গোপালগঞ্জের দুই তরুণকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মোশারফ শেখসহ চারজনের একটি চক্র ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধাপে টাকা গ্রহণ করার পর বর্তমানে নিখোঁজ দুই তরুণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। শামীমা বেগমের ছেলে সজিবুল আলমকে ইতালিতে পাঠানোর চুক্তিতে মোশারফ শেখকে বিভিন্ন সময়ে ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং একই প্রক্রিয়ায় ভাঙ্গা উপজেলার লিকু মাতব্বরের ছেলে আবু তাহের মাতব্বরের পরিবারের কাছ থেকেও ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সজিবুল বিগত পাঁচ মাস এবং আবু তাহের আট মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ঘটনার নেপথ্যে মোশারফ শেখ ছাড়াও বিলায়েত শেখ, লেবু শেখ ও শামীম শেখের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিদেশে পাঠানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ ছিল। টাকা লেনদেনের সময় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, ছবি তোলা এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের মতো বিষয়গুলো সম্পন্ন করা হলেও তা ছিল কেবল বিশ্বাস অর্জনের কৌশল মাত্র। শামীমা বেগম ও লিকু মাতব্বরের ভাষ্যমতে, তারা তাদের স্বজনদের জীবন সংশয়ের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা টাকা লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ ও দলিলাদি প্রমাণ করে যে, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আদায় করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় ভুক্তভোগীরা তাদের নিখোঁজ স্বজনদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাচ্ছেন না। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো এখন আইনি প্রতিকারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোশারফ শেখের বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য পাওয়ার কোনো সুযোগ মেলেনি, কারণ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। বিদেশ যাওয়ার নামে এমন প্রতারণা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং মানবিক বিপর্যয়েরও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের চক্র কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যথাযথ নজরদারি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
পরিশেষে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নিখোঁজ দুই তরুণের জীবন এখন চরম হুমকির মুখে, যেখানে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সময়ের দাবি। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী বলা না গেলেও, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই প্রতারণা চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা না গেলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের আশায় বিদেশ গমনেচ্ছু তরুণরা আরও বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হবে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।