গত ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবর্ধনা সভা, মতবিনিময় ও কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল নবনিযুক্ত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তানহা শান্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া এবং একইসঙ্গে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার কৌশল নির্ধারণ করা। জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. মাহবুব-উল আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোঃ সজীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। মূলত দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ময়মনসিংহ বিভাগে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছে। মিয়াজ মেহরাব তালুকদার তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, কেবল সভা-সমাবেশ নয়, বরং জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছানোই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভাষ্যমতে, সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য নিয়মিত মতবিনিময় এবং প্রতিটি উপজেলায় সরাসরি তদারকি প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এনসিপি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী দিনে এনসিপির রাজনীতি হবে জনসম্পৃক্ত এবং উন্নয়নমুখী। অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. মাহবুব-উল আলম জানান, বিভাগীয় পর্যায়ের নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হলো প্রতিটি উপজেলায় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করা। প্রশাসনের বা স্থানীয় রাজনীতির যে স্থবিরতা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে, তা নিরসনে এনসিপি একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনগুলোতে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে এবং দলীয় ইশতেহার অনুযায়ী সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়াকে রাজনীতির মূল এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পরিশেষে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে এনসিপি ময়মনসিংহে তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও সুসংহত করার বার্তা দিয়েছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে স্বচ্ছ ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির যে প্রত্যয় এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে, তা কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যদি এই নতুন ধারার রাজনীতি কেবল ঘোষণাপত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হতে পারে, তবে তা ময়মনসিংহের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে সক্ষম হবে। তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সমন্বয় আগামী দিনের নির্বাচনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।