নেমেছে সিবিআই

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরশায়িত হলেন আলাউদ্দিন আলী

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরশায়িত হলেন আলাউদ্দিন আলী

চিরনিদ্রায় শায়িত আলাউদ্দিন আলী

চিরনিদ্রায় শায়িত আলাউদ্দিন আলী

সীমিত আকারে খেলাধুলা শুরুর ঘোষণা দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সীমিত আকারে খেলাধুলা শুরুর ঘোষণা দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রিফাত হত্যাঃ মিন্নিসহ ১০ আসামি ৫ মাস পর আদালতে

রিফাত হত্যাঃ মিন্নিসহ ১০ আসামি ৫ মাস পর আদালতে

সাতক্ষীরার তালায় ট্রাকের নিচে পড়ে দুইজন নিহত

সাতক্ষীরার তালায় ট্রাকের নিচে পড়ে দুইজন নিহত

সরকারি সুবিধা জনগনের দোড়গোড়ায় নিয়ে যেতে সরকারি কর্মকর্তাদের আহবান জানালেন এ্যাড.স্মৃতি এমপি

সরকারি সুবিধা জনগনের দোড়গোড়ায় নিয়ে যেতে সরকারি কর্মকর্তাদের আহবান জানালেন এ্যাড.স্মৃতি এমপি

রামগতির মেঘনা নদীতে অজ্ঞাত লাশ

রামগতির মেঘনা নদীতে অজ্ঞাত লাশ

গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা