সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণের উদ্যোগ, বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপে… | আই নিউজ বিডি

সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণের উদ্যোগ, বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপে বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা—অর্থনৈতিক ভারসাম্য কোথায়?..

(এস.এম আল আমিন হোসেন) স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা  avatar   
(এস.এম আল আমিন হোসেন) স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা
সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণের উদ্যোগ, বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপে বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা—অর্থনৈতিক ভারসাম্য কোথায়?..
সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণের উদ্যোগ, বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপে বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা—অর্থনৈতিক ভারসাম্য কোথায়?..
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণের উদ্যোগ, বাড়তি মূল্যস্ফীতির চাপে বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা—অর্থনৈতিক ভারসাম্য কোথায়?..

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ, অথচ বেসরকারি খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা—অর্থনীতির ভারসাম্য কোথায়?

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএম আলামিন হোসেন

 

সরকারি কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মানুষের অবস্থার কথা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে?

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতে কর্মরত অনেক চাকরিজীবীর বেতন দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থায় রয়েছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি খাতে ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও বেসরকারি খাতের কর্মীদের আয় বৃদ্ধির বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

 

ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, ক্রেতার অভাবে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

 

শুধু চাকরিজীবীরাই নন, দেশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরাও কঠিন সময় পার করছেন। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলে বসে থেকেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না।

 

একদিকে দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়িক আয় কমে যাওয়ায় টিকে থাকাই অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

শিল্পকারখানায় উৎপাদন ও নতুন অর্ডার নিয়ে উদ্বেগ

 

দেশের উৎপাদনমুখী শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতেও উদ্বেগ রয়েছে। অনেক উদ্যোক্তার অভিযোগ, নতুন অর্ডার প্রত্যাশা অনুযায়ী আসছে না। উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, শ্রমিকদের মজুরি এবং অন্যান্য খরচ সামাল দিতে গিয়ে উদ্যোক্তারা চাপে রয়েছেন।

 

নতুন অর্ডার না থাকলে উৎপাদন কমে যায়, উৎপাদন কমলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও আয়ের ওপর প্রভাব পড়ে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

তাহলে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে শুধু একটি শ্রেণির কথা বিবেচনা করলেই কি চলবে?

 

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যেমন প্রয়োজন, তেমনি বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয়, ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ, শিল্পকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

একটি দেশের অর্থনীতি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক এবং সাধারণ ভোক্তার জীবন ও জীবিকা।

 

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে তার সঙ্গে বাজারের সম্ভাব্য প্রভাব, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য খাতের আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। কারণ, একদিকে যদি মানুষের ব্যয় বাড়তে থাকে, অন্যদিকে আয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, তাহলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠবে।

 

আমাদের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করা হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন মানে শুধু একটি শ্রেণির বেতন বৃদ্ধি নয়। উন্নয়ন মানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।

 

শেষ প্রশ্ন একটাই—দেশের অর্থনীতিতে যখন বহু খাত নানা সংকটের মুখোমুখি, তখন সবার জন্য সমান অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনা কোথায়?

 

লেখক: এসএম আলামিন হোসেন

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator