চিরিরবন্দরে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা। আটক-৩। | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চিরিরবন্দরে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা। আটক-৩।

এনামুল মবিন (সবুজ) avatar   
এনামুল মবিন (সবুজ)
চিরিরবন্দরে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা। আটক-৩।
চিরিরবন্দরে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা। আটক-৩।
ছবি: সংগৃহীত
চিরিরবন্দরে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামী শাকিল হোসেন(২৬), শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন (৫৫) ও শ্বাশুরী রহমত আরা তারাবিবি (৪৫)কে আটক করে ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২ টায়..

এ ঘটনায় রবিবার রাত ১২ টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রথমে মৃত গৃহবধুর স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুরীকে হেফাজতে নিয়েছিল। 

এ ঘটনায় ওই মৃত গৃহবধুর পিতা খাইরুল ইসলাম ১৯ অক্টোবর সোমবার দুপুর ১২ টায় বাদি হয়ে চিরিরবন্দর থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি রুজু করেন।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আব্দুল হালিম, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, জেলা সিআইডির পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, সিআইডির ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মোস্তফাপুর বালুপাড়ার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে শাকিল হোসেনের (২৬) সাথে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ি এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা বেগমের (২০) সাথে গত সাড়ে ৩ বছর পুর্বে প্রেমের সুত্র ধরে বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক ছেলে সাফায়াত হোসেন (২) ও এক মেয়ে রাইফা জুরাইনা (১) নামে দুটি শিশু সন্তানের মরদেহ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল ও স্ত্রীর মরদেহ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো ছিল।  
স্বামী মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা, মাদক সেবন করা নিয়ে মাঝে মধ্যে স্বামী স্ত্রীর বাকবিতন্ডাসহ টুকটাক ঝগড়া বিবাদ থাকত। সংসারের অভাব অনটনের কারনে স্বামী শাকিল অটো চালাত। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরত। 

মৃত গৃহবধুর শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন জানায়, অন্যের বাড়িতে মজুরের কাজ শেষে সন্ধার পরপরই বাড়িতে ফিরে ভাত খাওয়ার সময় ছেলের বউ, নাতী নাতনী কারো কোন সাঁড়া না পাওয়ায় অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় বাড়ির মধ্য বরাবর টিনের বেড়া ভেঙ্গে ছেলের ঘরের দরজা খুলে বউমার মরদেহ নামিয়ে আনি। চিৎকার চেঁচামেচিতে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে ও আমার স্ত্রী নাতী নাতনী দুটোকে কোলে নিয়ে কান্না শুরু করে। 

ওই মৃত গৃহবধুর মা আনজু আরা বলেন, তার জামাই শাকিল তাদের ফোনে জানায়, তাদের মেয়ে সন্তানগুলোকে মেরে নিজে আত্মহত্যা করেছে। সংবাদ পেয়ে দ্রুত জামাইয়ের বাড়িতে আসি। তবে ৩ মাস পুর্বে মেয়ে জানিয়েছিল, জামাই নেশা করে। 

মৃত গৃহবধুর আপন বড় ভাই ও ঘাতক শাকিলের আপন ভগ্নিপতি শাহানুর সজীব বলেন, আমি বিয়ের পর হতে ৬ বছর এই বাড়িতে পাশাপাশি লাগোয়া ঘরে থাকতাম। বর্তমানে ঢাকায় থাকলেও ছুটিতে এসে গত ১৭ অক্টোবর শনিবার এই বাড়িতেই ছিলাম। বোন আত্মহত্যা করেছে নাকি স্বামী মেরে ফেলেছে, ঘটনাটি বুঝতে পারছিনা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আমিন শাহ বলেন, তাদের পারিবারিক কলহ ছিলনা। কেউ কোনদিন অভিযোগ দেয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, বোঝা যাচ্ছেনা। প্রশাসন এসেছে, তারা তদন্ত করছে। ঘরের দেয়ালে কিছু লেখা ছিল, লেখাগুলি কে লিখেছে, জানা যাচ্ছে না। তবে লেখা ছিল আজ থেকে এ গল্প শেষ। আমি অভাগি মা। আমার সন্তানদের নিজে মারছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোয়, বাবা মা সরি। আই লাভ ইউ চিহ্ন ছিল। 

ঘটনাস্থলেই পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা পিপিএম বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা মোটিভ উদ্ধার করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ শুরু করেছে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি, সুরতহাল করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধুর স্বামী শাকিল হোসেন , শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন ও শ্বাশুরী রহমত আলা তারাবিবিকে হেফাজতে নিয়েছি। মরদেহগুলোর ময়না তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যাবে। 

থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী বলেন, এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। ঘটনার রাতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামী শাকিল নিজেই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator