আব্দুস সামাদ আফিন্দী, বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ব্যতিক্রমী এক ঘোষণার মাধ্যমে উপজেলাবাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। জনকল্যাণ ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনের অনন্য নজির স্থাপন করে তিনি জানান, সদর উপজেলার যেকোনো রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে তিনি সরাসরি এলাকাবাসীর মতামত গ্রহণ করতে আগ্রহী এবং এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার এই ঘোষণা ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এলাকার মানুষ ফেসবুকে নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরছেন। ইউএনও’র এমন উন্মুক্ত ও দায়বদ্ধ মনোভাবকে অনেকেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
একজন এলাকাবাসী জামিল আহমদ মন্তব্যে লেখেন, “আসসালামু আলাইকুম ইউএনও স্যার। আপনার এই ব্যতিক্রমী চিন্তা আমাদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ইনশা আল্লাহ, আপনার নেতৃত্বে সদর উপজেলা মডেল উপজেলায় রূপ নেবে।”
আরেকজন ফয়সাল মন্তব্য করেন, “আপনার এই মনমানসিকতা সত্যিই সুনামগঞ্জকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আশাবাদী—আপনার নেতৃত্বে প্রশাসন আরও জনবান্ধব হবে।”
তবে কেবল প্রশংসাই নয়—এই উন্মুক্ত আহ্বানের ফলে দীর্ঘদিনের বহু সমস্যাও সামনে এসেছে। জানা গেছে, সদর উপজেলার অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনো রয়েছে কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তা, যা বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নেই পর্যাপ্ত সেতু বা কালভার্ট, দুর্বল হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্যদিকে, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে, অভাব রয়েছে শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ ও নিরাপত্তাবলয়ের।
৩৫তম বিসিএসের এই প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ঘিরে জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আশাবাদ। সচেতন নাগরিকদের ভাষ্যে—“ইউএনও সুলতানা জেরিনের সদিচ্ছা ও কর্মপরিকল্পনা জনগণের মধ্যে এক নতুন আস্থার সৃষ্টি করেছে। আমরা চাই, তার নেতৃত্বে দ্রুত সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান শুরু হোক।”
সদর উপজেলার মানুষ এখন উন্নয়ন আর পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত দেখছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইউএনও সুলতানা জেরিনের উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা অচিরেই পরিণত হবে একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং মডেল উপজেলায়।