যশোরে নদী থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার | আই নিউজ বিডি

যশোরে নদী থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

রাসেল মাহমুদ avatar   
রাসেল মাহমুদ
যশোরে নদী থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
যশোরে নদী থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
****

যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছেন জেলেরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে মনিরামপুর-কুলটিয়া সড়কের হেলারঘাট এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় জেলেরা নদীর পাটায় আটকে থাকা একটি বস্তা দেখতে পান। পরে তারা সেটি পাড়ে তুলে বস্তার ভেতরে লাশ দেখতে পায়।

মৃত ব্যক্তির নাম রঞ্জন মণ্ডল (৬৫)। তিনি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের মৃত হরিপদ মণ্ডলের ছেলে। মনিরামপুরের পাড়িয়ালি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি।

খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের গলায় দাগ রয়েছে। এ দেখে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন, শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় নদীতে ফেলা হয়েছে।

যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেখান থেকে রঞ্জন মণ্ডলের বাড়ি অন্তত ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে। আর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব অন্তত ৫ কিলোমিটার।

স্বজনদের দাবি, গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও সোনার আংটি ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা রঞ্জন মণ্ডলকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে।

নিহতের শ্যালক নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘আমার বোন দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। রঞ্জন ঘুনি ও চারো (মাছ ধরার সরঞ্জাম) বুনে তা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তাদের একমাত্র ছেলে ভারতে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার ভগ্নিপতির এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল। তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে সেজেগুজে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে ওষুধ কিনতে স্থানীয় কাটাখালী বাজারে যান। এরপর আর বাড়ি না ফেরায় রাত ১০টার দিকে স্বজনেরা তার খোঁজ শুরু করেন। রাতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ শনিবার সকালে হেলারঘাটে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, লাশটি আমার ভগ্নিপতি রঞ্জনের।’

নারায়ণ আরও বলেন, ‘ভগ্নিপতির এলাকায় কোনো শত্রু ছিল না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় রঞ্জনের গলায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং দুই হাতে সোনা ও রুপার দুটি আংটি ছিল।

লাশ উদ্ধারের সময় তার হাতে রুপার আংটি পাওয়া গেলেও সোনার চেইন ও সোনার আংটি পাওয়া যায়নি। আমরা ধারণা করছি, স্বর্ণের চেইন ও আংটি ছিনিয়ে নিতে ছিনতাইকারীরা রঞ্জনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে ফেলে গেছে।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের দেহে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। স্বর্ণের চেইন ও আংটির বিষয়টি স্বজনেরা বলছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator